 |
‘পুঁথিগত বিদ্যা আর ডাচ-বাংলায় ধন,
নহে বিদ্যা নহে ধন হলে প্রয়োজন’
এ মন্তব্য বাংলানিউজের একজন পাঠকের। এবং নিশ্চিতভাবেই তিনি ডাচ-বাংলা ব্যাংকের একজন আতঙ্কিত গ্রাহক। রোববার ‘গ্রাহকের অতিরিক্ত ৫০০ কোটি টাকা নিচ্ছে ডাচ-বাংলা’ এই শিরোনামে বাংলানিউজে প্রকাশিত খবরটি নিয়ে অনলাইন পাঠকদের ব্যাপক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। মাহমুদ হাসান নামের একজন পাঠক তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন উপরের কথাগুলো।
কয়েক হাজার পাঠক ই-মেইলের মাধ্যমে ফেসবুক লিংকে তাদের প্রতিক্রিয়া পাঠান বাংলানিউজকে। কিম্মিয়া সায়দাত নামের একজন পাঠক তার দীর্ঘ বিরক্তির কথা জানিয়ে লিখেছেন ডিবিবিএল এর কার্ড ফেলে দিতে যাচ্ছেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংক এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ কেনো নিচ্ছে না সে প্রশ্নও তোলেন এই পাঠক। দীপ্ত পিয়াল নামের একজন পাঠক ডাচ-বাংলার বিরুদ্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ আনেন। রাহুল আলম লিটন নামে একজন পাঠক গ্রাহকের কেবল ৫০ লাখ টাকা নিয়ে নিচ্ছে ডাচ-বাংলা ব্যাংক এমন তথ্যে সন্তুষ্ট নন, তার মতে এ অংক আরও অনেক বেশি। আবদুল্লাহ আল রায়হান নামে একজন ভুক্তভোগী পাঠক অন্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে লিখেছেন- আপনারা কেউ এই ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট করবেন না, দয়া করে। তার এই আহবানে সাড়া দিয়ে লাইক দিয়েছেন অনেক পাঠক। সৈকত রায় নামে আরেক পাঠকতো ঘোষণাই দিয়েছেন ডিবিবিএল বর্জনের। তিনি অন্যদের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন- লেটস অ্যাভয়েড ডিবিবিএল। এ বক্তব্যেও লাইক পড়েছে প্রচুর। একই ধরনের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন রাজিব দাশ রুপম ও এনামুল সিরাজি।
ইনাম উস শাকুর নামের একজন পাঠক ও ডাচ-বাংলার গ্রাহক বিষ্ময় প্রকাশ করে লিখেছেন- তাই নাকি! লুকায়িতো অনেক চার্জ আছে যা আমাদের কে জানানো হয় না, আর ব্যাংক স্টেটমেন্ট একবার ব্যাংক থেকে পাঠানোর কথা থাকলেও নিজে গিয়ে আনতে হয় আবার চার্জ ও কাটে অনেক। এতো ফাজিল হয়েছে ডাচ বাংলা ।
মাসুদুল হক মাসুদ নামে এক গ্রাহক-পাঠক লিখেছেন, সবাইকে এর তীব্র প্রতিবাদ করে রুখে দাঁড়াতে হবে। সিরাজুম মুনির নামে এক ছাত্র লিখেছেন, ছাত্রদের অ্যাকাউন্টের জন্য ৫০০ টাকা ডিপোজিট নেওয়া হয়, স্যালারি অ্যাকাউন্টের জন্যও তাই। এ তথ্য তুলে ধরে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের কার্যক্রমে নিজের বিষ্ময় প্রকাশ করেন মুনির।
স্ম্ররাট বাবর নামে এক পাঠক বললেন, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথে টাকা থাকে না।
এটি একটি বিড়ম্বনা। গ্রাহক তার জরুরি প্রয়োজনেই এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে যান। সে সময়ে যদি মেশিন টাকা দিতে না পারে তাহলে অনেককেই বিপদে পড়তে হয়।
ফরিদ উদ্দিন নামে আরেক পাঠক ব্যাংকটির এই আচরণকে ডাকাতির সঙ্গে তুলনা করে এব্যাপারে সরকারের ভূমিকা নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। কামাল হোসেন নামে একজন পাঠক মত দিয়েছেন, গ্রাহকের টাকায় ডাচ-বাংলা কোনোভাবেই ব্যবসা করতে পারেনা।
এর আগে রোববার প্রকাশিত খবরে বলা হয়, গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত প্রায় ৫০০ কোটি টাকা তুলে নিচ্ছে ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড (ডিবিবিএল)। ব্যাংক হিসাবে সর্বনিম্ন জমার পরিমাণ বাড়িয়ে ব্যাংকের হিসাবধারীদের কাছ থেকে এই অর্থ তুলে নেওয়া হচ্ছে। গ্রাহকদের বিভিন্ন ধরনের হিসাবের ক্ষেত্রে ন্যুনতম জমার (ডিপোজিট) পরিমাণও বাড়িয়েছে ব্যাংকটি।
সঞ্চয়ী হিসাবের ন্যূনতম জমা (ডিপোজিট) ৫০০ থেকে বাড়িয়ে দুই হাজার টাকা এবং চলতি হিসাবের ন্যূনতম জমা দুই হাজার থেকে বাড়িয়ে পাঁচ হাজার টাকা করা হয়েছে। আর এভাবেই ব্যাংক অতিরিক্ত ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে ব্যাংকটি। জানানো হয়েছে আগামী জুলাই মাস থেকে এই হার কার্যকর হচ্ছে।
আরও প্রতিক্রিয়া
এদিকে, বাংলানিউজে সোমবারের রিপোর্টটি প্রকাশিত হওয়ার পর নূর আলম জিকু নামের আরেক পাঠক ই-মেইল বার্তায় বাংলানিউজে তার মতামত জানান। তিনি বলেন, যে কেউ ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গীর হলে এ ধরনের প্রতারণামূলক ব্যাংকিংয়ের কবল থেকে সরে আসা উচিত। কেউ যদি এর প্রতিবাদ না করেন তাহলে একদিন ব্যাংকটি অযথা অযুহাত দেখিয়ে আমাদের অ্যাকাউন্ট থেকে তাদের ইচ্ছেমতো অর্থ কেটে নেবে। ডাচ-বাংলা ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট থাকলে সার্ভিস চার্জ ও অন্যান্য খাতে অর্থ কেটে নেওয়া হয় আর তা মেনে নিতে আমরা বাধ্য হই। ব্যাংকটি ন্যুনতম সেভিংস ব্যালান্স ৫০০ থেকে ২০০০ টাকা করা হচ্ছে। বিষয়টি খুবই কষ্টদায়ক। তারা পূঁজিবাজার থেকে তাদের মূলধন বাড়াড়ে পারে। কিন্তু তারা আমাদের মতো গ্রাহকদের ওপর চড়াও হচ্ছে। এটি জঘন্য অপরাধ। তাদের এমন কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত। তাদের বাস্তবতা ও অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের মনমানসিকতা বুঝে কাজ করা উচিত। এ কাজ করতে গিয়ে তারা কারো মতামতও যাচাই করে দেখেনি। স্বৈরাচারীভাবে তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। আমি এ অপরাধীদের ঘৃণা করি। আমি মনে করি সকলেরই ৩০ জুনের আগেই এই ব্যাংক থেকে অ্যাকাউন্ট সরিয়ে অন্য ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলা উচিত।
বাংলাদেশ সময় ১৬০৫ ঘণ্টা, জুন ১৮, ২০১২
এমএমকে- menon@banglanews24.com