 |
চট্টগ্রাম: জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ৪ ভাগে ভাগ হয়ে কর্মসূচি পালন করেছে চট্টগ্রাম মহানগর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি।
আলাদাভাবে পালিত এসব কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক গাজী শাহজাহান জুয়েল।
বুধবার দুপুরে নগর বিএনপির দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবন থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে রাঙ্গুনিয়া জিয়াউর রহমানের প্রথম মাজারে ফুল দিতে যান নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অন্যদিকে দুপুর ১টার দিকে নগরীর দুই নম্বর গেট বিপ্লব উদ্যানে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ফুল দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান। এরপর বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এএম নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আলাদা কর্মসূচি পালন করেছেন।
দক্ষিণ জেলা বিএনপি সভাপতির নেতৃত্বে নগরীর সিলভার প্যালেস কমিউনিটি সেন্টারে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করে। এ উপলক্ষে কোরানখানি, মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
দক্ষিণ জেলা বিএপির সভাপতি জাফরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান প্রধান অতিথি ও নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থি থাকার কথা ছিল।
এতে আবদুল্লাহ আল নোমান যাননি। তবে এ আলোচনা সভায় নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী যোগ দিয়েছেন।
অন্যদিকে দক্ষিণ জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল স্বেচ্ছাসেবক দলের ব্যানারে নগরীর কিশলয় কমিউনিটি সেন্টারে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবাষির্কী উপলক্ষে মেজবান ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।
ওই অনুষ্ঠানে আবদুল্লাহ আল নোমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
নগর বিএনপিতে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান দুটি ধারায় বিভক্ত। একইভাবে দক্ষিণ জেলা বিএনপিতেও দুটি ধারা রয়েছে।
একটির নেতৃত্বে আছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপি সভাপতি জাফরুল ইসলাম। অন্যটিতে সাধারণ সম্পাদক গাজী শাহজাহান জুয়েল।
দলীয় এক সূত্র জানায়, দক্ষিণ জেলা বিএনপি সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত। তাই ওই অনুষ্ঠানে আবদুল্লাহ আল নোমানকে প্রধান অতিথি করা হলেও তিনি অনুষ্ঠানে যোগ না দিয়ে সাধারণ সম্পাদকের অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
সভাপতি জাফরুল ইসলাম বলেন, ‘সাধারণ সম্পাদক অনুষ্ঠান পালন করছেন কি না তা আমার জানা নেই।’
জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা সাধারণ সম্পাদকের কাজ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘উনি তো কখনো জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী পালন করেননি।’
এ বিষয়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান জুয়েল বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমাদের মধ্যে পক্ষ-বিপক্ষ নেই। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী বিচ্ছিন্নভাবে পালন হতে পারে। আমরা কারো বিপক্ষে নয়।’
এদিকে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় নগর বিএনপির দলীয় কার্যালয় নসিমন ভবনে আলোচনা সভা আয়োজন করে বিএনপি।
ওই অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান যোগ দেবেন কি না জানতে চাইলে নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, ‘অনুষ্ঠান তো সবার জন্য উন্মুক্ত। চাইলে যে কেউ যোগ দিতে পারেন। এখানে তো কেউ মেহমান নয়। উনি (আবদুল্লাহ আল নোমান) যদি চট্টগ্রামে থাকেন তাহলে হয়তো আসতে পারেন।’
আবদুল্লাহ আল নোমানের ব্যক্তিগত সহকারী নুরুল আজিম হিরু বাংলানিউজকে জানান, বুধবার রাতেই আবদুল্লাহ আল নোমান ঢাকার উদ্যেশ্যে চট্টগ্রাম ত্যাগ করবেন।
বাংলাদেশ সময়: ২১২০ ঘণ্টা, মে ৩০, ২০১২
এমইউ/ সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর