৫ আষাঢ় ১৪২০, বুধবার জুন ১৯, ২০১৩ ৮:১৮ পিএম BDST banglanew24
11 Sep 2011   06:25:36 PM   Sunday BdST
E-mail this

তিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবে ডিএসই


সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
তিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবে ডিএসই

ঢাকা: বাজারে আস্থা ফেরানো, দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা আনা ও তারল্য সংকট মোকাবেলায় এসইসি, বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থমন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।  পাশাপাশি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে বেশ কিছু সুপারিশও করবে সংস্থাটি।

রোববার লেনদেনের শীর্ষে থাকা ত্রিশ ব্রোকারেজ হাউজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক শেষে এ কথা বলেন ডিএসই সভাপতি শাকিল রিজভী।

এ সময় ডিএসইর সহ-সভাপতি আহসানুল ইসলাম টিটো, পরিচালক সালমান এফ রহমান, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জহুরুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে পুঁজিবাজারকে স্বাভাবিক ও দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল করার লক্ষে শীর্ষ ৩০ ব্রোকারেজ হাউজ ডিএসইর কাছে বেশ কয়েকটি সুপারিশও করেছে।
 
শাকিল রিজভী বলেন, ‘ক্রমাগতভাবে দর পতন ঠেকাতে ডিএসই ও এসইসি মিলে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই আলোকে ডিএসই পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ অবস্থানে থাকা ৩০টি ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়।

পূর্ব নির্ধারিত এই বৈঠকে  শেয়ারবাজারে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে স্টক এক্সচেঞ্জ ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোর করণীয় কি তা নিয়ে নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনার মাধ্যমে পুঁজিবাজার ঠিক করতে ব্রোকারেজ হাউজের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে সাতদফা প্রস্তাবনা বেরিয়ে আসে।

চিহ্নিত সাতদফা প্রস্তাব সম্পর্কে শাকিল রিজভী বলেন, ‘বাজারে বর্তমানে তারল্য সঙ্কট রয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের কাক্সিক্ষত হারে মার্জিন ঋণ দিতে পারছে না।’

তিনি বলেন, ‘মুদ্রাবাজারে ঋণের সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় মার্জিন ঋণের জন্য তহবিল সংগ্রহে সমস্যা হচ্ছে। এটি থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

অপর দিকে ব্রোকারেজ কমিশনের পর উৎসে কর হার দ্বিগুণ করে দেওয়ায় ব্যবসায়িক ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। যা শেয়ার বাজার ভালো থাকার অন্তরায়।

উল্লেখ্য, এর  আগে উৎসে কর হার ০.০৫ থাকলেও এবার তা ০.১০ শতাংশ করা হয়েছে। বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব অনেক বেশি পড়েছে। সরকার যাতে বর্ধিত কর হার প্রত্যাহার করেÑ সে বিষয়ে সুপারিশ করা হবে বলেও জানান তিনি।

শাকিল রিজভী বলেন, ‘কর কমানো হলেও রাজস্ব আয়ে তেমন কোন প্রভাব পড়বে না। কারণ লেনদেন বাড়লে সেখান থেকে যে রাজস্ব আসবে তা বর্ধিত করের তুলনায় বেশি হবে।’

প্রস্তাবিত নতুন ব্যাংক কোম্পানি আইনে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ সীমা সম্পর্কে ডিএসই সভাপতি বলেন,  ‘নতুন ব্যাংক কোম্পানি আইন নিয়ে অনেকে শঙ্কিত। এতে শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ সীমা যেভাবে প্রস্তাব করা হয়েছেÑ তা বাস্তবায়ন করতে হলে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে। এক্ষেত্রে পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।’

বাণিজ্যিক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের জন্য একক গ্রাহক ঋণসীমা (সিঙ্গেল পার্টি এক্সপোজার) সমন্বয়ের সময় বৃদ্ধির সুপারিশ করা হবে জানিয়ে শাকিল রিজভী বলেন, ‘এরই মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান ঋণের পরিমান কমিয়ে এনছে। তা সত্ত্বেও অতিরিক্ত ঋণ সমন্বয়ের জন্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে (সাবসিডিয়ারি কোম্পানি) অনেক কম সময় দেওয়া হয়েছে। বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করার আহ্বান জানিয়ে ডিএসই সভাপতি বলেন, ‘গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বাজারে শেয়ারের দর ব্যাপক হারে কমে গিয়েছিল। সে সময় সব পক্ষ থেকেই বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বাজেটে শেয়ারবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়।’

সরকারের সেই সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য মানসিক শক্তি যুগিয়েছে। এতে জুলাই মাসে বাজার উর্দ্ধমুখী হয়। কিন্তু এর পরই বিষযটি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। বাজেটে যে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল তা বহাল আছে কিনাÑ সে বিষয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এই বিভ্রান্তি নিরসনে সরকারকে অনুরোধ করা হবে।’

শাকিল রিজভী জানান,  বাজারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য গত দু’ বছরে অনেকগুলো মিউচ্যুয়াল ফান্ড গঠন করা হয়েছে। কিন্তু ফান্ডগুলো সঠিকভাবে কাজ করছে কিনাÑ এসইসিকে তা নিরীক্ষা করার অনুরোধ করা হবে। মিউচ্যুয়াল ফান্ডের অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ না করে ফিক্সড ডিপোজিট করে রাখা হচ্ছে কিনাÑ তা খতিয়ে দেখতে হবে। এছাড়া ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে শেয়ারবাজারে অর্থায়নের জন্য নিজস্ব অর্থায়নের সুযোগ করে দেওয়া যায় কিনাÑ সে বিষয়েও ডিএসইর পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হবে।

ডিএসইর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আহসানুল ইসলাম টিটো বলেন, ‘উল্লেখিত বিষয়গুলো ছাড়াও কিভাবে বাজারের সার্বিক পরিবেশ ভালো করা যায় তা নিয়ে আমরা এসইসি, বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থমন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করবো। সর্বপরি বিসয়টি নিয়ে আলোচনা হবে সরকারের সঙ্গে। আশা করি এতে আমরা সফল হবো এবং বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশিলতা ফিরে আসবে।  

বাংলাদেশ সময়: ২১১১ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১১

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
banglanews24 All Apps
RehabHousing.com

অর্থনীতি

8877
IIMEJ
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান