 |
| ছবি: জনি/ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: ১০ কেজি ওজনের হাতুড়ি দিয়ে লক্ষ্যস্থলে বাড়ি দেওয়াটা যে কতোটা পরিশ্রম ও ঝুঁকির তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর এমন কাজ যদি হেডলাইটের আধো-আলোয় করতে হয় তবে সেটা যে কতো বড়ো ধরনের দুর্ঘটনাকে হাতছানি দিয়ে ডাকা তাও বোধ হয় বলতে হবে না।
ঠিক এ ধরনের ঝুঁকি নিয়েই কাজ করতে দেখা গেল রাজধানীর মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের নির্মাণ শ্রমিকদের।
শনিবার মধ্য রাতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় মগবাজার গোল চত্বর, রেলক্রসিং ও সাতরাস্তা এলাকায় ফ্লাইওভারের নির্মাণ শ্রমিকেরা প্রাথমিক পর্যায়ের পাইলিং কাজ করছেন। প্রায় ৫০ জন শ্রমিক কাজ করলেও এখানে নেই কোনো পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা। হেডলাইটের আধো-আলোর মতো করেই এই শ্রমিকদের বিপদের সামনে কাজ করাচ্ছেন কর্তা ব্যক্তিরা।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে আসা শ্রমিক সুমন বাংলানিউজকে বলেন, “লাইটের ব্যবস্থা না থাকায় আমরা কুপি জ্বালিয়ে কাজ করছি। এতে করে হ্যামারের (হাতুড়ি) আঘাত যে কোনো সময় আমাদের মাথায় লাগতে পারে। পর্যাপ্ত আলো থাকলে এই আশঙ্কা থাকবে না।”
তিনি বলেন, “আলো না থাকায় চলা-ফেরার সময় ইটের টুকরোগুলো পায়ে ঢুকে যায়।”
রাত ৮টা থেকে শুরু করে ভোর ৫টা পর্যন্ত নাইট শিফটে কাজ করে সুমনদের দল। বিনিময়ে প্রতি শ্রমিক পেয়ে থাকেন ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা।
সুমনের সঙ্গে ১৬ বছর বয়সী বাদলকেও এই হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করতে দেখা যায়। দরিদ্র পরিবারের আয়ের উৎস মাত্র ২০ দিন আগে ঢাকায় আসা এই বাদলই। পাঠশালার বারান্দায় কবে গেছে সে কথাও মনে নেই এই শিশু শ্রমিকের।
বাদল বাংলানিউজকে বলে, “বাবার জমি জায়গা নেই। অভাবের সংসার। তাই লেখা পড়া ছেড়ে দিয়ে কাজে লেগে পড়েছি। বাড়িতে টাকা না পাঠালে বাবা-মা খাবে কী!”
তবে মা-বাবার মুখে হাসি ফোটাতে এতো পরিশ্রম করলেও অন্তত ঝুঁকিমুক্ত থেকেই যেন তা করা যায় এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।
বাংলাদেশ সময়: ০৭০২ ঘণ্টা, মার্চ ১৭, ২০১৩
এমআইএস/ সম্পাদনা : হুসাইন আজাদ, নিউজরুম এডিটর