 |
| ছবি: শোয়েব মিথুন / বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: আরিফ খান জয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি হয়েও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে খেলার মাঠে গিয়েছেন। তার প্যান্টের ডান পকেটে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে। তাছাড়া নিয়ম ভেঙে বিজেএমসির পরিচালক জয় খেলার সময় ডাগ-আউটে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
জয় শুধু বাফুফের সহ-সভাপতি বা বিজেএমসির কর্মকর্তাই নন, তিনি জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়কও। দীর্ঘ ফুটবল ক্যারিয়ারে তিনি খেলার মাঠকে ‘পবিত্র’ ঘোষণা দিয়েছেন অনেকবার। সেই জয় পকেটে দৃশ্যমান অস্ত্র নিয়ে খেলা চলার সময় মাঠে ছিলেন!
পেশাদার লিগ কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম জয়ের কাণ্ড দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। বাংলানিউজকে তিনি বলেন, “বৈধ অস্ত্র হলেও কেউ তা মাঠে বহন করতে পারে না। আর জয় তো টিম বিজেএমসি এবং বাফুফের কর্মকর্তা। খেলা চলাকালে তার তো মাঠেই যাওয়ার কথা নয়!” বিষয়টি তিনি বাফুফের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সামনে তুলে ধরবেন বলেও জানান।
গত মৌসুমে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বিজেএমসির ম্যাচে ডাগ-আউটে দাঁড়িয়ে রেফারিকে শাসিয়েছিলেন জয়। অন্যদিকে তাদের হোম ভেন্যু টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে আবাহনীর বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালে পা দিয়ে বল আটকে রেখেছিলেন।
মঙ্গলবার ফেডারেশন কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মোহামেডানের বিপক্ষে বিজেএমসির খেলা চলাকালে তিনি অস্ত্র নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন বিরতির সময়। রেফারির কাছে জাবাবদিহিতাও চান। ফিফা রেফারি আজাদ রহমানের কাছে গিয়ে জানতে চান, বিজেএমসির বিপক্ষে কেন বাঁশি বাজাচ্ছেন!
বিষয়টা স্বীকার করেছেন বিজেএমসি পরিচালক আরিফ খান জয়ও। তিনি বলেন, “আমি তো দলের সব ম্যাচে বিরতির সময় মাঠে ঢুকি, ফুটবলারদের ব্রিফ করি। নতুন কিছু না। তাছাড়া বিরতির সময় আমি ম্যাচ কমিশনারকে খুঁজতে গিয়েছিলাম। ম্যাচ কমিশনার না থাকায় রেফারির কাছে জানতে চেয়েছিলাম, তিনি কেন আমাদের বিপক্ষে বাঁশি বাজাচ্ছেন।”
আরিফ খান জয়ের পিস্তল নিয়ে মাঠে ঢোকা প্রসঙ্গে ম্যাচ কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, “ফিফার আন্তর্জাতিক কোন ম্যাচে এ ধরনের ঘটনা দেখিনি। ফিফার নিয়ম মোতাবেক অস্ত্র বৈধ হলেও তা নিয়ে কেউ মাঠে ঢুকতে পারবে না। তবে আমি তাকে পিস্তল নিয়ে মাঠে ঢুকতে দেখিনি। রেফারি তার রিপোর্টে উল্লেখ করলে আমি লিখিতভাবে বাফুফেকে জানাব।”
তিনি জানান, বেসামরিক কোনো ব্যক্তি লাইন্সেস করা অস্ত্র নিয়েও ফুটবল মাঠে প্রবেশ করতে পারে না।
খেলার মাঠে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করা যায় কি না জানতে চাইলে ঢাকা মহারগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল জলিল মন্ডল বলেন, “খেলার মাঠে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ। কারণ আন্তর্জাতিক অলিম্পিক ফেডারেশনের নিয়ম অনুযায়ী খেলার মাঠ একটি সুরক্ষিত স্থান। সেখানে কখনোই অস্ত্রের প্রদর্শন হবে না। তাছাড়া প্রচলিত আইন অনুযায়ী কভার ছাড়া খোলামেলাভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করলে যে কোনো নাগরিকের মনে ভীতির সঞ্চার হতে পারে। সেজন্য অস্ত্রের লাইসেন্স প্রদানের পূর্ব শর্তই হচ্ছে সেটি ডেকে ব্যবহার করতে হবে, যেন কারো মনে ভীতির সঞ্চার না হয়।”
অ্যাড. খুরশিদ আলম খান বলেন, “লাইসেন্স থাকলেই কেউ এরকম ওপেন প্লেসে অস্ত্র নিয়ে যেতে পারে না। যেখানে অনেক লোকের সমাগম হয়, যেমন- স্টেডিয়ামে অস্ত্র নিয়ে যেতে কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগবে।”
আইন করে ডাগ-আউটে নিষিদ্ধ করা হয়েছে বাফুফের নির্বাহী কমিটির সদস্যদের। চলতি বছরে যা বাইলজে অন্তর্ভুক্তও করা হয়েছে। কিন্তু তা মানছেন না বাফুফের কর্মকর্তারা। প্রতি ম্যাচেই তারা মাঠে প্রবেশ করছেন।
বাংলাদেশ সময়: ২১১৮ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৬, ২০১২
এএইচবি/এসএ/সম্পাদনা: সেকান্দার আলী, বিভাগীয় প্রধান স্পোর্টস