 |
ঢাকা: দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহজুড়ে সূচক ও লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। গত সপ্তাহে ডিএসইর সাধারণ সূচক কমেছে ৪৪ দশমিক ২৬ পয়েন্ট। পাশাপাশি লেনদেন কমেছে ১৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ। অন্যদিকে সিএসইতে সূচক কমেছে ১৬২ পয়েন্ট। যা শতাংশের দিক থেকে ০.৭৬ শতাংশ।
আগের সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার ডিএসইর সাধারণ সূচক ছিল ৪ হাজার ২০৫ দশমিক ১৪ পয়েন্ট। সপ্তাহ শেষে বৃহস্পতিবার সূচক কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ১৬০ দশমিক ৮৮ পয়েন্টে। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে সূচক কমেছে ৪৪ দশমিক ২৬ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ০৫ শতাংশ।
অন্যদিকে গত সপ্তাহের শুরুতে (রোববার) সিএসই সূচক ছিলো ৮হাজার ১৪৬ পয়েন্ট। সপ্তাহ শেষে সূচক কমে দাঁড়ায় ৮হাজার ৮৪ পয়েন্টে।অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে সূচক কমে ১৬২ পয়েন্ট। গত সপ্তাহে সিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৬ কোটি ৮ লাখ ৬২ হাজার ৮৮০ টাকা। এ সময় সিএসইতে মোট শেয়ার লেনদেন হয় ২ কোটি ৮২ লাখ ৬৪ হাজার ৪২২ ভলিউম।
উল্লেখ্য, গত ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংক ছুটি থাকার কারণে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন বন্ধ ছিল।
গত সপ্তাহের অধিকাংশ কার্যদিবসেই ডিএসইর সূচক কমার সঙ্গে লেনদেনও কমেছে। এছাড়া কমেছে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট লেনদেন কমেছে ১৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ। লেনদেন হয়েছে মোট ৬৮৮ কোটি ৪১ লাখ ৪৩ হাজার ৩৪৬ টাকা। এর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৮১৯ কোটি ২৮ লাখ ৮৮৯ টাকা।
গত সপ্তাহের ৪ কার্যদিবসে ডিএসইর ২৮৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৯১টির, কমেছে ১৭৯টির ও অপরিবর্তিত ছিল ১২টির দাম। লেনদেন হয়নি ৪টি প্রতিষ্ঠানের। এর আগের সপ্তাহে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছিল মাত্র ১৩০টির, কমেছে ১৩২টির ও অপরিবর্তিত ছিল ১৬টির দাম। লেনদেন হয়নি ৮টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।
ডিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
এদিকে মোট ৪ কার্যদিবসের দৈনিক গড় লেনদেনও কমেছে। গত সপ্তাহে দৈনিক গড় দাঁড়ায় ১৭২ কোটি ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৮৩৬ টাকা, যেখানে এর আগের সপ্তাহে গড় ছিল ২০৪ কোটি ৮২ লাখ ২২২ টাকা। অর্থাৎ গত সপ্তাহে এর আগের সপ্তাহের চেয়ে গড় লেনদেন কমেছে ১৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
এছাড়া ডিএসইতে কমেছে শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ। গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ২১ কোটি ৭৪ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৮টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে। যেখানে গত সপ্তাহের আগের সপ্তাহে হাতবদলের পরিমাণ ছিলো ২২ কোটি ৫০ লাখ ৭১ হাজার ৭৭৭টি । সুতরাং গত সপ্তাহে শেয়ার লেনদেন কমেছে ৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
সাপ্তাহিক দাম বাড়ার ভিত্তিতে ডিএসইর শীর্ষ দশ কোম্পানি হলো- রিলায়েন্স ওয়ান মি. ফান্ড (১০ দশমিক ৭১ শতাংশ), ওরিয়ন ইনফিউশন (১০ দশমিক ৩৯ শতাংশ), পপুলার লাইফ ফাস্ট মি. ফান্ড (৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ), এনএলআই মি. ফান্ড (৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ), পিএইচপি ফাস্ট মি. ফান্ড (৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ), ষষ্ঠ আইসিবি মি. ফান্ড (৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ), আইসিবি এএমসিএল দ্বিতীয় এনআরবি মি. ফান্ড (৬ দশমিক ৫০ শতাংশ), আইএফআইএল ইসলামিক মি. ফান্ড (৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ), আইএফআইসি ফাস্ট মি. ফান্ড (৬ দশমিক ২৫ শতাংশ) এবং আইসিবি এএমসিএল (৬ দশমিক ২৩ শতাংশ)।
অন্যদিকে সপ্তাহ শেষে দাম কমার ভিত্তিতে ডিএসইর শীর্ষ কোম্পানিগুলো হলো- মাইডাস ফিন্যান্স (২২ দশমিক ৬৬ শতাংশ), ফাস ফিন্যান্স (৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ), বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স (৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ), সাভার রিফ্রাক্টরি (৮ দশমিক ০৪ শতাংশ), ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স (৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ), এবি ব্যাংক (৬ দশমিক ২৫ শতাংশ), বিডি ফিন্যান্স (৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ), মডার্ন ডায়িং (৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ), আইসিবি (৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ) এবং সোনালী আঁশ (৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ)।
বাংলাদেশ সময়: ১১০০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৪, ২০১২
এসএনএইচ/সম্পাদনা: জনি সাহা, নিউজরুম এডিটর; নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর