 |
| ছবি : জীবন আমীর /বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
গণজাগরণ চত্বর থেকে: বৃষ্টি ওদের দমাতে পারেনি, বরং উদ্যম বাড়িয়েছে কয়েক গুণ। বৃষ্টি মাথায় নিয়ে চলছে স্লোগান। তারুণ্যের উচ্ছ্বাসের কাছে হার মেনেছে বৃষ্টিধারা।
রোববার বিকেলে শাহবাগের গণজাগরণ চত্বরে গণআন্দোলনের ত্রয়োদশতম দিনে অঝোর ধারায় বৃষ্টি শুরু হলে তরুণদের উচ্ছ্বাস আরও বৃদ্ধি পায়। বৃষ্টি আর স্লোগানে এখন একাকার গণজাগরণ চত্বর।
শাহবাগের আকাশে বেলা ১১টার পর থেকেই ছিল গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। দুপুর গড়িয়ে বিকেলে তা বাড়তে থাকে। সঙ্গে শুরু হয় হিমেল হাওয়া। বৃষ্টি ও হিমেল হাওয়ায় তারুণ্যের তেজ বেড়ে যায় কয়েক গুণ।
বসন্তের প্রথম বৃষ্টি যেন আন্দোলনকারীদের কাছে একটি উপভোগ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেক ছাত্র ও তরুণকে গায়ের জামা খুলে নেচে গেয়ে মেতে থাকতে দেখা গেছে মঞ্চের কাছে। সমান তালে চলেছে স্লোগানও।
বৃষ্টিতে কিছুটা সুযোগ পেয়ে অনেকে চলে গেছেন একেবারে মূল মঞ্চের কাছে। মূল মঞ্চের কাছে যেতে পারাটাও ছিল তাদের কাছে একটি সুযোগ।
রাজধানীর দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র মামুন বাংলানিউজকে বলেন, ‘‘কয়েক দিন ধরেই আসছি শাহবাগে। কিন্তু মূল মঞ্চের কাছে যেতে পারিনি। মূল মঞ্চের কাছে যাওয়ার জন্য মনটা ব্যাকুল ছিল। আজ সেই সাধ পূরণ হয়েছে।’’
মামুন জানান, তারা শতাধিক শিক্ষার্থী রোববার অংশ নিয়েছেন গণআন্দোলনে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত করে তুলছেন শাহবাগের আকাশ। বৃষ্টি তাদের কাছে বাধা নয়, উপভোগ্য বিষয়।
ওই কলেজের ছাত্র মঞ্জুর আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, “বৃষ্টি কোনো ব্যাপার না। দাবি আদায় হলো কি না সেটাই মূল বিষয়।”
মঞ্জুর জানান, বাবা-মায়ের সম্মতিতেই তিনি এ গণআন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন। যতোদিন আন্দোলন চলবে, প্রতিদিনই অংশ নেবেন তিনি।
এদিকে, সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে জনসমাগম। তবে বৃষ্টির কারণে অন্যান্য দিনের তুলনায় এ সংখ্যা কিছুটা কম।
কাদের মোল্লাসহ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগের গণজাগরণ চত্বরে চলমান গণআন্দোলনের ১৩তম দিন রোববার। গণআন্দোলনের ঢেউ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে প্রবাসেও। নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ এ দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করছেন। প্রতিদিনই বাড়ছে এ গণজোয়ারে আসা মানুষের সংখ্যা।
কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন সাজার রায় প্রত্যাখ্যান করে গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শাহবাগ মোড়ে এ বিক্ষোভের সূচনা করে ব্লগার ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ফোরাম। এরপর বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ আন্দোলনে যোগ দেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় মহাসমাবেশ। ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় জাগরণ সমাবেশ। উভয় সমাবেশেই যোগ দেন লাখো জনতা। এছাড়া সারা দেশ জুড়ে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩ মিনিটের স্তব্ধতা কর্মসূচি, মোমবাতি প্রজ্জ্বলন এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার কর্মসূচি।
শুক্রবার রাতে ব্লগার রাজীব শিবির ক্যাডারদের হাতে শহীদ হওয়ার পরে গণআন্দোলন আরো বেগবান হয়েছে। শোককে শক্তিতে পরিণত করে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ লড়াই চলবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
বাংলাদেশ সময়: ১৯৪৩ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৩
ইএস/এমআইএইচ/ সম্পাদনা: আসিফ আজিজ, নিউজরুম এডিটর ও অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর- eic@banglanews24.com