সাভার (ঢাকা): আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকার সিঙ্গাপুর পাইলিং সাউথ পয়েন্ট স্কিলস সেন্টার-২ এ আগুন দিয়েছে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণরত ছাত্ররা।
বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে ঢাকা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ডিইজেড) দু’টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা দমকল বাহিনীর গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেয়।
এসময় বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়কে বেরিকেড দিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সড়কটিকে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
পরে খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ এসে বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে দিলে দমকল বাহীনির আরও দু’টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়।
পুলিশি প্রহরায় দীর্ঘ সাড়ে ৩ ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত ১২টার দিকে দমকল বাহীনির সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
প্রত্যক্ষদর্শী ওই সেন্টারের ছাত্র শহীদুল বাংলানিউজকে বলেন, “আমরা ৬ মাস মেয়াদী কোর্সে ভর্তি হলেও কর্তৃপক্ষ সময়মতো সিঙ্গাপুর না পাঠিয়ে কৌশলে এখানে আটকে রেখে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন।”
তিনি আরও বলেন, “আগে এখান থেকে সিঙ্গাপুর যাওয়ার জন্য কোটা ছিল ৪০টি। এখন কমিয়ে করা হয়েছে ২৫টি। এছাড়া, এখানে বেসিক, অ্যাডভ্যান্স ও টেস্ট নামে তিনটি গ্রুপ আছে। গত কয়েকদিন আগে শিক্ষকরা টেস্ট গ্রুপের ছাত্রদের ইচ্ছাকৃতভাবে ফেল করিয়ে অ্যাডভ্যান্স (নিচের গ্রুপে) গ্রুপে নামিয়ে দেয়। এর ফলে আমাদের বেশি টাকা খরচ করে পুনরায় প্রশিক্ষণ নিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়।”
এছাড়া, এখানে থাকা খাওয়ায় অনেক কষ্ট হওয়ায় বাধ্য হয়ে ছাত্ররা প্রতিষ্ঠানটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে ডিইপিজেড ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা সাব্বির হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, “আমাদের একটা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিলে পরবর্তীতে আরও দু’টি ইউনিট আসার পর ৩ ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিভাতে সক্ষম হই।” তবে প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান জানাতে পারেননি তিনি।
আশুলিয়া থানার ভারপাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ বদরুল আলম বলেন, “বিক্ষুব্ধরা প্রতিষ্ঠানটিতে আগুন ধরিয়ে দিলে আমরা ঘটনাস্থল থেকে শহীদুল (২০) ও মুস্তাফিজুর (২২) নামে ২ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি।”
ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও ৠাব মোতায়েনের পর রাত সাড়ে ১২টা থেকে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
বাংলাদেশ সময়: ০৪৩৮ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৩১, ২০১৩
সম্পাদনা: জয়নাল আবেদীন, নিউজরুম এডিটর