 |
| ছবি:ফাইল ফটো |
ঢাকা: ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন-২০১৩-এর চূড়ান্ত অনমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন আইনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু ধারা সংযোজন করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধ সমবায় ব্যাংকিং বন্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা সাংবাদিকদের এ তথ্য দেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা বলেন, চলতি মাসের ৪ তারিখে প্রস্তাবিত ব্যাংক কোম্পানি আইনটি বেশ কিছু পর্যবেক্ষণসহ নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বেশ কিছু সংশোধনী ও আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংসহ সোমবার আবার মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়। আইনটির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাবে আইনটি সংশোধন করা হচ্ছে। তবে সরকারই চায় এই আইনটি সংশোধন করতে।”
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “পরিচালকের মেয়াদ বাড়িয়ে তিন বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিচালক হিসেবে তিন বছর করে পরপর দুই মেয়াদে থাকতে পারবেন। এর বেশি থাকতে হলে অবসর নিয়ে আসতে হবে। বর্তমানে যারা পরিচালক হিসেবে রয়েছেন তাদেরও এ সুযোগ রয়েছে এ আইনে। তবে বর্তমানে কেউ তৃতীয় মেয়াদে থাকলে ও তাদের মেয়াদ শেষ হলে পদ শূন্য হয়ে যাবে। পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অন্য ব্যাংক বা বিভাগে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।”
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নতুন আইনে পরিচালকের পদ রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ ২০ জন। আগে সেটি ১৩ জন ছিল। এর মধ্যে চারজন থাকবেন স্বতন্ত্র পরিচালক। এছাড়া প্রস্তাবিত আইনে রাষ্ট্রায়ত্ত স্পেশালাইজড ব্যাংককে বিশিষ্ট ব্যাংক না বলে বিশেষায়িত ব্যাংক শব্দটি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া নতুন আইনে ইসলামি ব্যাংকিং বিষয়ক ধারা প্রচলতি আইনের মতোই রয়েছে বলে জানান সচিব।
পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ সীমার বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “এ আইনের ২৬ (ক) ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যাংক কোম্পানি বা অন্য কোনো কোম্পানির শেয়ার ধারণের ক্ষেত্রে নিম্ন বর্ণিত পরিমাণের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারবে না; যথা (ক) ধারণকৃত শেয়ার বাজারমূল্যের উক্ত ব্যাংক কোম্পানির আদায়কৃত মূলধন, শেয়ার প্রিমিয়াম, সংবিধিবদ্ধ সঞ্চিতি, রিটেইল আর্নিং-এর মোট পরিমাণের ৫ শতাংশ এবং (খ) উক্ত কোম্পানির আদায়কৃত মূলধনের ১০ শতাংশ।
পুঁজিবাজারে ব্যাংকের অংশগ্রহণ নিয়ন্ত্রিত করার জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি হ্রাস এবং পুঁজিবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করার জন্য এ উদ্যোগ।”
ব্যাংক কোম্পানি আইন লংঘন করলে শাস্তির বিধান করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “এ আইন লংঘনকারী ব্যাংক কোম্পানিকে অনুর্ধ্ব ২০ লাখ টাকা জরিমানা করবে এবং জরিমানার সময় পার হওয়ার পর তা আদায় না হলে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে।”
তিনি বলেন, “বিধান লংঘনের ক্ষেত্রে ব্যক্তির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানকেও জরিমানা করা হবে। আগে শুধু ব্যক্তিকে জরিমানা করা হতো।”
সমবায় সমিতির নামে কেউ যেন ব্যাংকিং করতে না পারে সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে সচিব বলেন, ব্যাংক শব্দের ব্যবহার করে যেন কেউ প্রতারণা করতে না পারে সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সমবায় সমিতি আইন এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
এ আইনের প্রয়োগ স্থগিত করার প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ ব্যাংক উদ্যেগ নিতে পারবে যা আগে সরকার করত—এ কথা জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংককে আরো শক্তিশালী করার এবং তাকে আরো বেশি কর্তৃত্ব প্রদান করার জন্য করা হয়েছে।”
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে খেলাপি ঋণ গ্রহীতার সংজ্ঞা আরো বিস্তৃত, সহজ, স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “কোনো দেনাদার ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকুলে ঋণ এবং অর্জিত সুদ মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার ছয় মাস পার হলে খেলাপি ঋণ গ্রহীতা হবেন।”
বাংলাদেশ সময়: ১৪৫১ ঘণ্টা, মার্চ ১৮, ২০১৩
এসএআর/আরআর