 |
ঢাকা: সাদ্দাম হোসেন। বয়স মাত্র ৫ বছর। বাবা গফুর পেশায় ট্রাক চালক। মা নাজমা আক্তার ৩ বছর আগে সন্তানকে ফেলে অন্য একজনের সঙ্গে সংসার গড়েছেন। বাসা পশ্চিম নাখালপাড়া রেলগেট এলাকায়।
সাদ্দামের মা বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার পর ছোট এ শিশুকে নিয়ে মহাবিপাকে পড়েন বাবা গফুর। কারণ তিনি সারাদিন পেশার তাগিদে বাড়ির বাইরে থাকেন। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নেন ২য় বিয়ে করবেন। যেমনি চিন্তা তেমনি কাজ। কিছুদিনের মাথায় তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
এরপর বাড়িতে নতুন বউ। কিছুদিন সাদ্দামকে খুব আদর যত্নে ভরপুর করে রাখেন নতুন মা। এভাবে কিছুদিন চলার পর আস্তে আস্তে কেমন জানি অনিহা চলে আসে সাদ্দামের প্রতি। এর কিছুদিন পরেই সাদ্দামের মায়ের কোল জুরে আসে আরেক ভাই। তখন সাদ্দামের বয়স ৪ বছর। সাদ্দামের ছোট ভাইয়ের সেবা যত্ন করতে গিয়ে আস্তে আস্তে সাদ্দামের ভাগের আদর যত্ন কমতে থাকে।
এখন আদর যত্নের তো কোনো নামই নেই। বরং সাদ্দাম এখন কোথায় থাকে, কি খায়, কখন বাড়িতে ফিরে কোনো খোঁজই রাখেনা তার মা?
শনিবার রাত ৮টায় মহাখালী নাখালপাড়া রেলগেট এলাকায় মাছের বাজারে বেশ কিছুক্ষণের আলাপচারিতায় বাংলানিউজের এ প্রতিবেদককে খুব আপসোসের সঙ্গে কথাগুলো বলে সাদ্দাম। এ সময় অবুঝ ওই শিশুটির চোখে পানি চলে আসে। তবে মুহূর্তের মধ্যে মুখে হাসি ফুটে ওঠায় নিমিষেই কান্নাটা গায়েব হয়ে যায়।
সাদ্দাম এখন প্রতিদিন বিকেলে নাখালপাড়া মাছের বাজার মাছ পরিষ্কার করে। একাজের বিনিময়ে সে কোনোদিন ৩০, কোনোদিন আবার ৪০ টাকা পেয়ে থাকে। টাকা আয় করে ঠিকই, কিন্তু খরচের রাস্তা খুঁজে পায়না অবুঝ এ শিশু। তাই প্রতিদিনের আয়ের টাকাটা সে তার মাকে দিয়ে দেয়।
স্কুলে কেন যাও না, জানতে চাইলে সাদ্দাম জানায়, স্কুলে কিভাবে ভর্তি হবো, আমিতো জানিনা। আমার বাবা সারাদিন বাইরে থাকে। আমাকে কেউ স্কুলে নিয়ে যায়না। মাকে অনেক দিন বলেছি আমিও স্কুলে যাবো, আমাকেউ স্কুলে নিয়ে যাও। আমার মা বলেছেন, পড়ালেখা করে নাকি কেউ বড় হয়না। এরপর থেকেই কাজ করি।
ওই মাছের বাজারে শুধু সাদ্দাম নই, তার মতো প্রায় অর্ধশতাধিক ৫ থেকে ৬ বছরের শিশু মাছ পরিষ্কারের কাজে ব্যস্ত। হয়তো প্রত্যকের জীবনে সাদ্দামের মতোই কোনো না কোনো ছোটখাটো ঘটনা রয়েছে। অথচ ঘটনাগুলো খুব বড় কিছু নয়। অভিভাবকহীনতার কারণে সাদ্দামের মতো শিশুরা অল্প বয়সেই জীবন সংগ্রামে নেমে পড়ছে। অথচ সরকারিভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও বাস্তবে ঘটছে এর উল্টোটা।
কোনো সরকারই এসব শিশুদের নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করছেনা। করলেও সেগুলো মাত্র লোক দেখানো।
বাংলাদেশ সময়: ০১৩৪ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৬, ২০১২
সম্পাদনা: এমএএস