৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, সোমবার মে ২০, ২০১৩ ৯:২২ পিএম BDST banglanew24
17 Mar 2013   02:19:43 PM   Sunday BdST
E-mail this

ক্ষমতার শরিক হতে সব করতে রাজি এরশাদ!


সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
ক্ষমতার শরিক হতে সব করতে রাজি এরশাদ!

ঢাকা: যে কোনো মূল্যে ফের ক্ষমতার স্বাদ পেতে চান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এ জন্য যা প্রয়োজন সব করতে প্রস্তুত আছেন তিনি। এ কারণে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন, ভেবে চিন্তে পক্ষ নেবেন বলে।
 
২০ মার্চ ৮৪ বছরে পা রাখছেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। কাগজের হিসেবের চেয়ে প্রকৃত বয়স নাকি আরও খানিকটা বেশি। ২০১৪ সালের নির্বাচন তার জীবনের শেষ নির্বাচন বলে ঘোষণা দিয়েছেন অনেক আগেই। তাই আর একবার ক্ষমতার স্বাদ পেতে মরিয়া এরশাদ।
 
আর ক্ষমতার স্বাদ পেতে তিনি যা প্রয়োজন সব করতেও প্রস্তুত। এ জন্য প্রয়োজন হলে মহাজোট ছেড়ে বিএনপির সঙ্গে জোট অথবা আলাদা জোট করতেও খুব বেশি আপত্তি নেই তার।
 
তবে পা ফেলতে চান হিসেব কষে, যাতে পা ফসকে না যায়। অনেকবারেই তো জোট, মহাজোট করেছেন। কিন্তু ক্ষমতার প্রকৃত স্বাদ ভোগ করতে পারেন নি। আবারও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে ভুল করতে চান না।
 
মহাজোট গঠনের সময় ১৩ দফা চুক্তি করেছিলেন। সেখানে প্রথম দফায় ছিল তাকে (এরশাদ) রাষ্ট্রপতি পদে বসানোর কথা। সে আশায় গুড়ে বালি পড়েছে।

শেষে বলা হয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ দ‍ূত করা হবে। এক্ষেত্রেও তাকে হতাশ হতে হয়েছে। যদিও বিগত বছরের মাঝামাঝি সময় তাকে এ প্রস্তাব দিয়েছিলেন সরকার। কিন্তু অভিমানী এরশাদ তা ফিরিয়ে দেন বলে জাপা সূত্রের দাবি।
 
অনেকদিন ধরেই একক নির্বাচনের কথা বলে আসছেন। কিন্তু মহাজোটে নেই এ ঘোষণা দেননি এখনও। মহাজোটে থেকেই পরবর্তী গন্তব্যের দরকষাকষি করতেই তার এ কৌশল। এখনও সব দরজা খোলা রেখেছেন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮দলীয় জোট, এমনকি আলাদা জোট গঠনের বিষয়ে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন।
 
দলীয় সূত্র বলছে, আন্দোলন তুঙ্গে না উঠলে সহসাই মহাজোট ছাড়ছে না জাতীয় পার্টি। তারা চায় আন্দোলন তুঙ্গে উঠুক। তাতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ওপর মানুষ ক্ষিপ্ত হবে। আর নেগেটিভ ভোট জমা হবে জাপার বাক্সে।
 
এছাড়া দল দু’টির মুখোমুখি অবস্থানের কারণে আবারও এক-এগারোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেও জাপার ভূমিকা কি হবে সে বিষয়েও ভেবে রেখেছেন আগেই। যদি সে রকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েই যায় তাহলেও যেন নির্বাচনে বিশেষ সুবিধা পাওয়া যায় তার জন্যও একটি বিশেষ বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে দলটি।
 
২০১১ সালের ৬ জুন প্রেসিডিয়ামের সভায় একক নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এসময় একটি আমেরিকান সংস্থা দিয়ে মাঠ পর্যায়ের জরিপও করান। জরিপে ফলাফলও উঠে আসে আশাব্যঞ্জক।
 
