 |
চাঁদপুর: কুষ্টিয়া জেলায় খুন হওয়া ঢাকা মহানগর বিএনপির ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সচিব মো. রফিকুল ইসলাম মজুমদারের গ্রামের বাড়ি শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের চণ্ডীপুর মজুমদার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয় স্বজন আর পাড়া প্রতিবেশিদের আহাজারিতে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে এ এলাকায়।
তার গ্রামের বাড়িতে হাজারও মানুষের ঢল নেমেছে। রফিকের লাশ এক পলক দেখা ও জানাজায় শরিক হতে অপেক্ষায় আছে এলাকাবাসী। রফিকের বাড়িতে অপেক্ষার প্রহর গুণছেন স্বজনরা।
সোমবার বিকেল সোয়া ৫টা পর্যন্ত রফিকের লাশ তার গ্রামের বাড়িতে না পৌঁছালেও পরিবারের লোকজন ও আশেপাশের হাজারও মানুষকে শোকাহত হয়ে আহাজারি করতে দেখা গেছে। তিনি এলাকার লোকজনের কাছে ছিলেন একজন দানশীল ও পরোপকারী।
রফিকের স্ত্রী আয়শা বেগম ঝরা বাংলানিউজকে বলেন, “র্যাবই আমার স্বামীকে হত্যা করেছে।” ঝরা এই খুনের জন্য সরকারকে দায়ী করেন এবং এর সুষ্ঠ বিচার দাবি চান।
রফিকের বোন মাজেদা, সাজেদা, রওশন আরা ও নুরজাহান বেগম জানায় কাঁদতে কাঁদতে বারবার মুর্ছা যাচ্ছেন।
রফিকুলের বৃদ্ধ বাবা মনিরুজ্জামান মজুমদার শোকে বার বার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। তিনি এমনিতে শারীরিকভাবে খুব অসুস্থ। কাঁদতে কাঁদতে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছেন। সাংবাদিক এসেছে শুনে কোনো মতে ঘুম থেকে উঠে ছেলে হত্যার বিচার চাইলেন সরকারের কাছে।
রফিকের মা সুফিয়া বেগম ছেলে হত্যা বিচার চাওয়া ছাড়া আর কিছুই বলতে পারলেন না। শুধু একটাই কথা বিচার চাই, বিচার চাই বিচার চাই............।
এলাকাবাসী গোলাম মোস্তফা, সোহাগ মিয়া বাংলানিউজকে জানান, তিনি দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে খুব ভালো মানুষ ছিলেন। তাকে হারিয়ে এলাকার মানুষ একজন ভালো মানুষকে হারালো।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা) রফিকের লাশ বাড়িতে এসে পৌঁছেনি। রাত ৮টার দিকে লাশ পৌঁছাতে পারে বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছে রফিকের পরিবার।
বাংলাদেশ সময়: ১৯০৭ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৭, ২০১৩
সম্পাদনা: প্রভাষ চৌধুরী, নিউজরুম এডিটর