 |
ঢাকা: ধারাবাহিক না হওয়া পর্যন্ত মোহাম্মদ আশরাফুলকে জাতীয় দলে ফেরানোর কোন ইচ্ছে ছিল না নির্বাচকদের। শাহরিয়ার নাফীস চোটাক্রান্ত না হলে সত্যিই শ্রীলঙ্কা যাওয়া হতো না আশরাফুলের। একপ্রকার বাধ্য হয়েই নির্বাচকরা তাঁকে দলে নিয়েছেন। আশরাফুলও শ্রীলঙ্কায় গিয়ে ফর্ম দেখালেন। তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান দেখা পেলেন সেঞ্চুরির। ১১ চার ও এক ছয়ে ১৫১ বলে করেছেন ১০২ রান।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দারুণ রেকর্ড আশরাফুলের। ১১ টেস্ট খেলে ৮৫৮ রান করেছেন চারটি সেঞ্চুরিতে। কোন দলের বিপক্ষে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে হাজার রানের রেকর্ড ছুতে আর ১৪২ রান লাগে। প্রস্তুতি ম্যাচে ওই রান সংগ্রহের মহড়াই দিলেন লিটল মাস্টার। প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন সাবেক অধিনায়ক,‘খুব ভালো লেগেছে। উইকেটের সুবিধা পেয়েছি। ব্যাট করতে পারলে এখানে রান আসবে জানতাম। আমি চেষ্টা করেছি ইনিংস গড়ে তুলতে এবং সফল হয়েছি।’
জিনিয়াস ব্যাটসম্যান হিসেবেই বিশ্বে পরিচিতি পেয়েছিলেন আশরাফুল। কিন্তু ধারাবাহিকতার অভাবে এখন জাতীয় দলেই অনিয়মিত। এবার অবশ্য অভিজ্ঞতা দিয়ে ভালো খেলার প্রত্যয় তার স্বরে,‘আমি মনে করি গত ১০-১২ বছরে দলের জন্য খুব সামান্যই করতে পেরেছি। আমার এখন যে বয়স দলের জন্য ভালো কিছু করার উপযুক্ত সময়।’
টি-টোয়েন্টিতে তামিমের সঙ্গে ব্যাটিং ওপেন করেন আশরাফুল। টেস্টেও ইনিংসের শুরুতে খেলার ইচ্ছে তাঁর,‘আমি টপ অর্ডারে নতুন করে শুরু করতে চাই। ওটা নিয়ে আমি কাজ করছি। তিলকারতেœ দিলশানকে দেখে উজ্জ্বীবিত হয়েছি আমি। ২০০৯ সাল থেকে সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টপ অর্ডারে ব্যাটিং করে। তার মতো আমিও আক্রমণাত্মক এবং শান্ত থেকে ব্যাট করতে চাই।’
টেস্ট অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা মমিনুল হক এক রানের জন্য সেঞ্চুরিটা পেলেন না। মিডল অর্ডার এই ব্যাটসম্যান ১৩৮ বলে ১১ চার ও এক ছয়ে ৯৯ রানের অনিন্দ্য ইনিংস খেলেন। অনুজের ব্যাটিংয়ের প্রশংসাই ঝড়লো অগ্রজ আশরাফুলের কণ্ঠে,‘সে সব ধরণের ক্রিকেটে রান করছে গত দুই বছর। এখানে তাকে ৯৯ রানের ইনিংস খেলতে দেখে ভালো লাগছে। প্রথম টেস্টের আগে উইকেটে থাকা এবং রান করা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’
যদিও মমিনুল তার ইনিংস নিয়ে এতটা উচ্ছ্বসিত নন,‘এটা একটা প্র্যাকটিস ম্যাচ ছিল এবং ভালো যে, কিছু রান করতে পেরেছি। কিন্তু এটা নিয়ে তেমন ভাবছি না। আমার লক্ষ্য টেস্ট ম্যাচ।’
আশরাফুলর সঙ্গে মমিনুলের ১৭৮ রানের জুটি হয়। সে সম্পর্কে তরুণ এই ব্যাটসম্যান বললেন,‘যে কোন ক্রিকেটে আশরাফুল ভাই’র সঙ্গে প্রথম জুটি হলো আমার। আমরা স্বাভাবিক কথাবার্তা বলেছি এবং উইকেটে টিকে থাকার চেষ্টা করেছি।’
এই জুটির কল্যাণেই শ্রীলঙ্কা উদীয়মান দলের ৪১০ রানের জবাবে ৪৭৯ রান করতে পেরেছে বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহ ৫৬, মুশফিকুর রহিম ৮১ এবং সোহাগ গাজীও হার না মানা ৮২ রানের ইনিংস খেলেন।
বাংলাদেশ সময়: ২৩১৮ ঘণ্টা, মার্চ ৫, ২০১৩
এসএ/এএইচবি