ঢাকা: বাংলাদেশের পানি সংকট নিরসনে এবং পানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সহায়তা দিতে চায় অস্ট্রেলিয়া। এ লক্ষ্যে দেশটি বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
বুধবার সকালে অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন আয়োজিত বাংলাদেশের পানি সংকট নিরসন এবং পানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ বিষয়ক এক সেমিনারে একথা জানান বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার টিম বোলোনিকফ।
রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এ সেমিনারে বাংলাদেশের অস্ট্রেলীয় হাইকমিশন ও কমনওয়েলথ সায়িন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ অর্গানাইজেশনের (সিএসআইআরও) যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে পরিচালিত একটি প্রকল্পের ওপর আলোকপাত করা হয়।
তাদের পরিচালিত এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে আবহাওয়া, পানি ও শক্তিচক্র সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করে তোলা এবং পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার টিম বোলোনিকফ।
কমনওয়েলথ সায়িন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল রিসার্চ অর্গানাইজেশনের তিন বিজ্ঞানী ড. ম্যাক কিরবি, ড.মোহাম্মদ মইনুদ্দিন এবং ড. অনিল ব্যানার্জি সেমিনারে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
সেমিনারের সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন প্রফেসর আলী হোসেন। এছাড়া এ প্রকল্পের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, গবেষক এবং শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারের প্রধান অতিথি পানিসম্পদমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘‘আমি খুবই আনন্দিত যে, অস্ট্রেলিয়া আমাদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে চায়। এ প্রকল্পের অর্থসংস্থানকারী সংস্থা অস্ট্রেলিয়ার ‘এইউএসএইড’ আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। পানি সংকট নিরসনে আমরা দশটি বড় এবং নয়টি মাঝারি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। আমি আশা করি, খুব শিগগিরই আমরা খাদ্য উৎপাদনেও স্বয়ংসম্পূর্ণ হবো।’’
অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার তার বক্তব্যে বলেন, ‘‘কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে অন্যান্য দেশের মতোই পানি সমস্যা প্রকট হয়ে উঠছে। অন্যান্য সংকট যেমন আর্সেনিক, অনাবৃষ্টি, ঝড় ইত্যাদিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। মুরে, ডার্লিং এবং মেকং নদীর অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা বাংলাদেশে এ সমস্যার সমাধান করতে আশাবাদী।’’
বিজ্ঞানী ম্যাক কিরবি বলেন, ‘‘বাংলাদেশের পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। তাই এ সমস্যার সমাধান করতে হলে ভূ-পৃষ্ঠের উপরিভাগের পানির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে।’’
তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সাপেক্ষে নদী-নালার পানির স্বল্পতা এবং তিস্তা ব্যারেজের প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বাংলানিউজকে জানান, ‘‘তিস্তা ব্যারেজ একটি রাজনৈতিক বিষয়। বিজ্ঞানী হিসেবে প্রাপ্ত উপাদান দিয়ে উন্নয়নের পথ দেখানোই আমার কাজ। তিস্তা ব্যারেজ বা পানি সংকট সম্পর্কে আমি কিছু বলতে চাই না।’’
বাংলাদেশ সময় : ১৬১৫ ঘণ্টা, জুন ১৩, ২০১২
এটি/সম্পাদনা : রাইসুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর ও অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর