৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, বৃহস্পতিবার মে ২৩, ২০১৩ ১২:০০ এএম BDST banglanew24
21 Jan 2013   05:26:53 PM   Monday BdST
E-mail this

অপারেশন ইউএসএ: একটি কল্পকথা


আনুশকা মেহজাবিন
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
অপারেশন ইউএসএ: একটি কল্পকথা
ছবি : আনুশকা মেহজাবিন

এক.
রাত ১১টা। লিলির বাসা
ক্রিং ক্রিং (দরজায় কলিংবেল)
লিলি [চোখ কচলাতে কচলাতে] ।। এতো রাতে কে আসতে পারে। মা-বাবাও বাড়িতে নেই: খুলবো কি খুলবো না বুঝতে পারছি না। আচ্ছা কে?”
[মেয়ে] লিলি, আমি।
-আমি কে?
-[বিরক্ত হয়ে] আওয়াজ শুনে বুঝিস না, আমি এমি।
-[দরজা খুলে] ও তুই, এত রাতে এখানে কী?
-আর বলিস না ম্যাদাম লিসা সবসময় অসময়ে কাজ ধরিয়ে দেয়।
-[চোখ কপালে তুলে] কি বলিস, আবার কাজ! একটু আগেই না একটা লোককে বাচাতে এয়ারপোর্টে গেলাম, আবার কী!!
-আরে না, ওসব ছোট কাজ, এবার নাকি অনেক বড় কাজ!
-কি কাজ?
-[বিরক্ত মুখে] আমি কি জানি, বলার জন্যই তো ডেকেছে, সবাই হেডকোয়ার্টারে আছে, তুইও চল।
-ফ্লাইং ডিভাইস এনেছিস?
-হ্যাঁ এনেছি, চল।

দুই.
সবাই ম্যাদাম লিসার সামনে দাড়িয়ে আছে (সবাই বলতে এমি, তামান্না, টুপুর, এমিলি, এশলি আর টিম টুয়েন্টি ফোরের নতুন সদস্য লিলি)
ম্যাদাম লিসা।। তোমাদের বড় কাজটা আগেই বলে দিই, কারণ আমাদের একদম সময় নেই।
টুপুর।। কি কাজ ম্যাদাম?
ম্যাদাম লিসা ।। বারাক ওবামা তোমাদেরকে তার অফিসে ডেকে পাঠিয়েছেন।
এমি ।। কেন ম্যাদাম?
লিসা ।। সে আশঙ্কা করছে যে তাকে কেউ গুম করার চেষ্টা করছে।
এমি ।। কি!
লিসা ।। তোমরা এজন্যে খবর পাওনি কারণ তিনি মিডিয়ায় খবর দেননি।
টুপুর ।। ভাল করেছে ম্যাদাম, আমরা তাহলে যাই, প্লেন রেডি?
এমি ।। হ্যা রেডি, চল।
লিলি ।। দাঁড়া।
টুপুর ।। কি হয়েছে?
লিলি ।। না, ওই মা- বাবাকে একটু খবর দিয়ে আসি।
এমি ।। আচ্ছা যা, তোর জন্য বাইরে ওয়েট করছি। লাগেজ রেডি?
লিলি ।।অলওয়েস রেডি।
টুপুর ।। গুড যা! তাড়াতাড়ি আয়।

তিন.
[নিউইয়র্কে হোয়াইট হাউসে বারাক ওবামার সামনে সব কথাবার্তা বাংলায় ট্রান্সলেট করা হচ্ছে]
বারাক ওবামা ।। হ্যালো, তোমরা ভালো আছো?
এমি ।। হ্যাঁ, আমরা আছি ভাল।
বারাক ওবামা ।। তাহলে লিসা তোমাদের খবর দিয়েছে।
টুপুর ।। হ্যাঁ
বারাক ওবামা ।। আচ্ছা তোমরা আজ রেস্ট নাও কাল কথা হবে, তাছাড়া রাত হয়ে আসছে।
টুপুর ।। থ্যাঙ্ক ইউ
ওবামা ।। তোমরা চাইলে জেট লেগ পিলস নিতে পার।
এমি ।। দরকার নেই ধন্যবাদ, আমরা অভ্যস্ত।
বারাক ওবামা ।। আমার রক্ষী আছে অনেক। তারা আমার সঙ্গে থাকবে। তোমরা তোমাদের কামরায় ফ্রেশ হতে যাও।
এশলি ।। ধন্যবাদ

চার.
[সকালে]
টুপুর ।। এখানে এতো দৌঁড়াদৌড়ি কেন?
নাতাশা ওবামা [ওবামার ছোট মেয়ে] ।। মা-বাবাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
এমি ।। খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা, মানে কি?
মালিয়া [ওবামার বড় মেয়ে] [ফুঁপিয়ে] ।। কাল রাতে ঘুমানোর সময় আমি আর সাশা তাদের রুম থেকে আওয়াজ শুনতে পেলাম। ঝগড়া করছে ভেবে তোয়াক্কা করলাম না। সকালে দেখি তাদের দরজা খোলা আর তারা উধাও।
নাতাশা ওবামা ।। আমি জানি এটা মিট রমনি করেছে।
রমনি ।। কি বলছ তুমি!
মালিয়া ।। আপনি!
রমনি ।। হ্যাঁ আমি, আর নাতাশা কি বলছ তুমি, আমি এসব কেন করব! আমি তো খবর পেয়ে দৌঁড়ে চলে এলাম, আর তুমি কিনা …!!
[রমনিকে থামিয়ে] তামান্না ।। খবর পেলেন মানে, কার থেকে খবর পেলেন?
রমনি ।। কেন প্রেস থেকে।
এশলি ।। প্রেসে খবর চলে গেছে!
টুপুর ।। কে খবর পাঠিয়েছে?
নাতাশা আর মালিয়া ॥ আমরা
টুপুর ।। কেন পাঠিয়েছ?
নাতাশা ।। আমি ভয়ে পুলিশকে ফোন করতে গিয়ে সাংবাদিককে ফোন করে দিয়েছি।
টুপুর [দীর্ঘশ্বাস ফেলে] ।। আচ্ছা সমস্যা নেই।
নাতাশা ।। ও হ্যাঁ, আর এই চিঠিটা।
এমি ॥ কোন চিঠি?
মালিয়া ।। এটি।
টুপুর ।। দাও

চিঠিতে লেখা:
প্রিয় মালিয়া ও নাতাশা,  
তোমাদের ভাইস প্রেসিডেন্টকে বলবে যে ফিলিস্তিনের জায়গা ছেড়ে দিতে এবং ইসরায়েল যেন ফিলিস্তিনের জায়গা ছেড়ে দেয়। নাহলে বাবা মাকে ফিরে পাবে না।
ইতি
এক্স

পুনশ্চ: আর টিম টুয়েন্টি ফোরের কথায় চালাকি করার চেষ্টা করবে না

টুপুর ।। হুমম!!!
মালিয়া ।। এখন?
এমি ।। এটা লাদেন গ্রুপের কাজও হতে।
টুপুরঃ যতক্ষণ না কোনো কিছু প্রুফ হয়, সবার ওপর আমাদের সন্দেহ আছে।
একটা নিস্তব্ধতা নেমে এলো রুমে।
সাশা ।। আমি সিওর এটা ফিলিস্তিনের কাজ।
টুপুর ।।  [মনে মনে] আমার মনে হয়না ফিলিস্তিন নিজের ওপর এতো বড় বিপদ টানবে
তামান্না ।। এখন আমরা কী করবো?
সাশা ।।  আমি অলরেডি আর্মিকে খবর দিয়ে দিয়েছি তারা ফিলিস্তিনের ওপর কিছুক্ষণের মধ্যে হামলা চালাবে ।
টুপুর ।। না! না! তাদের মানা করো এখনই।
সাশা ।। কেন?
টুপুর ।। আমাদের তিন দিন সময় দাও, আমরা একটু ইনভেস্টিগেশন করে নিই। তারপর হামলা করো, আমার মনে হচ্ছে না ফিলিস্তিনের মতো এতো ছোট দেশ এ কাজ করতে পারে ।
সাশা ।। আচ্ছা তোমাদের তিন দিন সময় দেওয়া হলো। তবে এরপর আমরা অনেক বড় হামলা করবো ফিলিস্তিনের ওপর। আর আমার মা বাবার কিছু হলে তোমরা দায়ী হবে।
টুপুর।। [দীর্ঘশ্বাস ফেলে] ঠিক আছে।

পাঁচ.
তামান্না ।। টুপুর, আমি বুঝি না কেন তুমি এতো বড় বিপদ মাথায় তুললে। ওবামার কিছু হলে আমরা শেষ।
লিলি ।। এখন আমাদের কী হবে?
টুপুর ।। শোনো, আমরা আমাদের জীবনের জন্য একটা পুরো দেশকে ধ্বংস করতে পারিনা। আচ্ছা এ খবরটা কে ছড়িয়েছে।
এশলি ।। ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ।
টুপুর ।। এর ওপর নজর রাখতে হবে।
এমি ।। এটা ইম্পসিবল। আমাদেরকে ইসরায়েলে ঢুকতেই দেবে না।
এমিলি ।। দাঁড়াও এফবিআই এজেন্ট মিকি আর্থারের মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে।
টুপুর ।। তার ওপর নজর রাখ।

ছয়.
এশলি [হাঁপাতে হাঁপাতে] ।। ভালো খবর টুপুর। মিকি আর্থারের ওপর নজর রেখে এটা জানা গেছে যে, সে আজ রাতে তার বাসায় একজনের সঙ্গে দেখা করবে।
টুপুর ।। গুড, চল ওর বাড়িতে আজ আমরা তার বাড়িতে সিক্রেট আট্যাক করবো, ইয়েস।

[সেদিন রাতে মিকি আর্থারের বাড়িতে সব কথাবার্তা টেপ করা হচ্ছে]

মিকি আর্থার ।। আমাদের প্ল্যান একদম খুব ভালোভাবে চলছে, কেউ জানেনা যে আমরা প্রেসিডেন্টকে এজন্য কিডন্যাপ করেছি । যেন সব দোষ ফিলিস্তিনের ওপরে যায় এবং সবটুকু জায়গা আমাদের হয়ে যায়। হা! হা!
লোক ।। আস্তে কেউ শুনে ফেলবে। আচ্ছা ওবামা কই?
মিকি আর্থার ।। রুমে।
লোক ।। তাকে মেরেছ টেরেছ নাকি?
মিকি আর্থার ।। জানি।
কথা শেষে তারা বিভিন্ন রকম গল্পগুজব করতে থাকে।

সাত.
পরদিন হোয়াইট হাউসে মিকি আর্থারকে ডাকানো হয়েছে। তার সামনে টেপ এবং ভিডিও চালানো হয় এরপর...
টুপুর ।। তো এখন চুপচাপ বলে দাও ঘটনা কী?
মিকি আর্থার [নির্দ্বিধায়] ।। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ অপহরণের মূল কাজটি করে, যাতে ফিলিস্তিনের ওপর দোষ চাপানো যায়। এতে ফিলিস্তিনের মুসলমানেরা বিশ্বব্যাপী চাপের মুখে পড়বে এবং তাদের মুক্তি আন্দোলন বাধাগ্রস্ত হবে।
তামান্না ।। আচ্ছা এখন তাড়াতাড়ি প্রেসিডেন্টকে ফিরিয়ে দাও।
[মিকি আর্থারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় প্রেসিডেন্ট ও মিশেল ওবামা উধাও এবং সঙ্গে সঙ্গে একটি কালো গাড়িকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়]
টুপুর ।। তাকে ফলো করো!

[ফলো করতে করতে গাড়িটি এক জায়গায় থামে। একটি হেলিকপ্টার এসে পুরো গাড়ি নিয়ে চলে যায়। গাড়ির ভেতর সবাই টুপুরের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করতে থাকে]

টুপুর ।। এটা আমাদের হেলিকপ্টার। এটি তাদেরকে হোয়াইট হাউসে থামাবে, যেখানে আমাদের এজেন্টরা তাদের অ্যারেস্ট করবে।

[সবাই হোয়াইট হাউসে ফিরে যায় সেখানে দেখা যায় দুজনকে অ্যারেস্ট করা হয়েছে এবং মিশেল ও বারাক ওবামা দাড়িয়ে আছে, মালিয়া ও নাতাশা মা বাবাকে ফিরে পেয়ে তাদেরকে জড়িয়ে ধরে]

এ খবর সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে ও সারা পৃথিবীতে নিন্দার ঝড় ওঠে। সবাই ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন করে, আমেরিকা তাদের ভুল বুঝতে পারে এবং ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সমর্থন করে।

প্রেসিডেন্ট ওবামা ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেন এবং জাতিসংঘে নিরাপত্তা পরিষদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করেন। যেখানে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। এতে ফিলিস্তিন সহ সমগ্র বিশ্বের মুসলমানদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।
 
মাসখানেকের মধ্যে ফিলিস্তিনি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে মাহমুদ জামাল ফিলিস্তিনি জনগণের ভোটে প্রথম স্বাধীন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন। তাকে আমেরিকায় আমন্ত্রণ করা হয়। তিনি এবং প্রেসিডেন্ট ওবামা শুভেচ্ছা করেন। সারা বিশ্বে খুশির কান্না বয়ে যায়।

টিম টুয়েন্টি ফোরের এখন বাংলাদেশে ফিরে যেতে হবে। তারা বাংলাদেশি হবার জন্য গর্ব বোধ করে।  

বাংলাদেশ সময়: ১৬০০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২১, ২০১৩
সম্পাদনা: আসিফ আজিজ, বিভাগীয় সম্পাদক, ইচ্ছেঘুড়ি- ichchheghuri@banglanews24.com

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
VISA Center Inc
Holy Hajj BD
RehabHousing.com

ইচ্ছেঘুড়ি

8877
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান