 |
পাটগ্রাম (লালমনিরহাট): পানিসম্পদমন্ত্রীর নির্দেশে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ওপর দিয়ে অতিরিক্ত মালবোঝাই ট্রাক পারাপার অবশেষে বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আর এ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষার দায়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত ব্যারাজের দুইপ্রান্তে ৩ শতাধিক অতিরিক্ত মালবোঝাই ট্রাক আটকা পড়েছে।
এ নিয়ে ট্রাক শ্রমিকরা এক জোট হয়ে কর্তৃপক্ষের ওপর চড়াও হলে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তা রুখে দিয়েছেন ব্যারাজের নিরাপত্তাকর্মীরা।
তিস্তা ব্যারাজ সূত্রে জানা গেছে, ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন করে ব্যারাজের ওপর দিয়ে ২০ টনের বেশি মালামাল পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
তারপর ২০ টনের বেশি মালামাল পরিবহন না করার জন্য ব্যারাজ কর্তৃপক্ষ লিফলেট, মাইকিংসহ ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালায় এবং মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে তা কার্যকর করা হয়।
এতে করে বুধবার পর্যন্ত প্রায় ৩ শতাধিক অতিরিক্ত মালবোঝাই ট্রাক আটকে দেয় কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ব্যারাজের ২ প্রান্তে ৩ শতাধিক মালবোঝাই ট্রাকের দীর্ঘলাইন। এসবের অধিকাংশই বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে আসা।
এদিকে, ট্রাকচালকদের অভিযোগ, তারা অনেক দিন ধরেই ব্যারাজের ওপর দিয়ে যাতায়াত করছেন। হঠাৎ করে এরকম সিদ্ধান্ত তারা মানতে পারছেন না।
তবে ট্রাকচালকদের এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন তিস্তা ব্যারাজের সহকারী পরিচালক (নিরাপত্তা) কেপিএম হাফিজুর রহমান।
তিনি বাংলানিউজকে জানান, তিস্তা ব্যারাজের ওপর দিয়ে ২০ টনের বেশি মালামাল পরিবহন না করার জন্য গত এক সপ্তাহ ধরে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা করা হয়েছে।
এজন্য চলাচলকারী ট্রাকচালকদের হাতে লিফলেট তুলে দেওয়ার পাশাপাশি হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম, বুড়িমারীসহ বেশ কিছু স্থানে মাইকিং করা হয়েছে। তারপরও চালকরা বলছেন, তারা এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না, এটা হতে পারেনা।
এদিকে, খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুরু থেকেই ব্যারাজের ওপর দিয়ে ২০ টনের বেশি যানবাহন পারাপারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা কখনোই মানা হয়নি।
ব্যারাজের ক্ষতিসাধন হবে জেনেও সংশ্লিষ্টরা উৎকোচের বিনিময়ে ৩০/৩৫ টন ওজনের মালবাঝাই ট্রাক যাতায়াতের অনুমতি দিয়ে আসছিলেন বছরের পর বছর ধরে।
এ জন্য ব্যারাজ সংশ্লিষ্টদের ট্রাকপ্রতি ২শ থেকে ৩শ টাকা করে দেওয়া হতো বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ট্রাকচালক স্বীকার করেন।
এবিষয়ে জানতে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ট্রাকচালকদের উৎকোচের বিনিময়ে অতিরিক্ত মালামাল বোঝাই ট্রাক পারাপারের বিষয়টি ভিত্তিহীন দাবি করে বাংলানিউজকে বলেন, ‘তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্প দেশের একটি জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষায় ২০ টনের বেশি মালামাল পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তাই, সে কারণে পণ্যবোঝাই ট্রাকগুলো আটকে দেওয়া হয়েছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক সহকারী প্রকৌশলী বাংলানিউজকে বলেন, ‘১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শনে এসে ব্যারাজের ওপর দিয়ে ২০ মেট্রিক টনের বেশি মালামাল পরিবহন না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। মন্ত্রীর ওই নির্দেশ কার্যকর করতে অতিরিক্ত মালবোঝাই ট্রাকগুলো এজন্য আটকে দেওয়া হয়েছে।’
এবিষয়ে ব্যারাজের টোল ইজারাদার সিরাজুল হক বাংলানিউজকে বলেন, ‘ব্যারাজের নিয়মানুযায়ী যানবাহন চলাচল করবে। এতে আমার কোনো আপত্তি নেই।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে অতিরিক্ত মালবোঝাই ট্রাক পারাপার হয়েছে কিনা, তা ব্যারাজ কর্তৃপক্ষেরই ভালো জানার কথা। ইজারাদার হিসেবে আমার লোকজন শুধুমাত্র চলাচলকারী যানবাহনের টোল আদায় করেছেন।’
তিস্তা ব্যারাজের দু’প্রান্তে আটকে থাকা শত শত ট্রাক ছেড়ে দেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে নিরাপত্তাকর্মীরা জানান, ‘বুধবার বিকেলে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এপ্রসঙ্গে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান বাংলানিউজকে বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা থাকার পরেও অতিরিক্ত মালামাল নিয়ে তিস্তা ব্যারাজ পারাপারের অভিযোগে প্রায়ই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়ে থাকে। তারপরও কীভাবে অতিরিক্ত মালবোঝাই ট্রাক যাতায়াত করে, তা তদন্ত করে দেখা হবে।’
বাংলাদেশ সময়: ২১৪৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৫, ২০১২
সম্পাদনা: আশিস বিশ্বাস, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর