 |
ঢাকা : ওয়ান ব্যাংকের এক নারী কর্মকর্তা যৌন হয়রানির কারণে শেষ পর্যন্ত চাকরি ছাড়তে বাধ্য হলেন। লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লোন রিকভারি ডিপার্টমেন্টের ওই কর্মকর্তা তার ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তার যৌন হয়রানির শিকার হয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অনেকটা নিরুপায় হয়েই তাকে চাকরি ছেড়ে দিতে হলো। তবে বহাল তবিয়তে রয়েছেন অভিযুক্তরা। ওই নারী কর্মকর্তাকে ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (ইভিপি) এম রফিকুল ইসলাম এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (এভিপি) মাসুমুল গণি হয়রানি করতেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকসহ ওয়ান ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদের কাছে ওই নারী কর্মকর্তার একজন সহকর্মী লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এতে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় ওই নারী কর্মীকে নানাভাবে বাজে প্রস্তাব দিতেন। তাতে সাড়া না পেয়ে ওই নারী কর্মীর শারীরিক বিষয়ে বাজে মন্তব্য, অশ্লীল কথা, কাজে ভুল ধরে বাজে মন্তব্য করতেন। এমনকি তার মোবাইল ফোনেও তাকে উক্তত্য করা হতো। এমনকি অন্য পুরুষদের সামনেও ওই নারীর শারীরিক বিষয়ে নানা কথা বলতেন তারা।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রফিকুল ইসলাম ও মাসুমুল গনির এ ধরনের আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে ওই নারী কর্মী লজ্জায় ও কষ্টে মাঝে মধ্যেই কেঁদে ফেলতেন। এরই ধারাবহিকতায় শেষ পর্যন্ত তিনি চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।
এর আগেও রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে তার বিভাগের অন্য এক নারী কর্মকর্তা যৌন হয়রানির মৌখিক অভিযোগ করেছিলেন।
তবে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিস্পৃহতার কারণে রফিকুল ইসলামের এসব অপকর্মের কোনো ধরনের বিচার হয়নি। বরং যারা অভিযোগ তোলেন তাদেরকে উল্টো বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়।
ওয়ান ব্যাংক সূত্র বলছে, এম রফিকুল ইসলাম ওয়ান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরমান আর চৌধুরীর খুব কাছের।
তিনি ব্যাংকের চেয়ারম্যান সাইদ হোসেন চৌধুরী এবং এম ফরমান আর চৌধুরীর নানা অবৈধ কার্যক্রমের বৈধতা কিভাবে দেওয়া যায় তা নিয়েও কাজ করেন। নানা অনিয়মকে আইনগত বৈধতা দিতেই মূলত রফিকুল ইসলামকে ব্যবহার করেন তারা দু’জন। আর এই সুযোগে প্রতিষ্ঠানে তিনি সবাইকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেও কোনো ফল পাওয়া যায় না। অভিযোগ করে বরং আরো বিপদে পড়তে হয়, নানাভাবে হতে হয় হয়রানির শিকার।
এসব অভিযোগ বিষয়ে জানতে ওয়ান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরমান আর চৌধুরীকে বেশ কয়েকবার টেলিফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি। তার ব্যক্তিগত সেলফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনও জবাব তিনি দেননি অথবা ফোন করেননি। পরে ওয়ান ব্যাংকে টেলিফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এসব বিষয়ে ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলানিউজকে বলেন, “আমরা দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। তবে অভিযোগে ইভটিজিংয়ের কথা বলা নেই। সেখানে ওই নারী কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে অশোভন কথা বলা হতো বলে উল্লেখ করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “আমরা অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিকভাবে অভিযুক্তদেরকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেছি। সার্বিক দিক বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগে বলা হয়েছে, রফিকুল ইসলামের প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় চরম দুর্ব্যবহার, অফিসিয়াল কাজে অসহযোগিতা ও মোবাইল ফোনে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ এনে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন ওই নারী কর্মকর্তা।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন যে, রফিকুল ইসলাম ও মাসুমুল গণি মোবাইল ফোনে উত্ত্যক্ত করার পাশাপাশি তার শারীরিক গড়ন ইত্যাদি নিয়ে অন্য পুরুষ সহকর্মীদের সামনেও কটুক্তি ও হয়রানি করতেন। রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এর আগে ব্যাংকের আরেক নারী কর্মকর্তাও একই অভিযোগ করেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। পরে তার মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওই নারী কর্মকর্তাকে লোন-অ্যাডমিন বিভাগে বদলি করে। রফিকুল ইসলাম বহাল থাকেন তার আগের পদে ও বিভাগেই।
এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, নারী সহকর্মীদের প্রতি রফিকুল ইসলামের অশোভন, অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ আচরণের কারণে অধিকাংশ নারী কর্মীর মাঝেই চরম ক্ষোভ, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা রয়েছে
তাছাড়া রফিকুল ইসলামের কোনো আইনি ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও তিনি লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্সের প্রধান হিসেবে কিভাবে দায়িত্ব পেলেন তা নিয়েও ব্যাংকে রয়েছে নানা প্রশ্ন।
বাংলাদেশ সময়: ১০১৪ ঘণ্টা, ১৩ মে, ২০১২।
এসএআর/
সম্পাদনা : আহ্সান কবীর, আউটপুট এডিটর