ফরিদপুর: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চেয়ারম্যান সুধীন সরকার মঙ্গলকে লাঞ্ছিত করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফাইজুর রহমান ও তার লোকেরা। অভিযোগ উঠেছে, একটি হাটের ইজারার কাগজে সই না করায় লাঞ্ছিত করা হয়ে চেয়ারম্যানকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলা কমপ্লেক্সে উপজেলা চেয়ারম্যান সুধীন সরকারের কক্ষে যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফাইজুর রহমান ও তার অনুসারীরা।
ফাইজুর রহমান ও তার সমর্থকরা চেয়ারম্যানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। চেয়্যারম্যানকে লক্ষ্য করে একটি ফাইলও ছুড়ে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, ভাঙ্গার স্থানীয় মালিগ্রাম হাটের ইজারার কাগজপত্রে স্বাক্ষর না করায় উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে এ দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। প্রায় কোটি টাকা দরের এই হাটটি কয়েক বছর ধরে সমঝোতা করে আওয়ামী লীগ নেতারা সুবিধা ভোগ করে আসছিলেন।
এ বছর ৯০ লক্ষ টাকায় হাটটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই হাটের ইজারা দর দেড় কোটি টাকা হবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
কম দরে হাটটি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের পছন্দের ঠিকাদারদের ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদ জানানোর কারণে চেয়ারম্যানের সঙ্গে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান সুধীন সরকার মঙ্গল বলেন, “সরকারের সম্পত্তি নিয়ে টালবাহানা চলছে। সরকার যাতে প্রাপ্য রাজস্ব থেকে বঞ্ছিত না হয় সে জন্য আমি জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি।”
লাঞ্ছিত হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যা হয়েছে তা শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার চেয়েও বেশি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ফাইজুর রহমান বলেন, “মূল্যায়ন কমিটি ফাইলটি তার (উপজেলা চেয়ারম্যান) টেবিলে পাঠিয়েছে। এ ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য সেখানে গিয়েছিলাম। তাকে আমি বা আমার লোকেরা কিছুই বলেনি।”
এর আগে গত শুক্রবার ফরিদপুরের দুই আওয়ামীলীগ নেতা মোকাররম ও মিরাজ তাদের পছন্দের লোককে ফরিদপুর মহাবিদ্যালয়ে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ না দেওয়ায় বর্তমান অধ্যক্ষ আ. হালিমকে মারধোর করেন।
বাংলাদেশ সময়: ২০৪৯ ঘণ্টা, মার্চ ০৫, ২০১৩
সম্পাদনা: শরিফুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর-eic@banglanews24.com