চট্টগ্রাম: বন্দর কর্মচারী পরিষদ‘র ( সিবিএ, রেজিষ্ট্রোশান নম্বর-২৫৩৯) বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও প্রতিবাদকারীদের চাকরিচ্যুতির হুমকির অভিযোগে লিগ্যাল নোটিশ জারি করা হয়েছে।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জজ আদালত ও শ্রম আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুখময় চক্রবর্তী জাতীয় শ্রমিক লীগ বন্দর এলাকার সভাপতি ও বন্দর সিবিএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী মিন্টুর পক্ষে এ লিগ্যাল নোটিশটি জারি করেন।
বন্দর সিবিএ’র মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি মো. মমতাজ উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মো. ওয়াহিদ উল্লাহ সরকার এর কাছে নোটিশটি পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, মহানগর পুলিশ কমিশনার ও যুগ্ম শ্রম পরিচালককে অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে।
নোটিশে ১৫ দিনের মধ্যে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। না হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
লিগ্যাল নোটিশটি চট্টগ্রাম বন্দর সিবিএ সভাপতি মমতাজ উদ্দিন রোববার রিসিভ করেছন বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছেন। এ নোটিশকে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘উকিল নোটিশটি আমি রিসিভ করেছি। এর জবাব দেব।‘
তিনি বলেন,‘চট্টগ্রাম বন্দরে কিছু মানুষের চাকরির জন্য আমি সুপারিশ করেছি। তাদের চাকরি ঠেকাতেই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে একটি পক্ষ।’
মোহম্মদ আলী মিন্টুর পক্ষে অ্যাডভোকেট সুখময় চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়েছে, ‘১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২ সালে সিবিএ’র মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে ক্ষমতায় থেকে বন্দরে নিয়োগ, বদলী, বাসা বরাদ্দের নামে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। যারা এসব কর্মকান্ডের বিরোধিতা করছেন তাদেরকে চাকুরিচ্যুত, বদলি, হয়রানি এমনকি বাসা থেকে উচ্ছেদ করার হুমকি দেয়া হচ্ছে। যা বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে বিনষ্ট করছে।’
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জরুরি অবস্থা জারি হওয়ার পর সরকার গেজেট প্রকাশ করে চট্টগ্রাম বন্দরের সকল ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে। পরে সরকারি নির্দেশে ২০১০ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী পরিষদ সিবিএ গঠন করা হয়।
২৫ সদস্য বিশিষ্ট এ পরিষদের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ২ বছর। কিন্তু ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তারা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
সরকারি গেজেটের কারণে তখন বন্দর জাতীয় শ্রমিক লীগ, চট্টগ্রাম বন্দর শ্রমিক লীগ, চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, বন্দর শ্রমিক ইউনিয়ন ও চট্টগ্রাম বন্দর ইসলামি শ্রমিক সংঘ এই পাঁচটি রেজিস্টার্ড শ্রমিক সংগঠনের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছিল।
প্রতিবাদ করায় হয়রানির শিকার হয়েছেন জানিয়ে বন্দর সিবিএ`র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী মিন্টু বাংলানিউজকে বলেন, ‘গঠনতন্ত্রে থাকলেও মেয়াদ শেষের এক বছর পরও নির্বাচন দেয়া হচ্ছে না। বর্তমান সিবিএ নেতারা চাকরি ও বাসা বরাদ্দের নামে ঘুষ বাণিজ্য করছেন। আর যারা এর প্রতিবাদ করছেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’
নোটিশে আরো বলা হয়, ‘ ১৫ দিনের মধ্যে সাধারণ সভার আয়োজন করে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে সিবিএ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা, নির্বাচন অনুষ্ঠান করা ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে অভিযোগ করা হবে।’
মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘১৫ দিনের মধ্যে নির্বাচনের ব্যবস্থা না করলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবো।’
নির্বাচনের বিষয়ে মমতাজ উদ্দিন বলেন,‘নির্বাচন হউক তা আমিও চাই। কিন্তু সংগঠনে কিছু জটিলতা থাকার কারণে নির্বাচন অনুষ্ঠানে দেরি হচ্ছে।’
বাংলাদেশ সময়: ২১৪২ঘন্টা, ফেব্রুয়ারি ১৮ ২০১৩
এমইউ/টিসি