 |
| ছবি: কাশেম হারুন/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চলমান ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় প্রবেশের পরই বঙ্গবন্ধু স্মৃতি প্যাভিলিয়নটি সবার নজর কাড়ে। বাণিজ্য মেলার প্রধান গেটের সামনেই তৈরি করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি প্যাভিলিয়ন। মেলায় ঢোকার পথে সাদাকালো রঙের এ প্যাভিলিয়ন সবার চোখে পড়বে।
বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের ইতিহাসকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এ প্যাভিলিয়ন। প্রতিবারের মতো এবারও মেলায় দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে এ আয়োজনে।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার হরতালের প্রভাবে মেলা তেমন জমে ওঠেনি। তবে সোমবার দুপুর থেকে মেলায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিলো অনেক বেশি। সন্ধ্যার পর এ সংখ্যা আরো বাড়বে বলে আশা তাদের।
বঙ্গবন্ধু স্মৃতি প্যাভিলিয়ন সাদা-কালো রঙের অষ্টভুজ আকৃতির। প্যাভিলিয়নের সামনেই রয়েছে বঙ্গবন্ধুর একটি ভাস্কর্য। প্যাভিলিয়নের দুই পাশে এবং উপরে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর ছবি। প্যাভিলিয়নের সামনের জায়গাটিও বেশ পরিচ্ছন্ন। ভেতরে স্বেচ্ছাসেবী রোভার স্কাউট সদস্যরা কাজ করছেন।
মেলার শুরু থেকেই এ প্যাভিলিয়নে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বাইরের পাশাপাশি সবার আগ্রহ প্যাভিলিয়নের ভেতরের বিভিন্ন আয়োজনের প্রতি।
সোমবার দুপুর নাগাদ প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষের ভিড়ে জমে উঠেছে এ প্যাভিলিয়ন। দর্শনার্থীদের বিভিন্ন তথ্য ও প্রশ্নের জবাব দিতে রোভার স্কাউট সদস্যদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে। ছোটরা যেমন আছে, তেমনি বড়রাও এ স্টলে এসেছেন। তবে ছোটদের সংখ্যাই বেশি।
প্রতিদিন ছাত্র-ছাত্রী ছাড়াও ছোট-বড়, কিশোর-কিশোরী, যুবক-বৃদ্ধ সবাই ভিড় করছেন এ প্যাভিলিয়নে।
প্যাভিলিয়নের ভেতরে প্রত্যেক দেওয়ালে বঙ্গবন্ধু, তার পরিবার ও রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন ছবি রাখা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন বাণী, স্বাধীনতার ভাষণ ও তার অনুবাদ, প্রবাসী কন্যা শেখ হাসিনাকে লেখা পিতা বঙ্গবন্ধুর চিঠি, বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন সময়ে দেওয়া ভাষণের অংশ বিশেষের প্রদর্শনী প্যাভিলিয়নের অন্যতম আকর্ষণ।
বিভিন্ন রাষ্ট্রনায়কদের সঙ্গে জাতির জনকের ছবিও শোভা পাচ্ছে। অন্যদিকে, দেওয়ালের তাকে রাখা আছে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা বিভিন্ন লেখকের প্রায় ৫০টি বই। বাংলা এবং ইংরেজি দুই ভাষারই বই আছে।
প্যাভিলিয়নের মধ্যে ষড়ভূজ আকৃতির একটি ঘর রয়েছে। এর মধ্যে একটি বড় প্রজেক্টর রয়েছে। যাতে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের ওপর নির্মিত বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হচ্ছে।
বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নে গিয়ে দেখা গেছে, প্যাভিলিয়নে বঙ্গবন্ধুর অর্ধ শতাধিক প্রতিকৃতি শোভা পাচ্ছে। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন লেখা প্যাভিলিয়নের দেওয়ালে টাঙিয়ে রাখা হয়েছে।
এবারের মেলায় প্রবেশমূল্য বয়স্কদের জন্য ২০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ১০ টাকা। মাসব্যাপী এ মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
স্টলে কথা হয় মিরপুর থেকে আসা দম্পতি সাইদুর এবং রানীর সঙ্গে। তাদের সঙ্গে স্কুল পড়ুয়া দুই ছেলে-মেয়েও এসেছে। সাইদুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, “জাতির জনক সম্পর্কে জানতে এ স্টল শিক্ষণীয়। বাচ্চারা বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানছে।”
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র ওমর ফারুক বলেন, “এ আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের নতুন প্রজন্ম বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানতে পারবে। এটা শিক্ষার একটা অংশ। বাণিজ্য মেলায় সবাই শুধু কেনাকাটা করতে আসেন না। এখানে একটু ঘুরতে ও বিনোদনের জন্যও মানুষ আসেন।
প্যাভিলিয়নটির ভেতর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে বঙ্গবন্ধুর ওপর নির্মিত ২২ মিনিটের একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। যাতে বঙ্গবন্ধুর জন্ম থেকে বেড়ে ওঠাসহ সংগ্রামী জীবনের নানা তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।”
প্যাভিলিয়নের আয়োজন করেছে ভার্র্টেক্স নামের একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থা। প্রতিষ্ঠানটির তত্ত্বাবধায়ক প্যাভিলিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সঞ্জয় সরদার বাংলানিউজকে বলেন, “স্টলটি সাদা-কালো করা হয়েছে শোকের প্রতীক হিসেবে। বঙ্গবন্ধুর প্রামাণ্যচিত্রটি আধ ঘণ্টা পর পর দেখানো হচ্ছে। একসঙ্গে ৫০ জন এটি উপভোগ করতে পারেন। তবে ২০ জন হলেও আমরা দেখাচ্ছি।”
তিনি জানান, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এটা চলে। দ্বিতীয় দিন থেকেই স্টলে ভিড় হচ্ছে।
বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে এ আয়োজনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের রোভার স্কাউট সদস্যরা কাজ করছেন। টিম লিডার সিনিয়র রোভারমেট মামুন খান বলেন, “আমরা দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও জাতির জনকের সঙ্গে মানুষকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি। প্রতিদিন শত শত লোক আসছেন ও জানছেন।”
এ ব্যাপারে মেলার আয়োজক রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান শুভাশীষ বোস বাংলানিউজকে বলেন, “জাতির জনক সম্পর্কে জানতে এ আয়োজন বরাবরই করা হয়। এখানে দর্শকদের আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।”
দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে মেলা ভালোভাবে জমে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, গত ১ জানুয়ারি মেলা উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু স্মৃতি প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রী যখন পিতার স্মৃতিবিজড়িত ঘটনাগুলো প্রজেক্টরে দেখছিলেন, তখন হঠাৎ যন্ত্রটি বন্ধ হয়ে যায়। অনেক চেষ্টার পরও সেদিন সেটি আর চালু করা যায়নি।
এ ব্যাপারে বিজ্ঞাপনী সংস্থা ভার্র্টেক্স’র তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা সঞ্জয় সরদার বাংলানিউজকে বলেন, “প্রথমে যান্ত্রিক ক্রটির কারণে কিছু সমস্যা হয়েছিলো। এখন সমস্যা নেই। আমরা নিয়মিত প্রদর্শনী করছি।”
বাংলাদেশ সময়: ১৫৫৩ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৭, ২০১২
এমআইআর/ সম্পাদনা: জয়নাল আবেদীন, নিউজরুম এডিটর ও অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর eic@banglanews24.com