 |
| ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
চট্টগ্রাম: জামায়াত ইসলামীর ডাকা হরতাল প্রত্যাখান করায় নগরীর প্রেসক্লাব চত্বরে শুরু হওয়া গণজাগরণ মঞ্চ থেকে চট্টগ্রামবাসীকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। এছাড়া গণসঙ্গীত আর শ্লোগানে মুখর হয়ে সোমবার পার হচ্ছে গণজাগরণ মঞ্চের ১৩ তম দিন।
‘দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধে’র প্রথম শহীদ আহমেদ রাজীব হায়দারের জন্য বুকে কালো ব্যাজ, মাথায় কালো কাপড় ও কালো পতাকা উত্তোলন করে স্লোগানের মধ্য দিয়ে টানা ১৩ দিনের অবস্থান কর্মসূচি শুরু করা হয়।
সোমবার সকাল থেকেই মেঘলা আকাশ ও ঠান্ডা বাতাস উপেক্ষা করে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সকাল ১০ টা থেকেই উদ্দীপ্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রেসক্লাব চত্বরের গণজাগরণ মঞ্চে এসে জড়ো হন।
বিকেলে শাহবাগে আন্দোলনরত আরেক যোদ্ধা তারিকুল ইসলাম শান্তর মৃত্যুতে তাৎক্ষনিক এক মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করে সমবেত জনতা।
এদিকে মঞ্চে প্রতিদিনই স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দলে দলে সংহতিএযন আন্দোলনকারীদের উদ্দীপ্ত করছে। টানা এ আন্দোলনে কোন ক্লান্তি কিংবা অবসাদের ছাপ নেই কারও চোখে মুখে।
সবাই প্রতিদিনই নতুন উদ্যম ও শক্তি নিয়ে আন্দোলনকে আরও বেগবান করছেন।
জামায়াতের হরতালকে প্রত্যাখ্যান করে চট্টগ্রামের গণজাগরণ মঞ্চ থেকে তরুণ-যুবা-বৃদ্ধের কণ্ঠে ভেসে আসছে,‘জামায়াত শিবিরের হরতাল/মানি না মানব না, জামায়াত-শিবিবের রাজনীতি/আইন করে বন্ধ করো, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি আইন করে বন্ধ কর’ ইত্যাদি স্লোগান।
এদিকে জামায়াত ইসলামীর ডাকা হরতালে প্রায় স্বাভাবিক ছিল দেশের বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। যানবাহনসহ বিভিন্ন স্কুল,কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় খোলা ছিল। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ছিল লক্ষ্য করার মত।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রায় প্রত্যাখ্যান করে `সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী তরুণ উদ্যোগ` চট্টগ্রামের ব্লগার ও অনলাইন একটিভিস্ট ফোরামকে নিয়ে প্রথম এ কর্মসূচী শুরু করে।
এরপর প্রতিদিনই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সেখানে সংহতি প্রকাশ করে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি জানাচ্ছেন। এরপর ওই দিন থেকে এই আন্দোলন সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দিয়ে সার্বজনীন আন্দোলনে পরিণত করেন।
বাংলাদেশ ১৩০৮ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৮,২০১৩
এমইউ/টিসি