 |
ঢাকা: নারীর সম্মান রক্ষা করতে গিয়ে চাকরি হারাতে যাচ্ছেন ওয়ান ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা। নিজের অফিসেই যৌন হয়রানির শিকার এক নারী সহকর্মীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য ওই দুই কর্মকর্তাকে চাকুরিচ্যুত করার পাঁয়তারা করছে ওয়ান ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অন্যায়ভাবে ওই দুই কর্মকর্তাকে চাকুরিচ্যুত করার প্রক্রিয়া এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। যেকোনো মুহূর্তে তাদের বরখাস্ত করে চিঠি দেওয়া হতে পারে।
এর বিপরীতে, অফিসে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্তৃক যৌন হয়রানির শিকার হয়ে ওয়ান ব্যাংকের এক নারী কর্মকর্তা চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ওই নারী কর্মকর্তা তারই বিভাগের দুই কর্মকর্তা ওয়ান ব্যাংকের সিনিয়র এক্সকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট রফিকুল ইসলাম এবং এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মাসুমুল গনির দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হন বলে লিখিত অভিযোগ করা হয়। এরই জের ধরে একপর্যায়ে চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।
নারী কর্মকর্তাকে যৌন হয়রানির বিষয়টি তুলে ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ড. আতিউর রহমানের কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন তারই দুই সহকর্মী বদিউল আলম ও আল আমিন। সহকর্মীর সম্মান রক্ষা করতে গিয়ে এখন তাদের চাকরি হারাতে হচ্ছে।
এদিকে, গত ১৩ মে বাংলানিউজে “ওয়ান ব্যাংকে নারীরা নিরাপদ নন” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর ওয়ান ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওই দুই কমকর্তাকে নানাভাবে হয়রানি শুরু করে-- যাতে তারা চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন। কিন্তু তাতে সফল না হয়ে পরবর্তীতে তাদের চাকুরিচ্যুত করার পথ খুঁজতে থাকে ওয়ান ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
ওয়ান ব্যাংক সূত্র জানায়, হয়রানির শিকার নারী সহকর্মীর হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করার পর থেকেই বদিউল আলম ও আল আমিন যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তাদের রোষানলে পড়েন। যাতে তারা চাকরি ছেড়ে চলে যান। বাংলানিউজে প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর তারা আরো ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন।
ব্যাংকের মানব সম্পদ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, বাংলানিউজে খবরটি প্রকাশের পর ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বদিউল আলম ও আল আমিনকে কিভাবে ব্যাংক থেকে বের করে দেওয়া যায় তার পথ খুঁজে বের করতে বলেন মানব সম্পদ বিভাগকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইতোমধ্যেই ওই দুই কর্মকর্তাকে পেছনের তারিখ দিয়ে (ব্যাক ডেট) দু’টি চিঠি দেওয়া হয়েছে। কেন তারা বাংলাদেশ ব্যাংকে ওই নারী সহকর্মীর বিষয়ে লিখিত দিয়েছে তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এটি চাকরির আচরণবিধি লংঘন বলে তাদের জানানো হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ওয়ান ব্যাংকে চাকরির নির্দিষ্ট কোনো আচরণবিধিই নেই। চিঠিটি মে মাসের ৭ তারিখে ইস্যু করে সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু বদিউল আলম চিঠিটি হাতে পেয়েছেন ২৩ মে। আর আল আমিন পেয়েছেন ৩০ মে। চাকরিচ্যুত করার কৌশল হিসেবে ওয়ান ব্যাংক এটি করেছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এমন আশংকা থেকে গত ২৭ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর আবেদন করেছেন বদিউল আলম। এতে তিনি তাকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা অথবা চাকরিচ্যুত করা হবে বলে উল্লেখ করেছেন।
অপরদিকে, যাদের বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীকে হয়রানি করার অভিযোগ সেই রফিকুল ইসলাম ও মাসুমুল গনি বহাল তবিয়তে রয়েছেন ওয়ান ব্যাংকে। তাদের বিষয়ে ব্যাংক কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি। এমনকি বিষয়টি তদন্ত পর্যন্তও করে দেখেনি কর্তৃপক্ষ।
এব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে মৌখিক ভাবে জানতে চাইলে বিষয়টি মিথ্যা ও বানোয়াট বলে ওয়ান ব্যাংকের তরফ থেকে কেন্দ্রিয় ব্যাংককে জানানো হয়েছে।
বদিউল আলম অভিযোগ পত্রে বলেছিলেন, রফিকুল ইসলামের কু-প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় চরম দুর্ব্যবহার, অফিসিয়াল কাজে অসহযোগিতা ও মোবাইলফোনে উত্যক্ত করার অভিযোগ এনে ব্যাংকের এমডি’র কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এক নারী কর্মকর্তা।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন যে, রফিকুল ইসলাম ও মাসুমুল গণি তাকে মোবাইলফোনে উত্যক্ত করার পাশাপাশি অন্য পুরুষ সহকর্মীদের সামনেও কটুক্তি ও হয়রানি করতেন। অশোভন আচরণ করতেন। ওই নারী লজ্জায়-কষ্টে প্রায়ই কেঁদে ফেলতেন এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শেষ পর্যন্ত চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন।
এবিষয়ে জানতে ওয়ান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরমান আর চৌধুরীকে টেলিফোন করলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে টেলিফোন রেখে দেন।
বাংলাদেশ সময়: ১২৩৭ঘণ্টা, ৩১ মে, ২০১২
এসএআর / সম্পাদনা: আহমেদ রাজু, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট