 |
| ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
বইমেলা থেকে: ফাল্গুনের প্রথম সপ্তাহে নেমে এলো বৃষ্টি। বৃষ্টিস্নাত বইমেলা। অন্য দিনের মতো রোববার মেলায় ভিড় নেই। অল্পকিছু লেখক-পাঠক-প্রকাশক মেলায় এসেছেন। কেউ বাংলা একাডেমীর প্রেসের সামনে, কেউ ক্যান্টিনের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউবা বসন্তের বৃষ্টিতে ভিজছেন। বৃষ্টির শব্দ ভেঙে গণজাগরণ চত্বরের স্লোগান ভেসে আসছে বাংলা একাডেমীর বইমেলায়। বৃষ্টির তীব্রতার সঙ্গে বাড়ছে বজ্রকণ্ঠে স্লোগান। সে স্লোগানে যেনো কেঁপে উঠছে মেলা প্রাঙ্গণও!
রোববারের মেলায় নতুন বই এসেছে ৫৯টি। এর মধ্যে গল্প-৭টি, উপন্যাস-১২টি, প্রবন্ধ-৪টি, কবিতা-১৯টি, গবেষণা-১টি, ছড়া-২টি, শিশুতোষ-২টি, জীবনী-১টি, মুক্তিযুদ্ধ-১, বিজ্ঞান-২টি, ভ্রমণ-১টি, রাজনীতি-২,, সায়েন্স ফিকশন-১টি এবং অন্যান্য-৪টি বই এসেছে। মেলায় ৭টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হয়েছে।
বিকেলে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘আলাউদ্দিন আল আজাদের কবিতা : ব্যাপ্তি ও দীপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন নাট্যব্যক্তিত্ব এস. এম. মহসীন, কবি হাসান হাফিজ, এবং অধ্যাপক তারেক রেজা। সভাপতিত্ব করেন কবি বেলাল চৌধুরী।
প্রাবন্ধিক বলেন, “আলাউদ্দিন আল আজাদের কবিতার জগৎ বহুধা-ব্যাপ্ত। তিনি একই সঙ্গে অঙ্গীকারশীল ও নিরীক্ষাপ্রবণ কবি। তাঁর কবিতায় ব্যক্তিকচৈতন্যের সঙ্গে অঙ্গীভূত হয়েছে সমষ্টিক মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা।”
তিনি বলেন, “লোকবাংলা আলাউদ্দিন আল আজাদের কবিতায় নতুন ভাষা পেয়েছে। নিত্য নবায়নশীল এই কবির সাধনা উত্তর প্রজন্মের কবিদের জন্যও দৃষ্টান্তস্থানীয়।”
সভাপতির বক্তব্যে কবি বেলাল চৌধুরী বলেন, “একুশের অন্যতম মানসসন্তান আলাউদ্দিন আল আজাদ তাঁর বিচিত্রমুখী সাহিত্যকর্মের মধ্য দিয়ে নতুনত্বের সাধনা করেছেন; এই নতুনতা একদিকে যেমন ছিল শৈলী সচেতনতার অন্যদিকে বিষয় ও ভাষার নিজস্বতা। এই প্রেক্ষিত থেকে আলাউদ্দিন আল আজাদকে মূল্যায়ন করলে বোঝা যাবে তাঁর কবিতার ব্যাপ্তি কতো বিস্তৃত, দীপ্তি কত সমুজ্জ্বল।”
সন্ধ্যায় মো. মফিজুল ইসলামের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘কালুশাহ শিল্পগোষ্ঠী’ এবং গোলাম কুদ্দুছের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বহ্নিশিখা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী শফিউল আলম রাজা, জসীম উদ্দিন সজল, আরজ আলী বয়াতী, সুজন হাওলাদার, সালমা চৌধুরী, সুজন রহমান, রাকিবুল ইসলাম, লুতু সরকার এবং সুফিয়া আহমেদ তৃষ্ণা। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন গৌতম মজুমদার (তবলা), হোসেন আলী (বাঁশি), এস. এম. রেজা বাবু (ঢোল), আশুতোষ শীল (দোতারা), নাজমুল আলম খান (মন্দিরা)।
সংবাদ সম্মেলন
বিকেল ৫টায় বাংলা একাডেমী এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৩ বিষয়ে মতবিনিময় করেন। আরও উপস্থিত ছিলেন গ্রন্থমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য-সচিব শাহিদা খাতুন, একাডেমীর সচিব মো. আলতাফ হোসেন এবং বাংলা একাডেমীর সমন্বয় ও জনসংযোগ উপবিভাগের উপপরিচালক মুর্শিদ আনোয়ার।
কবীর চৌধুরী স্মরণে আলোকচিত্র প্রদর্শনী
একাডেমীর নতুন ভবনের নিচ তলায় বিকেলে বাংলা একাডেমীর সাবেক সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক প্রয়াত কবীর চৌধুরীর ৯১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোকচিত্রশিল্পী এম তাহেরের ক্যামেরায় বিভিন্ন সময়ে ধারণকৃত কবীর চৌধুরীর ছবি নিয়ে ১৭-২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখ পর্যন্ত ১২ দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী, শিল্পী হাশেম খান, কবি বেলাল চৌধুরী, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক পবিত্র সরকার প্রমুখ।
বাংলাদেশ সময়: ২০১২ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৩
এডিএ/সম্পাদনা: আসিফ আজিজ, নিউজরুম এডিটর