 |
ঢাকা: ৫০ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট পদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ইকুয়েডরের বামপন্থি নেতা রাফায়েল কোরেয়া। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ডানপন্থি দলের প্রার্থীকে হারিয়ে তিনি তৃতীয় বারের মতো জয়লাভ করেন।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাজধানী কুইটোয় সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে কোরেয়া বলেন, “বিপ্লবের প্রতিশ্রুতি পূরণে আমরা আরও চার বছর সময় পেলাম।”
২০০৭ সালে প্রেসিডেন্ট পদে প্রথমবার নির্বাচিত কোরেয়া দেশটিতে কয়েকদশক ধরে চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা কাটিয়ে উঠতে পদক্ষেপ নেওয়ায় ফের জয়লাভ করেছেন বলে দাবি করছেন তাঁর সমর্থকরা।
কোরেয়ার দলীয় সমর্থকদের দাবি, ৪৯ বছর বয়সী এই অর্থনীতিবিদ নিজের দক্ষতা বলে দেশটির উন্নয়নকাজ চালিয়ে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও বেসরকারি মিডিয়ার অপপ্রচার কার্যত নস্যাৎ করে দিয়েছেন। সংহত করেছেন নিজের অবস্থান।
কোরেয়ার বামপন্থি সমর্থকরা আরও দাবি করেন, আগের ৬ বছরের শাসনকালে স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্র ও শিক্ষাক্ষেত্রের সুযোগ সুবিধার ব্যাপক প্রসার করেছেন কোরেয়া। পুনর্নির্মাণ করেছেন কয়েকহাজার মাইলের মহাসড়ক। তৈরি করেছেন কর্মক্ষেত্র। দারিদ্র্যসীমা কমিয়ে এনেছেন বিস্ময়করভাবে।
দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক ফলাফল মতে, ৫৬.৬ শতাংশ ভোট পেয়েছেন এই সমাজবাদী নেতা। অন্য দিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা গুইলার্মো লাসো পেয়েছেন মাত্র ২৪ শতাংশ ভোট। আর অন্যান্য প্রার্থীরা গড়ে ৫ শতাংশের বেশি ভোট পাননি।
কোরেয়ার ৪০ শতাংশ ভোট প্রাপ্তি নিশ্চিত হওয়ার পর নির্বাচন কাউন্সিল প্রধান বলেন, চূড়ান্ত ফলাফল খুব বেশি পার্থক্য গড়তে পারবে না অর্থাৎ কোরেয়াই নির্বাচিত হয়েছেন।
প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা পর প্রেসিডেন্ট ভবনের ব্যালকনি থেকে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে কোরেয়া বলেন, “জনতার এ বিপ্লব কেউই স্তব্ধ করতে পারবে না। কোনো উপনিবেশবাদী ইকুয়েডরের ক্ষমতায় আসতে পারবে না।”
তবে, ডানপন্থি বিরোধীরা কোরেয়াকে স্বৈরশাসক দাবি করে বলছেন, বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে নির্বাহী বিভাগ সবক্ষেত্রই নিজের মিত্রদের বসিয়ে ইকুয়েডরের সর্বময় ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছেন কোরেয়া।
বিরোধীদলগুলোর দাবি, সমালোচনা সহ্য করতে না পেরে টেলিভিশনের টকশো বন্ধ করে দিয়েছেন কোরেয়া। কর বৃদ্ধির মাধ্যমে নাগরিকদের পরিবহন সুবিধা সীমিত করে দিয়েছেন। আর সরকারি ব্যয়কে নিয়ে গেছেন অনির্দিষ্ট গন্তব্যে।
তবে সমর্থকদের মতে, ‘জনতার বিপ্লবে’ প্রেসিডেন্ট হওয়া কোরেয়া দক্ষিণ আমেরিকার অন্যান্য বামপন্থি নেতার মতোই জনপ্রিয়।
হুগো শ্যাভেজ ও ফিদেল কাস্ট্রোর ঘনিষ্ট মিত্রখ্যাত কোরেয়া ইরান ও চীনের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন করেছেন। তবে তিনি গত বছর উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে লন্ডনের ইকুয়েডরীয় দূতাবাসে আশ্রয় দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্সসহ পশ্চিমা বিশ্বকে হতাশ করে দেন।
বাংলাদেশ সময় : ১১৩৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৩
সম্পাদনা : হুসাইন আজাদ, নিউজরুম এডিটর-eic@banglanews24.com