 |
ঢাকা: বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সত্য হতে চলেছে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামালের (লোটাস কামাল) পুঁজিবাজার সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী।
এক বছর আগে অর্থাৎ ২০১১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, ‘পুঁজিবাজারের সূচক এখনও (১ বছর আগে) প্রায় সাত হাজার। এই সূচক তিন থেকে চার হাজারে না নামলে কাউকে না কাউকে লোকসান দিতেই হবে। পুঁজিবাজার অন্য বাজারের মতো না। এখানে একজনের লাভই অন্যজনের লোকসান।’
ঠিক এক বছর পর সেই ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই তার সেই ভবিষ্যদ্বাণী যেন সত্য হতে চলেছে। গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি লেনদেন শেষে ডিএসই’র সাধারণ সূচক ছিল ৬ হাজার ৮২২। আর ২০১২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি লেনদেন শেষে ডিএসই’র সাধারণ সূচক দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৪৫ পয়েন্ট। অর্থাৎ এক বছরে ডিএসই’র সাধারণ সূচক কমেছে ২ হাজার ৯৭৭ পয়েন্ট।
লোটাস কামালের সেই দিনের ভবিষ্যদ্বাণীর কথা চিন্তা করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মনে জেগেছে নানা ধরনের প্রশ্ন। এখন তাদের প্রশ্ন লোটাস কামাল কি জানতেন যে শেয়ারবাজারের সাধারণ সূচক তিন হাজার বা চার হাজারে নামবে? শেয়ারবাজারের সূচক কি তাহলে পরিকল্পিতভাবে নামানো হলো? লাখ লাখ বিনিয়োগকারীকে তাহলে কি বোকা বানালো বর্তমান সরকার।
এ বিষয়ে লোটাস কামালের ফোনে এসএমএস করে এবং একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। এমনকি এসএমএসেরও উত্তর দেননি।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. খলিকুজ্জামান বাংলানিউজকে বলেন, ‘বাজারের বড় সমস্যা আস্থা সংকট। কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারছে না। আর এ কারণে বাজার স্থিতিশীল হচ্ছে না।’
বাজার কারসাজি চক্র বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে কি-না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বাজারের র্স্বাথে ইব্রাহীম খালেদের তদন্ত প্রতিবেদন পুনরায় খতিয়ে দেখা উচিত। তার প্রতিবেদনে বাজার কারসাজিদের নাম অবশ্যই আছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী যদি ব্যবস্থা নেওয়া যায় তবে সত্যিকারের কারসাজি কারা করছে তা সবাই জানতে পারবে।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, ‘এক বছর পর লোটাস কামালের ভবিষ্যদ্বাণীর কথা স্মরণ করেলে এটাই প্রমাণ হয় শেয়ারবাজার কারসাজিতে তিনি যুক্ত আছেন। আর সরকার তাদের কারসাজি করতে সুযোগ করে দিয়েছে।’
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে পুঁজিবাজারে ধস নামা শুরু করে। এরপর থেকে বর্তমান সরকারের পদস্থ লোকজন বিভিন্ন সময় লাগামহীন মন্তব্য করা শুরু করলে বাজার অস্থিতিশীল হতে শুরু করে। তবে শেয়ারবাজারে বড় ধস নামে ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে। নতুন বছরের মাত্র ২৪ কার্যদিবসে ডিএসই’র সাধারণ সূচক কমে যায় এক হাজার ৫০৬ পয়েন্টে।
এদিকে, পুঁজিবাজার স্থিতিশীল করার জন্য সরকারের দিক থেকে বিভিন্ন সময়ে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কালক্ষেপণ করছে বলে অভিযোগ বিনিয়োগকারীসহ বাজার সংশ্লিষ্টদের।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে গত ২৩ নভেম্বর সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) পক্ষ থেকে প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। প্রাথমিকভাবে বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়লেও সরকারের ঘন ঘন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন ও প্রজ্ঞাপন জারির ফলে বাজার আরো অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশ সময় : ১৪০০ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০১২