টাঙ্গাইল: বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ডাকা দেশব্যাপী দুই দিনের হরতালের তেমন কোনো প্রভাব পরেনি টাঙ্গাইলে। তবে জেলার ঘাটাইল উপজেলায় কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে বলে গুজব রয়েছে।
হরতালের প্রথম দিন সোমবার সকাল থেকেই রিকশা, ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক ও সিএনজি চলাচল শুরু করেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলতে শুরু করেছে। ঢিলেঢালা হরতালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম।
ঢাকা-টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধু মহাসড়ক দিয়ে কোনো দুরপাল্লার যানবাহন চলাচল করেনি। এ সময় কোনো পিকেটারদের রাস্তায় বা মহাসড়কে দেখা না গেলেও সকাল সোয়া ৯টা শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে হরতার সমর্থনকারীরা মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের ভিক্টোরিয়া রোডের বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে বের হয়ে পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল শেষে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে তারা।
এছাড়া শহরের বেড়াবুচনা এলাকায় টায়ারে আগুন ধরিয়ে রাস্তা অবরোধ করে একটি সিএনজি অটোরিকসা ভাঙচুর করে পিকেটাররা।
এদিকে, ঘাটাইলে বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর নিয়ে গুজব শুরু হয়েছে। এনিয়ে চলছে বিভিন্ন সমালোচনা।
এ বিষয়ে ঘটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলুল কবির বাংলানিউজকে জানান, ঘাটাইলে হরতালের কোনো প্রভাব পরেনি।
তিনি বলেন, বাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকলেও উপজেলায় সিএনজি, টেম্পু, রিকসা ও ইজিবাইক চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে উপজেলার গুনগ্রামে একটি টেম্পুর গ্লাস ভাঙচুরের কথা স্বীকার করলেও একাধিক যানবাহন ভাঙচুরের কথা অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক করিম বাংলানিউজকে জানান, হরতালের সমর্থনে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মিছিল বের করা হয়েছিল এরপর হরতাল চলাকালে কোনো মিছিল করা না হলেও পিকেটিং চলছে। তিনি উপজেলার গুনগ্রামে টায়ার জালিয়ে রাস্তা অবরোধ ও দুইটি টেম্পু ভাঙচুরের কথা স্বীকার করেন।
অপরদিকে, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার পাথাইকান্দি বাজারে হরতাল সমর্থনকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও হরতাল সমর্থনকারীরা সকাল সাড়ে ৭টায় টায়ার জ্বালিয়ে উপজেলার বেশ কয়েকটি সড়ক অবরোধ করলেও এখন যানচলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১১২৫ ঘণ্টা, মার্চ ১৮, ২০১৩
সম্পাদনা: সোহেলুর রহমান, নিউজরুম এডিটর