 |
| ছবি: (ফাইল ফটো) |
কক্সবাজার: ১১ জেলেকে হত্যা করে বরগুনা জেলার সোনাচর সমুদ্র চ্যানেল থেকে ট্রলার ছিনতাই করে দস্যুরা। এ ঘটনায় হামিদুল হক (৪৫) নামে এক রোহিঙ্গা দস্যুকে আটক করেছে কক্সবাজারের উখিয়া থানা পুলিশ।
রোববার রাত ৯টায় তাকে আটক করা হয়। গত ২ জানুয়ারি ১১ জেলেকে হত্যা করে হামিদুলসহ একদল দস্যু ট্রলার ছিনতাই করে পালিয়ে যায়।
হামিদুলের বাড়ি মিয়ানমারের আকিয়াব গ্রামে। তিনি তিন বছর ধরে বাংলাদেশের কক্সবাজার শহরের পিটিআই স্কুল সংলগ্ন এলাকায় বাস করছেন।
উখিয়া থানার ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) সাঈদ মিয়া বাংলানিউজকে জানান, বরগুনার সোনাচর দ্বীপ এলাকায় একদল দস্যু গত ২ জানুয়ারি ১১ জন জেলেকে হত্যা করে তাদের সঙ্গে থাকা ৭৪ অশ্বশক্তি (হর্স পাওয়ার) ইঞ্জিন চালিত ট্রলার ও মাছ ধরার সামগ্রী লুট করে সমুদ্র পথে মিয়ানমারে পালিয়ে যাচ্ছিল। রোববার রাতে উখিয়ার পাটোয়ার টেক এলাকায় ট্রলারটির ইঞ্জিন বিকল হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় জেলেদের সহযোগিতায় পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এসময় দস্যুদলের বাকিরা পালিয়ে গেলেও ট্রলারসহ ধরা পড়েন হামিদুল।
এসআই জানান, জিজ্ঞাসাবাদে হামিদুল জানিয়েছেন, বরগুনার পাথরঘাটা এলাকার বাবুল ও সেন্টুর মালিকানাধীন ট্রলার নিয়ে গত ১ জানুয়ারি ১৬ জন জেলে মাছ ধরতে বঙ্গোপসাগরে যান। এতে তিনিসহ ৫ রোহিঙ্গা শরণার্থী ও ১১ বাংলাদেশি ছিলেন। ট্রলারটি সোনাচর ও গুলিরদার এলাকায় পৌঁছালে রোহিঙ্গারা ১১ বাংলাদেশি জেলেকে হত্যা করে ট্রলার ও মাছ ধরার সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে মিয়ানমারের উদ্দেশে রওনা হয়। কিন্তু ট্রলারটি রোববার বিকল হয়ে যায়।
এ হত্যাকাণ্ডে কক্সবাজার কলাতলীর আলী চাঁন (২৩), মহিপুর পাথরঘাটার শাহীন (৩২), মিয়ানমারের বশির (৩৫) ও সব্বিরসহ (২৩) একদল দস্যু জড়িত।
হামিদুলের দেওয়া তথ্য মতে, ট্রলার ছিনতাই করতে গিয়ে ১১ জন জেলেকে (মাঝি মাল্লা) কুপিয়ে হত্যা করে সাগরে ভাসিয়ে দেন তারা। নিহত জেলেরা হলেন-পাথরঘাটার মহিপুর এলাকার বেলাল (১৮), ছৈয়দ আলম মাঝি (৬০), সোহাগ (১৮), জাফর (৩৫), আব্বাস (২০), বাবুল মিস্ত্রি (৪২), কক্সবাজারের মহেশখালী ঘটি ভাঙ্গা গ্রামের জসিম (২১)। অপর তিনজনের নাম জানাতে পারেননি তিনি।
বাংলাদেশ সময়: ১৮১২ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৭, ২০১৩
সম্পাদনা: শিমুল সুলতানা, নিউজরুম এডিটর/আরআর