 |
ঢাকা: পুঁজি হারিয়ে বিনিয়োগকারী যুবরাজ মৃত্যু বরণ করেছেন, তার ছোট্ট মেয়ে মনীষা বাবার পথ চেয়ে বসে আছে। এভাবে আর কত বিনিয়োগকারী প্রাণ দেবেন, আদালতে এ কথা জানতে চেয়েছেন বিনিয়োগকারীদের পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস।
রোববার পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ারধারণ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) প্রজ্ঞাপন নিয়ে বিচারপতি ফরিদ আহাম্মদ ও বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি চলাকালে তার যুক্তি উপস্থাপন করার সময় আদালতে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় তিনি বলেন, ‘সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পরিচালকদের কারণে নিঃস্ব হয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছেন। পরিচালকরা বিনিয়োগকারীদের ফুসলিয়ে বাজার থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিদেশে পাচার করছেন। আর এসব পরিচালকদের কারণে পুঁজি হারিয়ে জীবনের মায়া ত্যাগ করে অনেক বিনিয়োগকারী প্রাণ দিয়েছেন।’
আদালতকে নিঃস্ব বিনিয়োগকারীদের বিষয়টি বিবেচনার জন্য অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রজ্ঞাপন জারি নির্ধারিত ৬ মাসের মধ্যে তারা শেয়ার না কিনে এখন সময় বাড়ানোর জন্য আদালতে এসেছেন।’
তাই তিনি আদালতকে বলেন, ‘আপনারা কার কথা শুনবেন? যারা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারেন তাদের কথা, নাকি পুঁজি হারানো সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কথা।’
উল্লেখ্য, এসইসির একটি প্রজ্ঞাপন নিয়ে গত ৮ এপ্রিল ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের (এনসিসিবিএল) পরিচালক শেখ আব্দুল মোমিন রিট আবেদন করেন।
ওই রিটের শুনানি শেষে আদালত একটি রুল জারি করে ৪ সপ্তাহের মধ্যে অর্থসচিব, বাণিজ্যসচিব, এসইসির চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, এনসিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, জয়েন্ট স্টক কোম্পানি অ্যান্ড ফার্মের রেজিস্ট্রার, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে রুলের জবাব দিতে বলেন।
এরপর গত ৮ মে উদ্যোক্তা পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ারধারণের বিষয়ে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) জারি করা প্রজ্ঞাপনকে চ্যালেঞ্জ করে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও ফিনিক্স ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের একাধিক পরিচালক আরো দুটি রিট করেন হাইকোর্টে।
পরবর্তী সময়ে মামলা দুটির শুনানি শেষে উদ্যোক্তা পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ারধারণের বিষয়ে এসইসির জারি করা প্রজ্ঞাপন কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি ফরিদ আহাম্মদ ও বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ রুল জারি করে শুনানির দিন ধার্য করেন। এ সংক্রান্ত ৩টি রিট মামলার রুলের জবাব ১৮ মের মধ্যে দিতে এসইসিকে নির্দেশ দেন আদালত।
গত বছরের ২২ নভেম্বর নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সব কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকের ব্যক্তিগতভাবে ২ শতাংশ এবং সমষ্টিগতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
এজন্য আগামী ২১ মে পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে যদি তাদের কাছে ২ শতাংশ শেয়ার না থাকে তবে তারা পরিচালক পদ হারাবেন।
বাংলাদেশ সময়: ২১৫৬ ঘণ্টা, মে ২০, ২০১২
এসএমএকে/সম্পদানা: আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর