ঢাকা : ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলাকে ঘিরে নারী-পুরুষ মিলে ২৩ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এ চক্রটি মেলা থেকে চুরি করার জন্য এক মাসে ১০ হাজার টাকায় দুই শিশুকেও তাদের সঙ্গে রেখেছে। মেলার বিভিন্ন স্টল থেকে নানা ধরনের পণ্য চুরি করাই হলো এই চক্রের কাজ। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে চুরি করা পণ্যও উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ বলছে, মেলা শুরুর ৫ দিনের মাথায় এ ধরনের বড় একটি চক্রকে আটক করার ফলে মেলায় যে চুরির প্রবণতা অনেকটা কমে আসবে।
এ ব্যাপারে শেরে-বাংলানগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মমিন বাংলানিউজকে বলেন, “গ্রেফতারকারীরা বাণিজ্য মেলা থেকে চুরির কথা স্বীকার করেছে। কিভাবে চুরি করতো সেটারও বর্ণনা দিয়েছে। তারা ছাড়া আর কেউ এখানে চুরি করে কিনা সে ব্যাপারেও তথ্য দিয়েছে।”
তিনি বলেন, “গ্রেফতার হওয়া শিশু মাহমুদা ও সুমিকে মেলা থেকে চুরি করার জন্য চক্রটি ১০ হাজার টাকায় চুক্তি করে।”
থানা সূত্র জানায়. গত বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন বাণিজ্য মেলা থেকে চুরির একটি সংঘবব্ধ চক্র ১নং গেটের পূর্ব-দক্ষিণ পার্শ্বে দিল্লি অ্যালুমিনিয়াম প্যাভিলিয়নের সামনের রাস্তাসহ বাণিজ্য মেলার ভিতরে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে চোরাই মাল ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত ২৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এরা হলেন, আখি (২৫), নাজমা আক্তার সীমা (২৫), মোছা. বিউটি আক্তার (২১), আশা (২০), নাজমা (৩৫), মিম (১৮), রেনু (২৫), রুবি (২০), মুন্নি (২৪), সালমা (২২), জোসনা (২২), রাজিয়া (২৪), পলি (২৫), কাজল (১৯), মাহমুদা (১২), সুমি (১২), খোকন (২৫), মো. ইসমাইল (১৮), রুবেল (২০), আকাশ (২৫), মো. মনির (২০), রবি (২৭) ও আলাউদ্দিন (৩৫)।
এদের মধ্যে নাজমা আক্তার সীমার কাছ থেকে একটি কালো রংয়ের ছাপা কাপড়ের ব্যাগে রাখা বিভিন্ন রং এর ৮টি থ্রি পিস কাপড় উদ্ধার করা হয়।
চুরির কৌশল : গ্রেফতারকৃতের বরাত দিয়ে ওসি আব্দুল মমিন বাংলানিউজকে বলেন, “এই চক্রটি কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে মেলার চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। প্রতি দলে এক সঙ্গে ৫ জনের অধিক করে থাকে। এক সঙ্গে সবাই চুরির কাজে অংশ নেয়না তারা। দোকানে প্রবেশের আগেই তারা ঠিক করে নেই কে চুরি করবে। প্রতিটি দলের সদস্যরা এক সঙ্গে একটি দোকানে প্রবেশ করে এবং প্রত্যেকের কাছে একটি করে ব্যাগ থাকে। এরপর ঘুরাঘুরির এক পর্যায়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তি পণ্য নিয়ে ব্যাগে ঢুকিয়ে ফেলে। এক দোকানে চুরি করা হয়ে গেলে দ্রুত তারা জায়গা পরিবর্তন করে ফেলে যেন চিনতে না পারে।”
ওসি আরও জানান, এদের মধ্যে মাহমুদা ও সুমিকে ১০ হাজার টাকায় মাসব্যাপি চুরি করার জন্য চুক্তি করে। এরা বয়সে ছোট বলে সবার নজরের বাইরে থাকবে। এই দুই জন দলের সঙ্গেও থাকে না। এরা আলাদাভাবেই চুরির কাজে অংশ নেয়। গ্রেফতারকৃতদের শুক্রবার বিকেলে আদালতে চালান দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ২৩৫৬ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৫, ২০১৩
আইএ/ সম্পাদনা: মাহাবুর আলম সোহাগ, নিউজরুম এডিটর