 |
| ছবি: জীবন আমীর/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালত (ঢাকা) থেকে: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৮ দলীয় জোটের ৩৩ নেতাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে গাড়ি পোড়ানোর মামলায় মহানগর হাকিম মো. এরফান উল্লাহ বুধবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে এ আদেশ দেন।
বেলা তিনটার দিকে ৩৩ নেতার সবাইকে প্রিজন ভ্যানে তুলে জেলহাজতের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া যায়।
এদিন সকালেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৮ দলীয় জোটের ৩৩ নেতা আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। এসময় মির্জা ফখরুল ইসলামকে বহনকারী প্রিজন ভ্যানের সামনে শুয়ে, বসে প্রতিবাদ জানান বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা।
৩৩ নেতাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ার পর এজলাশ থেকে বেরিয়ে এসে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা পুলিশের সঙ্গে মারামারি, সংঘর্ষে লিপ্ত হন। এসময় পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। আর বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। এক পর্যায়ে বিএনপি নেতাদের পাশাপাশি সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের ওপরও চড়াও হয় পুলিশ। পুলিশ এ সময় নির্বিচারে আইনজীবী ও সাংবাদিক সবাইকে বেধড়ক লাঠিপেটা করতে থাকে।
পুলিশের লাঠিচার্জে বিএনপিপন্থি সিনিয়র আইনজীবী হোসেন আলী খান হাসান জখম হয়েছেন। তাকে ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরে বিএনপিপন্থি সানাউল্লাহ মিয়াসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী হাকিম এরফান উল্লাহর কাছে গিয়ে নেতাদের জামিন দেওয়ার ব্যাপারটি পুনর্বিবেচনা করার আবেদন করেন। হাকিম তাদের এ আবেদনও নাকচ করে দেন।
কারাগারে পাঠানো ৩৩ নেতা:
কারাগারে পাঠানো ১৮ দলীয় নেতারা হচ্ছেন: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, স্থায়ী কমিটির সদস্য বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব) আ স ম হান্নান শাহ, ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব) অলি আহমেদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খোন্দকার মোশারফ হোসেন, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, স্বনির্ভরতা বিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম ফজলুল হক মিলন, আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সাংসদ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমীরুল ইসলাম খান আলীম, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিছুর রহমান খোকন, ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার, ঢাকা মহানগর যুবদলের সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম মজনু, বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, ঢাকা মহানগর উত্তরের স্বেচ্ছাসেবক দল আহ্বায়ক ইয়াছিন আলী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম নীরব, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তির চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক আঃ মতিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিব, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক কামাল আনোয়ার আহমেদ লিটু, বিএনপি নেতা ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার আবুল বাশার, বিএনপি নেতা ও ৪০ নং ওয়ার্ড কমিশনার আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানা বিএনপি নেতা লুৎফর রহমান ওরফে এল রহমান, বিএনপির সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক নবী সোলায়মান, খিলগাঁও থানা বিএনপির সভাপতি সাবেক কমিশনার ইউনুছ মৃধা।
আদালতে ৩৪ জনের হাজির হওয়ার কথা থাকলেও নাসির নামের একজনকে অন্য একটি মামলায় মঙ্গলবার গ্রেফতার করে পুলিশ। ফলে জামিনের জন্য তার পক্ষে আদালতে হাজির হওয়া সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ সময়: ১৪১৯ ঘণ্টা, মে ১৬, ২০১২
এমআই/এমএম/সম্পাদনা: রানা রায়হান ও জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর;
জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর
Jewel_mazhar@yahoo.com