 |
শাহবাগের গণজাগরণ চত্বর থেকে: বছরের শেষ দিকের শীত কিছুটা ভোগাতে চাইলেও শাহবাগের গণজাগরণ চত্বরে আন্দোলকারীরা যেন ঘন কুয়াশার এ শীতকে পাত্তাই দিচ্ছে না।
স্লোগান, গান আর কবিতায় চাঙ্গা করে রেখেছিলেন গত দু’রাতের পুরো শাহবাগ এবং তার আশে পাশের এলাকা।
রাতভর স্লোগান দেওয়া কণ্ঠগুলোতে দৃশ্যত: ক্লান্তি দেখা দিলেও সেখান থেকে ঝরছে অগ্নিঝরা সব স্লোগান। শীতের কারণে কণ্ঠ কিছুটা ম্লান হলেও আন্দোলনের আবেদন কমে নি এতটুকু। তাদের কণ্ঠে ঘৃণা আগের মতই। স্লোগানে প্রতিবাদ জেগে উঠছিল থেকে থেকে।
ঘন কুয়াশাকে উপেক্ষা করে ভোর বেলা থেকেই আন্দোলনকারীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। শীতের পোশাক ছাড়া স্বল্প পোশাকে আসা অনেকে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করেন। অনেকের আবার সেটারও প্রয়োজন হয় না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মিলন জানান, স্লোগানের তালে গলা মেলাতে গিয়ে কখন যে ভোর হয়ে এসেছে বুঝতেই পারিনি। শীতও ধারে কাছে আসতে পারেনি।
অনেকে কুয়াশা ঠেকাতে মাথায় পলিথিন বেধে আন্দোলনের সঙ্গে থেকেছেন। তবু ঘরে ফেরেননি শীত বা কুয়াশার কাছে হার মেনে।
এ বিষয়ে মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘‘আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা অনেক কষ্ট করে, নানা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছেন। তাদের কাছে শীত ছিল না, বর্ষা ছিল না, নাওয়া-খাওয়া ছিল না। আমাদের এ কষ্ট তাদের কাছে কিছুই না। এজন্য এই অল্প শীত বা কষ্ট নিয়ে ভাবছি না। গত সাতদিন ধরে আমি এখানে আছি। থাকবো শেষ পর্যন্ত।’’
ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন দিক থেকে দলে দলে যোগ দিতে থাকে আরো মানুষ। সকালের আলো ফুটতে না ফুটতেই রাতের চেয়ে দ্বিগুন মানুষ জমে যায় শাহবাগে।
অনেকে হাতে করে শাহবাগের রাত জাগা পাখিদের জন্য খাবার, পানি নিয়ে আসেন।
কথা হয় পুরান ঢাকা থেকে আসা রুবেলের সঙ্গে। তিনি কয়েক ব্যাগ খাবার আর পানি হাতে শাহবাগে আসেন।
জানান, ভোর রাতের দিকে চলে গিয়েছিলেন তিনি। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বসে সকালের নাস্তা খেতেই সামান্য খাবার হাতে করে নিয়ে এসেছেন।
তাকে দেখিয়ে হাসতে হাসতে আরেক আন্দোলনকারী দিদার বাংলানিউজকে বলেন, ‘‘এতো ভালবাসা আর উদ্যোম যেখানে সেখানে শীত আর কুয়াশা আমাদের কতটুকুই বা রোধ করতে পারবে, বলুন!’’
বাংলাদেশ সময়: ১১১০ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৩
জেপি/সম্পাদনা: আবু হাসান শাহীন, নিউজরুম এডিটর, সুকুমার সরকার, কো-অর্ডিনেশন এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর