ঢাকা: দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ কাজকে আরও গতিশীল ও গ্রহণযোগ্য করতে ইসির অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কথাও ভাবছে ইসি।
নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ সোমবার বাংলানিউজকে বলেন, “আগে ইসির যেসব কর্মকর্তা সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণে অংশ নিয়েছেন, তাদের নিয়ে বৈঠকে বসতে ইসি বৈঠকে ডিসেন্ট নোট দিয়েছি।”
তবে সাবেক কোনো নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে ইসি পরামর্শ করবে না বলেও জানান তিনি।
শাহনেওয়াজ বলেন, “সীমানা নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ থাকলে, তা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এক্ষেত্রে ওই আসনের মানচিত্রসহ বিবেচনা করা হবে অন্যান্য বিষয়।”
তিনি বলেন, “দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৩০০ আসনেরই সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হবে। তবে এতে তেমন কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনা হবে না। কেবল যে ৩০/৩৫টি আসনের ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ এসেছে, তা নিয়েই কাজ করা হবে।”
ঢাকার আসন সংখ্যা নিয়ে তিনি বলেন, “এখনও ঢাকার আসন সংখ্যা বাড়ানো বা কমানো নিয়ে কোনো কথা হয়নি। তবে আসন সংখ্যা দু’একটি কমতে পারে।”
নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনে দীর্ঘ মেয়াদী অনুসন্ধান
নতুন আবেদন করা ৩১টি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন দীর্ঘ মেয়াদী অনুসন্ধানের পদ্ধতি গ্রহণ করবে।
নির্বাচন কমিশনার শাহনেওয়াজ এ বিষয়ে বলেন, “আবেদন করা রাজনৈতিক দলগুলো আবেদনের শর্ত পালন করেছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে।”
তিনি বলেন, “এছাড়া নিবন্ধিত ৩৮টি রাজনৈতিক দল ও নিবন্ধনের শর্ত পালন করছে কিনা তা নিয়ে চালানো হবে অনুসন্ধান।”
এ অনুসন্ধান কয়েক দফায় ধারাবাহিক পর্যালোচনার মাধ্যমে দল নিবন্ধনের সুযোগ ও নিবন্ধন বাতিলে ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি।
নারী ভোটার কমে যাওয়ায় চিন্তিত নয় ইসি
এবারের ভোটার তালিকা হালনাগাদে নারী ভোটারের সংখ্যা পুরুষ ভোটারের চেয়ে প্রায় ১৩ লাখ কমে গেছে। তবে এ কমে যাওয়াকে অস্বাভাবিক বলছে না ইসি।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, “কোনো ভোটার কমল বা কোন ভোটার বাড়লো এটা ইসির বিবেচ্য বিষয় নয়। ইসি দেখবে ভোটার বাদ পড়েছে কিনা।”
তিনি জানান, বাদ পড়া ভোটার নিবন্ধনের জন্য ১৫ দিন সময় রয়েছে। যে কেউ এ সময়ের মধ্যে ভোটার হওয়ার সুযোগ নিতে পারেন।
১০ মাসের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি
২০১২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নিয়েছিলো কাজী রকিব উদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের নতুন নির্বাচন কমিশন। অবশ্য নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ যোগ দিয়েছিলেন আরও এক সপ্তাহ পর।
১০ মাসের অর্জন কি? এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার শাহনেওয়াজ বাংলানিউজকে বলেন, “আমরা এই সময়ের মধ্যে ছবিসহ ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ শেষ করেছি। সম্পন্ন করেছি কয়েকটি সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচন। অনেকগুলো উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনও সম্পন্ন করেছি। এসব কাজ সুষ্ঠুভাবেই হয়েছে। কেউ কোনো প্রশ্ন তোলেননি।”
অপ্রাপ্তি কি কি ?- প্রশ্নের জবাবে শাহনেওয়াজ বলেন, “আমরা দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (ডিসিসি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিলাম। কিন্তু আইনি জটিলতায় তা করা সম্ভব হয়নি। এটা করে দিতে পারলে হয়তো ভালো লাগতো।”
বাংলাদেশ সময়: ২০১৪ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৭, ২০১৩
আরএম/এআর/ সম্পাদনা: আসিফ আজিজ, নিউজরুম এডিটর ও অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর eic@banglanews24.com