ধারণা করেছিলেন ৬০ থেকে ৭০টি আসন পাবেন। আর এমনটি হলে তাকে ছাড়া কোনো দল সরকার গঠন করতে পারবে না। আর বিএনপি, আওয়ামী লীগে সমঝোতা হবে না। বাধ্য হয়েই তাকে সমর্থন দিয়ে ক্ষমতায় পাঠাবে। যেমনটি ভারতে এইচডি দেবে গৌড়ার ভাগ্যে ঘটেছিল।
 
কিন্তু টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) উপ-নির্বাচনের শোচনীয় পরাজয়ের পর একক নির্বাচন থেকে সরে এসেছে জাতীয় পার্টি। সিনিয়র নেতারাও আর এ বিষয়ে খুব একটা আগ্রহী নয়।
 
এখন প্রাধান্য পাচ্ছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে যোগদান। এ জন্য নাকি স্বয়ং খালেদা জিয়ার সঙ্গে সরাসরি টেলি কনফারেন্স করেছেন এরশাদ। জাপা চেয়েছে ৭০টি আসন। আর বিএনপি দিতে চেয়েছে ৫০টি। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জোটে আসেন আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হবে।
 
মঞ্জুর হত্যা মামলা ও রাডার ক্রয় মামলা এখনও বিচারাধীন। এসব মামলায় যে কোনো সময় তাকে জেলে নিতে পারে সরকার। এ ভয়েই মহাজোট ছাড়ার ঘোষণা দিচ্ছেন না।
 
তবে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুধু মহাজোটে নেই এ ঘোষণা দিতে। উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগকে মিত্র শূন্য করা। যাতে প্রশাসনের ওপর সরকারের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।
 
এদিকে, আগামী নির্বাচন নিয়েও এরশাদ চুল চেরা বিশ্লেষণ করছেন। আগামী নির্বাচনে যদি বিএনপি না আসে তাহলে কি হবে সে বিষয়েও ভেবে রেখেছেন। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান জানিয়েছেন, তারা নির্বাচনমুখী দল। নির্বাচনে অংশ নেবেন। কে এলো আর না এলো তা তাদের কাছে কোনো বিষয় নয়।
 
এ প্রসঙ্গে এরশাদ সম্প্রতি এক সভায় বলেছেন, সবদলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হলে ভালো হয়। তবে কে এলো আর না এলো তাতে জাতীয় পার্টির কিছু যায় আসে না। জাপা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত।

তবে বর্তমান সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কি না সে বিষয়ে তিনি শঙ্কিত বলেও জানিয়েছেন জাপার একাধিক প্রেসিডিয়াম সদস্য।
 
এরশাদের মুখপাত্র প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী কাজী ফিরোজ রশীদ বাংলানিউজকে বলেন, “দলের নেতাকর্মীরা চায় এখনই মহাজোট ছাড়তে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে দায়িত্ব দিয়েছেন মহাজোট ছাড়ার সময় চূড়ান্ত করতে।”
 
তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান লক্ষ্য থাকে ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের সেবা করা। আমরাও তার বাইরে নই। তাই জাতীয় পার্টি আগামীতে ক্ষমতায় যাওয়ার হিসেব নিকেশ করবে এটাই স্বাভাবিক। প্রকৃত অর্থে মহাজোট আর নেই।”
 
তিনি দাবি করেন, অনেকদিন ধরেই মহাজোটের কোনো বৈঠক হচ্ছে না। আওয়ামী লীগ ১৪ দলের বৈঠক করছে এর অর্থ কি দাঁড়ায়?
 
জিএম কাদের দলীয় কোটায় মন্ত্রী নন, নিজ ক্যাপাসিটিতে মন্ত্রী বলেও দাবি করেন এরশাদের মুখপাত্র।
 
জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বাংলানিউজকে বলেন, “সময়ই বলে দেবে জাতীয় পার্টির গন্তব্য। এখন পর্যন্ত এককভাবে নির্বাচনের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে জাতীয় পার্টি।”
 
“এরই মধ্যে ২২০ আসনের প্রার্থী প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে।” এর বেশি মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ১৪১৩ ঘণ্টা, মার্চ ১৭, ২০১৩
ইএস/সম্পাদনা: আবু হাসান শাহীন, নিউজরুম এডিটর/জেডএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
VISA Center Inc
Holy Hajj BD
RehabHousing.com

বাংলানিউজ স্পেশাল

8877
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান