‘বাহির বলে দূরে থাকুক, ভিতর বলে আসুক না’ গানটির তুমুল জনপ্রিয় গায়িকা ন্যান্সি এবার নিজেই দাম্পত্য জীবনে শিকার হলেন দ্বিধার। তবে তিনি দ্বিধা-দ্বন্দ্বকে প্রশ্রয় দেননি। সিন্ধান্ত নিয়েছেন একলা চলার। ভালোবেসে বিয়ে করা আবু সাঈদ সৌরভের সঙ্গে গড়ে তোলা ছয় বছরের সংসার জীবনের তিনি ইতি টেনেছেন। সম্প্রতি পারিবারিকভাবে ন্যান্সি ও সৌরভের ডিভোর্স সম্পন্ন হয়েছে।
বাংলানিউজ এ প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে ফোনে কথা বলে ন্যান্সির সঙ্গে। সৌরভের সঙ্গে ডিভোর্সের ব্যাপারটি তিনি স্বীকার করে নেন। ডিভোর্সের দিন-তারিখ জানতে চাইলে ন্যান্সি তা এড়িয়ে যান।
ডিভোর্সের কারণ জানিয়ে ন্যান্সি বলেন, ‘গত প্রায় দুবছর ধরে আমার আর সৌরভের মধ্যে ঠিক মতো বোঝাপড়া হচ্ছিল না। সংসারের নানা বিষয়ে আমাদের মতভেদ দেখা দেয়। তবুও একমাত্র মেয়ে রোদেলার মুখের দিকে তাকিয়ে আমি চেষ্টা করেছি। এমন কি সংসারের সুখের জন্য গান ছাড়ার পরিকল্পনাও নিয়েছিলাম। আমার ধারণা, সৌরভও তার জায়গা থেকে আমাদের ভালোবাসর সংসারটা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে আমার মতোই। দাম্পত্যজীবনের সমস্যা সমাধানের জন্য বহুবার আমরা সমঝোতায় আসার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দূর্ভাগ্যই বলা যায়, নিজেদের কিছু বিষয়ে আমরা একমত হতে পারি নি। শেষ পর্যন্ত দুজন মিলে নিজেদের ভালোর জন্যই আমরা দাম্পত্য-সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।’
আবু সাঈদ সৌরভ প্রতি কোনো অভিযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে ন্যান্সি তা অস্বীকার করে বলেন, ‘কারো প্রতিই আমাদের এখন আর কারো কোনো অভিযোগ বা ক্ষোভ নেই। একসঙ্গে থাকতে গিয়ে আমাদের সমস্যা হচ্ছিল। তাই আমরা দুজন মিলে আলোচনা করে দুই পরিবারের সম্মতিক্রমেই সুন্দরভাবে বিষয়টি সমাধান করেছি। এছাড়া আমাদের সামনে বিকল্প কোনো উপায় ছিল না।
এক প্রশ্নের উত্তরে ন্যান্সি বলেন, ‘শিল্পীরাও তাদের ব্যক্তিজীবনে সাধারণ মানুষ। কাদা ছোড়াছুড়ি বা সত্যকে মিথ্য বলে আড়াল করা আমার পছন্দ না। আমি চাই না আমার ব্যক্তিগত জীবনের এ বিষয়টি নিয়ে বানোয়াট বা মনগড়া কিছু ছড়িয়ে পড়–ক। এটি নিয়ে লুকোচুরি করলে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সত্য একদিন প্রকাশ পাবেই। তাই বিষয়টি সরাসরি সংবাদমাধ্যমের কাছে করে নিলাম।’
জন্মসূত্রে নড়াইলে বাড়ি হলেও নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি বেড়ে উঠেছেন সোমেশ্বরী নদীর পাড়ের নেত্রকোনায়। মা শখের শিল্পী জোৎস্না হকের কাছে সঙ্গীতে তার হাতেখড়ি হয়েছিল। বড় ওস্তাদজীর কাছে ক্ল্যাসিক গানের তালিম নেন। নেত্রকোনাতেই কলেজ জীবনে পা রাখার পর ব্যবসায়ী আবু সাঈদ সৌরভের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন ন্যান্সি। ২০০৬ সালের ২১ জানুয়ারি ভালোবেসে তারা বিয়ে করেন। এর পরের বছরই ন্যান্সি ও সৌরভের ঘরে জন্ম নেয় কন্যাসন্তান রোদেলা।
গানে ন্যান্সি সাফল্যের মুখ দেখেন বিয়ের আগেই। মিউজিক জিনিয়াস হাবিবের হাত ধরে ২০০৫ সালে ‘হৃদয়ের কথা’ ছবির একটি সাইড ভোকাল হিসেবে ঢাকায় ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি। সে বছরই বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেলে তার অভিষেক হয় । পরের বছরে ২০০৬ সালে ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’ ছবির ‘পৃথিবীর যত সুখ যত ভালোবাসা’ গানটির মাধ্যমে খুব দ্রুত লাইম লাইটে চলে আসেন ন্যান্সি। এরপর তাকে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয় নি। তর তর করে এগিয়ে চললেন। হয়ে উঠলেন বাংলা সিনেমার প্লেব্যাকের এই সময়ের সবচেয়ে ব্যস্ত শিল্পী। ন্যান্সির প্রথম একক গানের অ্যালবাম ‘ভালোবাসা অধরা’ বের হয়েছিল ২০০৯ সালে। চলতি বছর পয়লা বৈশাখে প্রকাশিত হয়েছে ন্যান্সির দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ‘রঙ’।
সবশেষে ন্যান্সি বাংলানিউজকে বলেন, মানুষের সুখের সময় বোধহয় কখনো দীর্ঘস্থায়ী হয় না। হয়তো গানে না এলে সংসারটা টিকে যেতো। তবে আমি মন ভাঙতে রাজি নই। আমার পাচ বছরের মেয়ে রোদেলাকে সঙ্গে নিয়ে গানের মাধ্যমেই বেচে থাকতে চাই।
বাংলানিউজের পক্ষ থেকে বহুবার আবু সাঈদ সৌরভের যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তার দুটি মোবাইল নম্বরই বন্ধ পাওয়া যায়। তার সঙ্গে কথা বলার জন্য এসএমএস দিয়ে রাখার পর সাড়া পাওয়া যায় নি।
এদিকে ন্যান্সি ও সৌরভের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করেই তাদের দুজনের মনোমালিন্য চরমে উঠে। সম্প্রতি নেত্রকোনায় একটি দালান নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন ন্যান্সি। এতে আপত্তি ছিল সৌরভের। তার ইচ্ছে সাভারে নিজের কেনা জমিতে বাড়ি তোলা। কিন্তু তাতে ন্যান্সি সায় দেন নি। তিনি নেত্রকানোয়া বাড়ি নির্মাণের কাজ চালিয়ে যান। বিষয়টি সৌরভ সহজভাবে নিতে পারেন নি। একটু একটু করে এটি এমন এক জটিল পরিস্থিতি তৈরি করে যে, তা ভেঙে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারলেন না। সংসার ভাঙার মতো কঠিন সিদ্ধান্তের মধ্যে ন্যান্সি ও সৌরভকে যেতে হলো। তাদের একমাত্র কন্যা রোদেলা বর্তমানে মা ন্যান্সির সঙ্গেই আছে।
বাংলাদেশ সময় ১৭২০, মে ২৪, ২০১২
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।