ঢাকা: ভিটামিন-এ ঘাটতিজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলায় ভোজ্য তেলে ভিটামিন-এ মেশানোর লক্ষ্যে এরইমধ্যে ২২টি ভোজ্যতেল শোধনাগারের সঙ্গে ১৬ টি শোধনাগারের সমঝোতা চুক্তি সই হয়েছে।
বুধবার শিল্প মন্ত্রণালয়ে খসড়া ভোজ্য তেল ভিটামিন-এ সমৃদ্ধকরণ আইন-২০১৩ এর ওপর সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে আয়োজিত মত বিনিময় সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেণ শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া।
ইউনিসেফ এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইম্প্রুভড্ নিউট্রেশন এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় শিল্প মন্ত্রণালয় এ আইন প্রণয়ন করছে।
শিল্পমন্ত্রী ভোজ্য তেলকে জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর খাদ্য উপকরণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ সংক্রান্ত কোনো আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি। সকল স্টেকহোল্ডারের মতামতের ভিত্তিতে এ আইন চূড়ান্ত করা হবে। এক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যান্য দেশের উত্তম দৃষ্টান্তগুলো অনুসরণ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট শোধনাগারে এরইমধ্যে ১৬টি প্রিমিক্রা ডোজিং পাম্প এবং ১৫ দশমিক ৯ মেট্রিক টন ভিটামিন-এ সরবরাহ করা হয়েছে। ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ ভোজ্য তেল চিহ্নিত করার লক্ষ্যে বোতল বা প্যাকেটে ব্যবহারের জন্য একটি লগোও তৈরি করা হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।
সভায় খসড়া আইনের বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. রিদওয়ানুল হক। এতে অন্যান্যের মধ্যে শিল্পসচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ্, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইম্প্রুভড্ নিউট্রেশন এর বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর বসন্ত কুমার কর, বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশন’র সভাপতি মোঃ ফজলুর রহমান, বিভিন্ন ভোজ্য তেল মিলের প্রতিনিধিসহ শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্তন কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নেন।
সভায় বক্তারা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সকল খোলা ভোজ্য তেলকে বাধ্যতামূলকভাবে বোতল বা প্যাকেটজাত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
তারা বলেন, জনগণের ভিটামিন-এ ঘাটতি মোকাবেলায় আইনসহ সরকারের যে কোনো উদ্যোগের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তবে এ আইন অবশ্যই সকল পক্ষের স্বার্থ সুরক্ষা করে প্রণয়ন করতে হবে। এর ফলে ভোজ্য তেল মিল মালিকরা যাতে কোনোভাবেই অযথা হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে আইনে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা থাকতে হবে।
তারা সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারের সাথে ব্যাপক পরিসরে আলোচনা ও সেমিনার আয়োজন করে আইনটি চূড়ান্ত করার পরামর্শ দেন।
বৈঠকে শিল্পমন্ত্রী সকলের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা, রিফাইনারি মালিক, আইনজীবী, পুষ্টি বিশেষজ্ঞ, ডাক্তার, কেমিস্ট, জনপ্রতিনিধিদের অংশ গ্রহণে দ্রুত একটি সেমিনার আয়োজনের নির্দেশনা দেন।
তিনি কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ভোজ্য তেলসহ অন্যান্য খাদ্যপণ্যে ভেজালের প্রবণতা পরিহার করতে ব্যবসায়িদের প্রতি আহবান জানান।
বাংলাদেশ সময়: ১৭১৯ ঘণ্টা, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩
ইউএম/সম্পাদনা: নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর