 |
ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রের একটি সৈন্যদল তুরস্কে পৌঁছেছে। সিরিয়া সংলগ্ন তুর্কি সীমান্তে ২৭ সদস্যের ওই মার্কিন সৈন্যদল প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন ও পরিচালনায় কাজ করবে বলে জানিয়েছেন তুর্কি কর্মকর্তারা।
তুর্কি সীমান্তে সিরিয়ার স্কাড ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরেই যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করছে। সৈন্য ও ক্ষেপণাস্ত্র ন্যাটোর নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যরা ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনা করবে।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, ২৭ সদস্যের একটি মার্কিন সৈন্যদল গাজিয়ানতেপে পৌঁছেছে যেখানে তারা প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের দেখভাল করবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে তুরস্কে সৈন্য পাঠানোর বিষয়টি প্রকাশ করেনি। গত মাসে তুরস্কে সৈন্য মোতায়েনের করার কথা জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
গত মাসে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিওন প্যানেট্টা বলেন, “আমরা তাদেরকে স্পষ্ট করেছি যে ওই অঞ্চলের দেশগুলোকে আমরা রক্ষা করতে যাচ্ছি। আমাদের ও তুরস্কের নিরাপত্তার জন্য যা করতে হয় আমরা তাই করব।”
তুরস্কের উত্তরাঞ্চলের ইন-সার-লিক বিমান ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যরা অবস্থান নিয়েছে। আঙ্কারাস্থ মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে প্রায় ৪শ মার্কিন সৈন্য ও কর্মকর্তা আসবে।
বিমানে করে সৈন্য ও কর্মকর্তারা তুরস্কে আসবে এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্র-সামগ্রী সাগর পথে আনা হবে বলে জানিয়েছে আঙ্কারার মার্কিন দূতাবাস।
সিরিয়ার সঙ্গে তুরস্কের সীমান্ত এলাকায় ছয়টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনে কাজ করবে মার্কিন সৈন্যরা। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও নেদারল্যান্ড প্রত্যেক দেশ দুটি করে ক্ষেপণাস্ত্র পাঠিয়েছে তুরস্কে।
সিরিয়া থেকে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে তুরস্কের আবেদনের প্রেক্ষিতে ন্যাটো প্যাট্রিয়ট মোতায়েনের অনুমোদন দেয়। সিরিয়া থেকে বেশ কয়েকটি গোলা তুরস্কের ভূখণ্ডে পড়ার পরেই ৩০ নভেম্বর ন্যাটোর সহায়তা চায় দেশটি।
এদিকে শুক্রবার ফ্রি সিরিয়ান আর্মি সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলের তাফতানাজ বিমান ঘাঁটি দখল নেওয়ার জন্য তৃতীয় দিনের মতো চেষ্টা চালায়। সরকার ও বিরোধী সূত্র জানিয়েছে, বিমান ঘাঁটি দখল নেওয়ার হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আল নুসরা ফ্রন্ট অংশ নিয়েছে।
শুক্রবার সিরিয়াজুড়ে কমপক্ষে ১২৯ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে লোকাল কোঅর্ডিনেশন কমিটিসি। তবে তাদের এ দাবির সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হয়নি। গত বুধবার জাতিসংঘ জানায়, ২০১১ সালের মার্চে সহিংসতা শুরুর পর সিরিয়ার নিহতের সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১০৩৯ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৫, ২০১৩
সম্পাদনা: শরিফুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর eic@banglanews24