 |
ঢাকা: ভুয়া ওয়ারেন্টে আসামি গ্রেফতারে অবর্ণনীয় ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। বিচারকের স্বাক্ষর, সিল, স্মারক নম্বর সবই যে ভুয়া তা বোঝারও উপায় নেই। সেই ভুয়া ওয়ারেন্ট বলে আসামি গ্রেফতার করছে পুলিশ।
এমনই এক ভুয়া ওয়ারেন্টে গ্রেফতার হয়ে সাতদিন ধরে যশোর জেল হাজতে আটক আছেন জেলার কেশবপুর থানার দুই ভাইবোন মোখলেছুর রহমান ও আছমা খাতুন।
তাদের গ্রেফতারের পর ঢাকার পাঠানো মামলার খণ্ড নথিতে দেখা যায়, ঢাকার ৩ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে নিষ্পত্তিকৃত নারী ও শিশু ২১০/১২ নম্বর মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসাবে যশোর জেলার কেশবপুর থানা পুলিশ গত ৭ ফেব্রুয়ারি তাদের গ্রেফতার করে। সেই থেকে তারা জেল হাজতে আছেন।
আসামিদের গ্রেফতারের পর খণ্ডনথি ঢাকায় পাঠানো হলে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান তপন গত ১১ ফেব্রুয়ারি তাদের জামিন ও অব্যাহতির আবেদন করেন।
তিনি বাংলানিউজকে জানান, বিচারকের স্বাক্ষর, সিল, স্মারক নম্বর সবই ভুয়া, এমন একটি ওয়ারেন্টে গ্রেফতার হয়ে তারা অন্যায়ভাবে জেল হাজতে আটক আছেন।
সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিচারক এস এম রেজানুর রহমান মামলার কাগজপত্র পর্যালোচনা ও অনুসন্ধানের পর পরোয়ানাটি জাল বলে নিশ্চিত হন। একইসঙ্গে দায়ী ব্যক্তিদের খুজে বের করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কোতয়ালী থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।
বিচারক তার আদেশে উল্লেখ করেন, ওই গ্রেফতারি পরোয়ানায় এ আদালতের যে মামলার নম্বর দেওয়া হয়েছে তার নিষ্পত্তি হয়েছে গত বছরের ১৪ অক্টোবর। ওই মামলার সব আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে, রমনা থানার ৩৪ (২)০৯ নম্বর মামলাটি মাদক আইনের, নারী ও শিশু আইনের নয়। উক্ত পরোয়ানা ঢাকার ৩ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে ইস্যু করাও নয়। তাদের জাল গ্রেফতারি পরোয়ানায় গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য কোনো মামলায় গ্রেফতার না থাকলে অতিসত্ত্বর তাদের মুক্তি দেওয়ার হোক।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ জুলাই ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থানার ভুলবাড়িয়া গ্রামের মৃত মোতালেব মোল্লার ছেলে মো. শহিদ মোল্লাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে বোয়ালমারী থানা পুলিশ।
ঢাকা সিএমএম আদালতের ১৮৩/১২ নম্বর সিআর মামলায় তাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হওয়ায় গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর দিন ১৪ জুলাই তাদের ফরিদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠান।
যে গ্রেফতারি পরোয়ানা মূলে তাদের বোয়ালমারী থানা পুলিশ গ্রেফতার করে তাতে দেখা যায়, ঢাকা সিএমএম আদালত থেকে গত ১৯ জুন ওই পরোয়ানা পাঠানো হয়েছে। গত ৩ জুলাই বোয়ালমারী থানা পুলিশ থঅ পেয়ে ১৩ জুলাই গ্রেফতার করেন। ওয়ারেন্ট পরোয়ানায় আসামিদের গ্রেফতার করে ২২ জুলাই আদালতে হাজির করতে পুলিশের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়।
আসামিদের জামিনের জন্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মাদ আলী ঢাকার সিএমএম আদালতে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের জন্য জামিন প্রার্থনা করেন।
শুনানিকালে ওইদিন ঢাকার সিএমএম বিকাশ কুমার সাহা বলেন, “এ ধরনের ভুয়া পরোয়ানা নিয়ে প্রায়ই আইনজীবীরা আসছেন। আমরা এ ধরনের অনেক পরোয়ানা পরীক্ষা করে দেখেছি এটা আদালত থেকে পাঠানো হয় না। আদালতের কোনো কর্মচারীও এর সঙ্গে জড়িত নয়। আদালতের বাইরের কোনো চক্র জড়িত। আমরা তাদের সনাক্ত করা চেষ্টা করছি।”
এভাবে একের পর এক ভুয়া ওয়ারেন্টে গ্রেফতার ও আদালতে সাধারণ মানুষের হয়রানি বেড়েই চলেছে। এ প্রবণতা রোধে সিএমএম বিকাশ কুমার আইনজীবীসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১২০১ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৩
এমআই/আরআর, জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর- eic@banglanews24.com;