 |
| ছবি: নুর/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: সঙ্গীত বিষয়ক বইটা হাতে নিয়ে পড়ছিলেন। দেয়ালে সাঁটা এলসিডি টিভি মনিটর। সামনের টেবিলে কিছু বই রাখা। পেছনে বুক সেলফ, পাটে পাটে সাজানো বই। সাহিত্য, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, মনিষীদের জীবনী সবই রয়েছে সেখানে। এই কক্ষটিতেই অবসর জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটে আবদুস সাদেকের। বন্ধুদের সঙ্গে তুমুল আড্ডাও হয় এখানে। বৈষয়িক বিষয়ে খুব বেশি আগ্রহ নেই তাঁর। সেজন্য ৬৩ বছর বয়সেই ব্যবসাবাণিজ্য ছেলের হাতে তুলে দিয়েছেন। হকি ফেডারেশন সহ-সভাপতির পদ দিয়েছে তাঁকে। সবার অনুরোধে আবারও হকি মাঠে যেতে হচ্ছে। তাঁর সহধর্মিনী অধ্যাপক ড. নিলুফার সাদেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানি বিভাগ থেকে এবছর জানুয়ারিতেই অবসর নিয়েছেন। স্বামী-স্ত্রীতে দিনগুলো ভালই কাটছে।
আবদুস সাদেক বর্তমান প্রজন্মের কাছে অপরিচিত। কিন্তু ৬০ ও ৭০ এর দশকে তিনি ছিলেন কিংবদন্তি তুল্য ক্রীড়াবিদ। পাকিস্তান জাতীয় দলে হকি খেলেছেন। পূর্ব-পাকিস্তানের অধিনায়ক ছিলেন। বাংলাদেশ থেকে ৭২ সালে ভারত সফরে যাওয়া দলের অধিনায়কও ছিলেন আবদুস সাদেক। প্রথম বিভাগ ফুটবল খেলেছেন। অ্যাথলেটিক্স করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সুদর্শন, মিষ্টভাষী, লাজুক, সদা হাস্যময় এবং বিনয় তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। অসম্ভব ভদ্রলোক হিসেবে পরিচিত এই মানুষটির জীবনের নানা দিক উঠে এসেছে বাংলানিউজের একান্ত সাক্ষাৎকারে। দুই পর্বে সাক্ষাৎকারটি প্রচার করা হবে। প্রথমপর্বে থাকছে খেলোয়াড়ি জীবনের ইতিবৃত্ত।
প্রশ্ন: পাকিস্তান জাতীয় হকি দলে খেলেছেন। বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ছিলেন। পূর্ব পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ দলের অধিনায়কত্ব করেছেন। সেই অভিজ্ঞতাগুলো কতটা মধুর?
আব্দুস সাদেক: আমাদের সময়ে হকি ছিল ৯০ ভাগ শৌখিন। কেউ পয়সা নিয়ে খেলতো না। আমি কোনদিন পয়সার চিন্তাও করিনি। গাটের টাকা খরচ করে মাঠে যেতাম, আনন্দটাও বেশি ছিল, সম্মানও পেয়েছি। কিছু খেলোয়াড় অবশ্য চাকরি করতেন পিডব্লুডি এবং সোনালী ব্যাংকে। আর্থিকভাবে অস্বচ্ছলরাই মূলত চাকরি পেতেন। এককথায় খেলার জন্য তখন সুযোগসুবিধা বলতে কিছুই ছিল না। পূর্ব পাকিস্তান দলে যখন খেলতাম তখন একজন কোচ পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আসতেন। ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপে কম্বাইন্ড স্পোর্টিংয়ে খেলতাম। প্রতাপ (প্রতাপ শঙ্কর হাজরা) দার বাসায় ছিল ক্লাবটা। ওখান থেকে সবাই দল বেঁধে রিক্সায় করে মাঠে যেতাম। আমাদের নাস্তা খাওয়াতেন প্রতাপ দার মা। মাঝে মাঝে স্টেডিয়ামে নাস্তা করতাম। আনন্দটা অনেক বেশি ছিল। এখন খেলোয়াড়দের মধ্যে ওই জিনিসটা দেখি না।
প্রশ্ন: ৭০ সালে পাকিস্তান দল এশিয়ান গেমস চ্যাম্পিয়ন হয়ে এখানে খেলতে এসেছিল। আপনি তখন পূর্ব পাকিস্তান দলের অধিনায়ক। সেই ম্যাচে চ্যাম্পিয়ন দল অনেক কষ্টে জেতে। সেই স্মৃতি মনে পড়ে?
আবদুস সাদেক: আইন পরীক্ষার জন্য পাকিস্তানের পক্ষে এশিয়ান গেমস খেলতে যেতে পারিনি। ৭০ সালে ঢাকায় যে ম্যাচটা হলো পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে সেখানে আমি পূর্ব পাকিস্তানের অধিনায়ক ছিলাম। ওই ম্যাচটা হঠাৎ করেই ঠিক হয়। পাকিস্তান দল ঢাকার ওপর দিয়ে যাবে, তাই একটি ম্যাচ খেলার প্রস্তাব দেয়। তড়িঘড়ি করে একটি দল বানিয়ে ফেলি। দারুণ খেলা হয়েছিল, স্টেডিয়াম ভর্তি দর্শক। যেটা এখন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, ওই মাঠে খেলা হয়। সেখানে পাকিস্তানের সঙ্গে সাংঘাতিক ভালো খেলেও শেষের দিকে ১ গোলে হেরে যাই। পূর্ব পাকিস্তান দলের অন্যতম সেরা একটি ম্যাচ ছিল ওটা।
প্রশ্ন: আপনাদের সময়ে এত ভালো হকি খেলা হতো পূর্ব পাকিস্তানে। কিন্তু বাংলাদেশ হকিতে পিছিয়ে পড়ার কারণ কী?
আবদুস সাদেক: উপমহাদেশের কোন দলই এখন ভালো খেলছে না। পাকিস্তান ৬৮‘র অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন। ৬৮-৭১ সাল পর্যন্ত অজেয় দল ছিল তারা। বিশ্বকাপ জিতেছে ৭১ সালে। ইউরোপে আমি গিয়েছিলাম পাকিস্তান দলের হয়ে। কেউ হারাতে পারেনি আমাদের। সেই পাকিস্তান বিশ্বে এখন সপ্তম। মন্ট্রিল অলিম্পিকের পর হকিতে কৃত্রিম টার্ফের প্রচলন হয়। খেলার নিয়মকানুনেও আসে আমূল পরিবর্তন। খেলাটা অনেক বেশি গতিশীল হয়ে পড়ে। এতে পাকিস্তান এবং ভারত পিছিয়ে যায়। আগে দেখেছি ৩০-৩৫টা দেশ হকি খেলতো। এখন ১০০টারও বেশি দেশে হকি খেলা হয়। আর্জেন্টিনা মহিলা দল বিশ্বকাপ জেতে। হল্যান্ডে ৬০০ টার্ফের মাঠ আছে। পাকিস্তানে ২০-২৫টা, ভারতে ৫০-৬০টা টার্ফ রয়েছে। যদিও ভারত আগের জায়গায় নেই। অথচ অলিম্পিক গেমসের শুরু থেকে ৬০ সালের পূর্ব পর্যন্ত তারা চ্যাম্পিয়ন ছিল। পাকিস্তান ১৯৬০ এ ভারতকে হারিয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়। সেই ভারত ও পাকিস্তান এখন নড়বড়ে। বাংলাদেশ থাকবে কোথা থেকে। এখানে টার্ফ আছে মাত্র দুটো, একটা মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে। আরেকটি বিকেএসপিতে ছেড়াফাটা। গত এক বছরে আমাদের ছেলেরা যেভাবে খেলছে তাতে আমি আশাবাদী।
প্রশ্ন: আপনাদের সময় স্পোর্টস কেমন ছিল?
আবদুস সাদেক: আবাহনীর প্রথম ফুটবল দলের অধিনায়ক ছিলাম আমি। গফুর, আলাউদ্দিন, অমলেশ, সালাউদ্দিনও ছিল ওই দলে। এরা সবাই কমবেশি টাকা পেত। আমি প্রথমেই বলেছি টাকার জন্য খেলিনি। কিন্তু হারুণ (হারুন অল রশিদ-সাবেক এমপি) ভাই আমাকে এক হাজার টাকা দিয়েছিলেন আবাহনীতে খেলার জন্য। আমার খেলোয়াড়ি জীবনে প্রথম টাকা দেন আজাদ স্পোর্টিংয়ের প্রধান রঞ্জিত দাস। পাকিস্তান হকি দলে যখন খেলতে যাই তখন রঞ্জিত দ্যা আমাকে বিমানবন্দরে গিয়ে ৫০০ টাকা দেন। আমি লজ্জা পেয়ে বলি, টাকা দিচ্ছেন কেন? তিনি বলেন,‘তুমি পাকিস্তানে যাচ্ছো সেখানে লাগবে।’ খেলার জন্য জীবনে ওটাই প্রথম টাকা পাওয়া।
প্রশ্ন: ফুটবল না হকি খেলে বেশি আনন্দ পেতেন?
আবদুস সাদেক: ফুটবল আমাকে জোর করেই খেলানো হয়। রঞ্জিত দা আমাকে ফুটবল খেলার জন্য খুব পিড়াপিড়ি করতে থাকেন। ৬৫ সালে প্রথম বিভাগ ফুটবল খেলি আজাদ স্পোর্টিংয়ে। হকি খেলি ৬১ সাল থেকে। আমার মনে আছে খেলার পরে রঞ্জিত দা সন্দেশ, ওভালটিন খেতে দিতেন। ৬৬ সালে ইব্রাহিম সাবের এবং আমি ভিক্টোরিয়ায় খেলতে যাই। কচি ভাই তখন জানতে চাইলেন, আমাদের কত টাকা দিবে। টাকার কথা শুনে আমরা অবাক হই। আমরা তিনদিন পর্যন্ত টাকার কথা বলতে পারিনি। ৬৯ এ খুব ভালো দল করেছিল দিলকুশা। দিলকুশার মালিক হাক্কা আমার জন্য ১০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। ওটাই আমার জীবনের সর্বোচ্চ উপার্জন ফুটবল থেকে। হকি খেলে কোন টাকা পাইনি। চাইও নি। কারণ হকি খেলাটা আমার জন্য খুবই আনন্দের ব্যাপার ছিল।
প্রশ্ন: খেলোয়াড় উঠে আসতো কিভাবে?
আবদুস সাদেক: একটা উদাহরণ দেই। একদিন ম্যাচ খেলতে গিয়ে দেখি ১০ জন খেলোয়াড় আছে। একজন লাগবে। তাকিয়ে দেখি সাব্বির ইউসুফ দাঁড়িয়ে। আমি বললাম, ওই মটু নাম, খেলতে হবে। জার্সি পরিয়ে তাকে নামিয়ে দিলাম এবং সে ফুলব্যাকে খুব ভালো খেললো। পরে পূর্ব পাকিস্তান দলেও খেলেছে। বাংলাদেশ দলে খেলেছে। জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে। সাব্বির খুবই আলসে ছিল। আমাদের জুনিয়র সে দুই তিন বছরের। ওকে সকালে ঘুম থেকে তুলে মাঠে নিয়ে যেতাম। এখন ক্লাব হয়ে গেছে। নিয়ম বদলে গেছে। কনভেন্স দেয়, টিফিন দেয়। ওসব আমাদের সময় ছিল না।
প্রশ্ন: বলছেন উপার্জনের জন্য খেলেননি, সম্মানের জন্য খেলেছেন? মানুষের কাছ থেকে কেমন ভালবাসা পেয়েছেন?
আবদুস সাদেক: সম্মানের জন্যই খেলেছি। এখনও ভালো লাগে পুরনো লোকজনের সঙ্গে দেখা হলে। পরিচয় পাওয়ার পর অনেকে বলে তারা আমার খেলা দেখেছে। এটা একটা বিরাট আনন্দের এই বুড়ো বয়সেও। ওই সময় এরকম মিডিয়া কাভারেজ ছিল না। অবজারভারে কোয়ার্টার পাতা কভারেজ হতো। এখন স্পোর্টসম্যানরা সেলিব্রেটি। কারণ মিডিয়া। টেলিভিশনে সব সময় খেলা দেখাচ্ছে। আগে শৌখিন লোক খেলা দেখতে যেত। টেলিভিশন না থাকলেও ঢাকা স্টেডিয়াম ভরে যেত। এখন টেলিভিশন আছে, তারপরেও আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেট ছাড়া কোন খেলাতেই দর্শক খুব একটা হয় না।
প্রশ্ন: বলছিলেন নিজে খেলে খবরের কাগজে নিজেই রিপোর্ট লিখতেন?
আবদুস সাদেক: বাংলাদেশ টাইমস যখন বের হয় তখন রোফ ভাই বললেন স্পোর্টস রিপোর্টার নেই, তোমাকে স্পোর্টস রিপোর্ট করতে হবে। ৭৪ সালে আমি তখন আবাহনীতে ফুটবল খেলি। হকি এবং ফুটবলে নিজের খেলার রিপোর্ট নিজেই লিখেছি। অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতা। ৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় অবজারভারে ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করেছি স্পোর্টসে।
প্রশ্ন: বিরাট তারকা খ্যাতি পেয়েছেন। মানুষ ভালোবাসতো। সেই খেলা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কতটা কঠিন ছিল?
আবদুস সাদেক: একটা অসম্ভব তৃপ্তি ছিল। দর্শকরা আমার খেলা পছন্দ করতেন। অনেকে বলতেন ভদ্র খেলোয়াড়। ফুটবল হকিতে পরিচ্ছন্ন খেলা খেলেছি। ভালো লাগে যে মানুষ আমার খেলা পছন্দ করতেন। এজন্য কষ্টও স্বীকার করতে হয়েছে। পশ্চিম পাকিস্তানে ক্যাম্পে মাসের পর মাস একা বাঙ্গালি খেলোয়াড় হিসেবে থেকেছি। কিন্তু ৬৯ সালে প্রথম বাঙ্গালি খেলোয়াড় হিসেবে পাকিস্তান দলে সুযোগ পাওয়াটা ছিল বিরাট তৃপ্তির।
প্রশ্ন: একজন খেলোয়াড়ের মৃত্যু হয় দুইবার। খেলা ছাড়ার সময় একবার, দ্বিতীয়বার ইহলোক ছাড়তে হয়। এবিষয়ে আপনার কি মত?
আবদুস সাদেক: তারকা খ্যাতি মানুষের জীবনে কতদিন থাকে। যৌবন শেষ হলে বার্ধ্যক্যের দিকে ধাবিত হয় মানুষ। তখন নানা সমস্যা দেখা দেয়। তখন তারকা খ্যাতির চিন্তা মানুষের থাকে না। আমারও নেই।
প্রশ্ন: বলা হয় ফিল্ম স্টাররা শতাব্দীর পর শতাব্দী বেঁচে থাকে। কারণ তাদের ফিল্ম প্রদর্শনের সুযোগ আছে। কিন্তু একজন খেলোয়াড় অবসর নিলে অতীত হয়ে যায়?
আবদুস সাদেক: ম্যারাডোনা, কার্ল লুইস, মোহাম্মদ আলি তাঁরা দুনিয়াসেরা খ্যাতিমান অ্যাথলিট। আলির বক্সিং হয়তো এখন কেউ দেখেও না। কিন্তু তিনি কিংবদন্তি। এটাই বড় কথা। এখন তো খেলার সঙ্গে টাকাও আছে। মাইকেল জর্ডান এক মৌসুম না খেললে কোটি কোটি ডলার লস করবে। আগে পেশাদার খেলোয়াড়রা অলিম্পিকে অংশ নিতে পারতো না। এখন পেশাদাররাও অলিম্পিক খেলছে। প্রত্যেক খেলায় পেশাদারিত্ব এসেছে।
প্রশ্ন: আপনি প্রচার বিমুখ, কিন্তু কেন?
আবদুস সাদেক: প্রচার করার জন্য আমি খেলিনি। হকি ফেডারেশন আমাকে এখন জোর করে নিয়েছে। ৮২ থেকে ৮৪ সালে হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। তখন আমাকে ব্যবসা বাণিজ্যও করতে হতো। সেজন্য সরে গিয়েছি। এবারও আমার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল না। কিন্তু সবার অনুরোধে এবার থাকতে হচ্ছে। যদিও আমি ফেডারেশনের সব মিটিংয়ে যাইনি। কিন্তু বেশ কিছু খেলা দেখেছি দেশে-বিদেশে। এখন মনে হচ্ছে হকির জন্য কিছু করা দরকার। দুইটা টুর্নামেন্টে খেলা দেখতে গেছি। অনেক পরিচিত জনের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ হচ্ছে। এজন্যও ভালো লাগছে। আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে পরিচয় হলো। আলাপের একপর্যায়ে বেরিয়ে এলো ৬৯ সালে আমরা একে অন্যের বিপক্ষে খেলেছি। উনাদের বাসায়ও গেছি। উনার বাবা তখন স্পেন হকি ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন। উনি দাওয়াত করে খাইয়েছেন। ৪৫ বছর পর এখন আবার টেলিফোনে কথা হয়। ইমেইলে যোগাযোগ হয়। এই জিনিসগুলো ভালো লাগে।
বাংলাদেশ সময়: ১৮১০ ঘণ্টা, ৫ মার্চ ২০১৩
এসএ/এফএইচএম