 |
চট্টগ্রাম: হরতালের কারণে আইনজীবীরা উপস্থিত না হওয়ায় চাঞ্চল্যকর দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার নির্ধারিত কার্যক্রম আজ (সোমবার) অনুষ্ঠিত হয়নি। আদালত আগামী ৩ মার্চ এ মামলার শুনানির পরবর্তী সময় নির্ধারণ করেছেন।
চট্টগ্রামের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এস এম মুজিবুর রহমানের আদালতে সোমবার এ মামলায় বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল একেএম মহিউদ্দিনের জেরা হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে বিচারক উপস্থিত থাকলেও আইনজীবীরা হাজির না থাকায় আদালত বাধ্য হয়ে মামলার কার্যক্রম পিছিয়ে দেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলী ও মহানগর পিপি কামাল উদ্দিন আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, `প্রায় ১৮ বছর আগে চট্টগ্রামে আইনজীবী সমিতি সর্বসম্মত একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যে দলই হরতাল ডাকুক না কেন, আইনজীবীরা আদালতে যাবেনা। এ কারণে হরতাল ডাকলে দেশের অন্যান্য সব আদালতের কার্যক্রম সচল থাকলেও চট্টগ্রাম আদালত বন্ধ থাকে।`
এর আগে রোববার এ মামলায় তিন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এরা হলেন,চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের সাবেক হাকিম কিরণ চন্দ্র রায়, চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো.গোলাম মোস্তফা এবং বন্দর ফাঁড়ির তৎকালীন কনস্টেবল কে এম মহিউদ্দিন।
সাক্ষ্যগ্রহণের পর তিনজনকে আসামীপক্ষের আইনজীবীরা জেরা করেন। তবে কনস্টেবল মহিউদ্দিনের জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় আছে।
এদিকে হরতালের কারণে সাবেক শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১১ আসামিকেও আদালতে হাজির করা হয়নি।
উল্লেখ্য ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) জেটিঘাটে দশ ট্রাক অস্ত্রের চালানটি ধরা পড়ে।
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল থেকে প্রায় সাড়ে তিন বছর অধিকতর তদন্তের পর ২০১১ সালের ২৬ জুন সিআইডি আদালতে দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন।
এরপর ওই বছরের ১৫ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়। ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর থেকে সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিচার।
সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের পর থেকে এ মামলায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক শিল্পসচিব ড. শোয়েব আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব ওমর ফারুক, গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএইফআই’র সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সাদিক হাসান রুমি, বিসিআইসি’র সাবেক চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ইমামুজ্জামান বীরবিক্রম, এনএসআই’র সাবেক পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এনামুর রহমান চৌধুরী, ডিজিএফআই’র সাবেক ডিটাচমেন্ট কমান্ডার কর্নেল (অব) একেএম রেজাউর রহমান, এনএসআই’র সাবেক সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আলী এবং সাবেক সিএমপি কমিশনার এস এম সাব্বির আলী, সিএমপি’র বন্দর জোনের তৎকালীন উপ-পুলিশ কমিশনার আবদুল্লাহ হেল বাকী, সাবেক ডিআইজি (এসবি) শামসুল ইসলাম, সাবেক ডিআইজি (সিআইডি) ফররুখ আহমেদ, সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহমুদুর রহমান, সার্জেন্ট হেলাল উদ্দিন, সার্জেন্ট আলাউদ্দিন, গ্রীণওয়েজ ট্রান্সপোর্টের মালিক হাবিবুর রহমান, ম্যানেজার তসলিম মল্লিক, ট্রাক ভাড়া করার মধ্যস্থতাকারী শেখ আহমদ, হাবিলদার গোলাম রসুল, কর্ণফুলী থানার সাবেক ওসি আহাদুর রহমান এবং সিইউএফএলদর সাবেক প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা মবিন হোসেন খান, বিচারক ওসমান গণি, মো.মাহাবুবুর রহমান, আবু হান্নান ও মুনতাসির আহমেদ, সাবেক মহানগর হাকিম কিরণ চন্দ্র রায়, সিইউএফএল`র উপ ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) গোলাম মোস্তফা, বন্দর ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল কে এম মহিউদ্দিনসহ ২৭ জন ইতোমধ্যে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
বাংলাদেশ সময়:১৮১২ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৮,২০১৩
আরডিজি/টিসি