 |
| ছবি:বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
চট্টগ্রাম: বিএনপিতে থাকা মুক্তিযোদ্ধারা জামায়াতের পক্ষে থাকা খালেদা জিয়ার সঙ্গে থাকবেন নাকি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে থাকা তরুণ প্রজন্মের পক্ষে থাকবেন সে বিষয়টি ভেবে দেখার অনুরোধ করেছেন চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধারা।
রোববার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে গণজাগরণ মঞ্চে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে তারা এ অনুরোধ জানান।
এসময় তারা বলেন, ‘শাহবাগে যারা গণজাগরণ মঞ্চ বানিয়েছে তারা নতুন প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধা। অথচ খালেদা জিয়া গণজাগরণ মঞ্চকে মঞ্চ-ফঞ্চ বলে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছেন। জামায়াতের পক্ষ নিয়ে তিনি তরুণ প্রজন্মকে নাস্তিক বলেছেন। তার কী স্পর্ধা ! এখন বিএনপিতে থাকা মুক্তিযোদ্ধা আর ভাসানীপন্থী প্রগতিশীলদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে- আপনারা কি খালেদা জিয়ার সঙ্গে থাকবেন নাকি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে থাকবেন ? আপনারা খালেদা জিয়ার বিএনপিতে থাকবেন কিনা সেটা ভেবে দেখুন।’
বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে গণজাগরণ মঞ্চে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের কমান্ডার মো.সাহাবউদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে গণজাগরণ মঞ্চের সমন্বয়কারী ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী তরুণ উদ্যোগের আহ্বায়ক শরীফ চৌহানের স্বাগত বক্তব্য এবং উদীচীর শিল্পীদের জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধের সাব সেক্টর কমান্ডার ও সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য শাহআলম, মুক্তিযুদ্ধের গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ডা.মাহফুজুর রহমান, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম উদ্যোক্তা মফিজুর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যাপক মো.মাইনুদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদ, কবির আহমেদ প্রমুখ। সমাবেশে সংহতি জানান চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ হায়দার।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম কিন্তু যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, তাদের বিচার করতে ব্যর্থ হয়েছিলাম। ৪২ বছর পর তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির জন্য আন্দোলন শুরু করেছে। খালেদা জিয়া মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী হিসেবে তার তরুণ প্রজন্মের পক্ষে থাকার কথা ছিল। কিন্তু তিনি তরুণ প্রজন্মকে নাস্তিক বলছেন। আমি বলতে চাই, তরুণ প্রজন্ম নাস্তিক নয়, আপনি নিজেই একজন নাস্তিক।’
এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী মুক্তিযোদ্ধা ও তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমরা বুড়ো হলেও তরুণ প্রজন্মের পাশে থাকব। তরুণদের নির্দেশ মেনে আমরা লড়াই, সংগ্রাম চালিয়ে যাব। যেসব মুক্তিযোদ্ধা বেঁচে আছেন, তাদের নিজ নিজ এলাকায় জামায়াত-শিবিরকে প্রতিরোধ করতে হবে। এলাকায় যারা জামায়াত-শিবিরের কর্মকান্ড চালাচ্ছে তাদের তালিকা করে থানায় জমা দিন।’
শাহআলম বলেন, ‘বিএনপিতে যারা মুক্তিযোদ্ধা আছেন, ভাসানীপন্থী প্রগতিশীল আছেন তারা ভেবে দেখুন খালেদা জিয়ার বিএনপিতে থাকবেন নাকি তরুণ প্রজন্মের পক্ষে থাকবেন ? কারণ খালেদা জিয়া ইতোমধ্যে জামায়াতের পক্ষ নিয়ে তরুণ প্রজন্মকে নাস্তিক বলেছেন। খালেদা জিয়ার সঙ্গে জামায়াতের যে ঐক্য সেটা জয়ী হলে এই বাংলাদেশ ইসলামী প্রজাতন্ত্র হয়ে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মকে খালেদা জিয়া নাস্তিক বলেছেন। তার মানে যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আছে তারা সবাই কি নাস্তিক ? আর যারা পাকিস্তানের পক্ষে আছে তারা সবাই কি আস্তিক, ঈমানদার। খালেদা জিয়াকে এসব প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।’
ডা.মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘হেফাজত ইসলাম কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় বলে বক্তব্য দিয়ে ওই সংগঠনের নেতারা মোনাফেকি করছেন। হেফাজতের নেতা মাইনুদ্দিন রূহীর একাত্তরে ভূমিকা কি ছিল সেটা খতিয়ে দেখা দরকার। হেফাজতে ইসলাম এখন হেফাজতে জামায়াত আর হেফাজতে বিএনপিতে পরিণত হয়েছে।’
মোছলেম উদ্দিন বলেন, ‘আমি তরুণ প্রজন্মকে স্যালুট জানাই, তারা আমাদের সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছে। তারা বলেছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছাড়া বাংলাদেশে আর কোন চেতনা থাকবেনা। মুক্তিযুদ্ধের যেসব শ্লোগান একসময় মানুষ উচ্চারণ করতে ভয় পেত, যেসব শ্লোগান মানুষ ভুলে গিয়েছিল, তারা আবার সেসব শ্লোগানকে জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছে।’
গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম উদ্যোক্তা মফিজুর রহমান বলেন, ‘হেফাজত আর জামায়াত যতই অপপ্রচার করুক, যত বিভ্রান্তি ছড়াক, তরুণ প্রজন্মকে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির আন্দোলন থেকে বিচ্যুত করতে পারবেনা।’
মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ থেকে আগামী শুক্রবার বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরের গণজাগরণ মঞ্চে গণঅবস্থান কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়।
বাংলাদেশ সময়: ১৯০০ঘণ্টা, মার্চ ১৭, ২০১৩
আরডিজি/টিসি