 |
ঢাকা: শনিবার ছিল পাকিস্তানের রাজনীতির ইতিহাসে স্মরণীয় দিন। দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় পাঁচ বছর পূর্ণ করল। এ অর্জনকে পাকিস্তানের গণতন্ত্রের ওপর পেছন থেকে হামলার ‘অশুভ অধ্যায়ের’ সমাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী রাজা পারভেজ আশরাফ।
লিয়াকত আলি খানের হত্যাকাণ্ড, জুলফিকার আলি ভুট্টোকে ক্ষমতাচ্যুত করা ও পরে ফাঁসি দেওয়া, বেনজির আলি ভুট্টো ও নওয়াজ শরিফকে দুই দুইবার ক্ষমতাচ্যুত করা এবং নিজের পূর্বসূরীকে ‘অযোগ্য’ ঘোষণার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “পাকিস্তানের ইতিহাসে একটি অশুভ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।”
পাকিস্তানের গণতন্ত্রের ‘বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন পিপিপির অর্জনকে। তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে আর কেউ গণতন্ত্রের পেটে ছুরি চালাতে পারবে না।”
১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান ভাগের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হয় পাকিস্তান। এরপর থেকে কোনো নির্বাচিত সরকার পূর্ণ মেয়াদে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। কোনো সরকারকে বন্দুকের নলের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে, আবার কোনো সরকার প্রধানকে প্রহসনমূলক বিচারে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে, কোনো সরকার প্রধান মারা গেছেন আত্মঘাতীর হাতে।
রোববার গভীর রাতে টেলিভিশনে দেওয়া বিদায় ভাষণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জানান, দিনের প্রথম দিকে (শনিবার) চার প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীরা ন্যাশনাল অ্যাসেম্বেলি ও চারটি প্রদেশের নির্বাচন একই দিন অনুষ্ঠিত করার পরামর্শে একমত হয়েছেন।
১৭ মার্চ মধ্যরাতে ৩৪২ আসন বিশিষ্ট ন্যাশনাল অ্যাসেম্বেলির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়। মেয়াদ শেষ হলেও এক সপ্তাহ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব থাকবেন রাজা পারভেজ আশরাফ। এসময় তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানকে বেছে নেবেন। এ তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে দুই মাসের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন দিতে হবে।
তিনি জানান, কেন্দ্র ও প্রদেশগুলোতে তত্ত্বাধায়ক সরকার গঠন করতে ইতোমধ্যে ঐকমত্য তৈরিতে চেষ্টা শুরু করেছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান হিসেবে যাদের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে তা নিয়ে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ও বিরোধী পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে ঠিক কতো দিন লাগবে তা স্পষ্ট করেননি রাজা পারভেজ। পার্লামেন্টের বিলুপ্তির ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার বিধান রয়েছে পাকিস্তানের সংবিধানে।
শনিবার রাতে পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার চার ঘণ্টা আগে পার্লামেন্টের বিলুপ্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। রাজা পারভেজের নির্দেশনায় আইনমন্ত্রী একটি প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানায়।
২০০৮ সালের মে মাসের সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে জেনারেল পারভেজ মোশাররফের নয় বছরের সামরিক শাসনের অবসান ঘটে। ওই বছরের ১৭ মার্চ জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ন্যাশনাল অ্যাসেম্বেলির সদস্য হিসেবে শপথ নেন। ওই সময় সরকার প্রধান ছিলেন ইউসুফ রাজা গিলানি। পরবর্তী প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা পুনরায় চালু করতে সুইজারল্যান্ড সরকারকে চিঠি ইস্যু করা নিয়ে গিলানিকে অযোগ্য ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট । এরপর রাজা পারভেজ তার স্থলাভিষিক্ত হন।
নয় মাস আগে প্রধানমন্ত্রী গদিতে বসা রাজা পারভেজ বিদায়ী বক্তব্যে বিগত বছর গুলোতে পাকিস্তানের রাজনীতি সামরিক বাহিনীর ন্যক্কারজনক হস্তক্ষেপের সমালোচনা করেন। পাকিস্তানের আজকের গণতন্ত্র যে পর্যায়ে রয়েছে তা পিপিপির সমঝোতা নীতির ফল বলে দাবি করেন তিনি।
৪০ মিনিটের পূর্বে ধারণকৃত বক্তব্যে বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, সোয়াত উপত্যাকায় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং পাকিস্তান ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দূরত্ব কমানোর ক্ষেত্রে নিজের সরকারের প্রশংসা করেন রাজা পারভেজ।
বাংলাদেশ সময়: ২০২৪ ঘণ্টা, মার্চ ১৭, ২০১৩
সম্পাদনা: শরিফুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর, eic@banglanews24.com