 |
| ছবি: মোশাররফ /বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
গণজাগরণ চত্বর থেকে : গণজাগরণ চত্বরে স্থাপিত অস্থায়ী কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে পুলিশ। গণজাগরণ চত্বরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সোমবার নজরদারিতে যোগ হয়েছে সিসি ক্যামেরা।
ৠাব, পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি করায় চত্বরে নিরাপত্তা অনেক বেড়েছে বলে মনে করেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, অনেক সময় সমাবেশের ভেতরে ঢুকে যাচাই বাছাই করা সম্ভব হয়ে উঠেনা। কিন্তু সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সকল কিছুই নজরদারি করা সম্ভব।
রমনা জোনের ডিসি সৈয়দ নূরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, “নিরাপত্তার যাতে কোনো ত্রুটি না হয় সে কারণে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এর ফলে চত্বরের নিরাপত্তা অনেকাংশেই বৃদ্ধি পেয়েছে।”
ডিএমপির সিষ্টেম অ্যানালিস্ট শারমিন আফরোজ বাংলানিউজকে বলেন, “গণজাগরণ চত্বরে সিসিটিভি বসানোর ফলে এর নিরাপত্তা আরও বেড়ে গেছে।
অনেক সময় পুলিশ সদস্যরা সমাবেশের ভেতরে কি হচ্ছে তা দেখতে পায় না। কিন্তু ক্যামেরা বসানোর ফলে এর ভেতরে ও বাইরে কি হচ্ছে তা দেখা সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “কেউ যদি ক্ষতিকারক দ্রব্য নিয়ে আসে তাও এখান থেকে দেখা সম্ভব।”
শারমিন আফরোজ বলেন, “ক্যামেরাগুলো আয়ার ক্যামেরা। যার কারণে রাতের বেলাও দেখতে কোন সমস্যা হয় না। ৩২ টি ক্যামেরার জন্য দুটি মনিটর রয়েছে। একজন আইটি এক্সপার্টসহ মোট ৪ জন পালাক্রমে এটি মনিটরিং করছেন।”
এখন পর্যন্ত ক্ষতিকর দ্রব্য নিয়ে আসা ব্যক্তি চিহ্নিত হয়নি বলে তিনি জানান।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধের ৬টি মামলার মধ্যে ৫টিতে দোষীসাব্যস্ত হয় জামায়াত নেতা কাদের মোল্লা। কিন্তু আদালত ফাঁসি না দিয়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করলে এই রায়ের বিরুদ্ধে শাহবাগে আন্দোলন শুরু হয়।
শাহবাগ চত্বর হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ জানানোর চত্বর। সাধারণ মানুষের এই প্রতিবাদ স্ফুলিঙ্গের আকার ধারণ করে। লাখো মানুষ প্রতিবাদ করতে থাকে। কাদের মোল্লাসহ সকল রাজাকারের ফাঁসির দাবিতে শুরু হয় যে আন্দোলন তা এখনো চলমান রয়েছে।
গত শুক্রবার মহাসমাবেশের মাধ্যমে শাহবাগ চত্বরের নাম হয় প্রজন্ম চত্বর। কেউ কেউ শাহবাগ স্কয়ার ও গণজাগরণ চত্বর হিসেবে অভিহিত করেছে শাহবাগকে।
গণজাগরণ চত্বরের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ও ৠাব মোতায়েন করা হয়। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার স্বার্থে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় ডিএমপি। সিদ্ধান্ত মোতাবেক গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে চত্বরের চারিদিকে ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়।
এসব ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ করার জন্য শাহবাগের ট্রাফিক পুলিশ বক্সটি আরও বড় করে সেখানে দুটি মনিটর স্থাপন করা হয়েছে। এই মনিটরের মাধ্যমে একজন আইটি বিশেষজ্ঞসহ ৪ জন পুরো গণজাগরণ চত্বর মনিটরিং করছেন।
ডিএমপির সিষ্টেম অ্যানালিস্ট এর তত্ত্বাবধান করছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৯৫১ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৩
সম্পাদনা: শরিফুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর, সুকুমার সরকার, কো-অর্ডিনেশন এডিটর
eic@banglanews24.com