 |
প্রতিবিহার
অগ্নি-ফলা, উল্কার স্মৃতি ঠিকরে
ফোটে জীবন।
বীক্ষায় কালো হয় চোখ, বিভা ঢলমান।
সমুদ্র, যৌবন তার, এই নোনা নীড়
প্রতিবিহারের।
ফোটে সিন্ধুর কেলাস।
নির্বাণ প্রস্তরে
এই জাগৃতিধারায় আচ্ছন্ন, মাতাল স্বর।
জাগে উষা প্রবাহে প্রবাহে
প্রস্তরে নির্বাণ পেল যতো সৌরঝড়।
বিস্ময় মরাল ঘোরে ফুলের চাঁদলীলা ঘিরে।
শাঁস গুটি গুটি
পদ্ম-নীড়ে সাঁতারের মগ্ন-মায়ায় আজ তুমি অমল মরম।
এনট্রপি
তোমার সাথে পরিচয় হলো,
সূর্যপাখি, ও আমার সৌরনাভি!
আমি আজ
হ্রদের কিনারে দেখা মেঘের
গোলাপি বেগুনি ঝরে পড়ায়
জন্ম দিলাম তোমায়।
আমাকে ডাকো, আমিই প্রতীতি।
অমোঘ জন্ম
অলাত ছায়ায় নাচে মেঘ।
ছায়াদের আছে উৎকেন্দ্র নামে এক বিনীত জীবন।
গম্বুজের গর্ভ ধরে রাখে আলো
সুরে আশ্রয় জন্মায়।
কালো বিন্দুর দেবী
একটি কুঞ্চিত ল্যাভেন্ডার ফোঁটা
কথার গলিপথে বেরিয়ে এল আজ দিগ্বলয়ে।
আর দেখো, ওখানে নির্জন শ্বাস থেকে
কথা বলে ঘন-বুনটের মন্দির।
সে মন্দিরে তোমাকে কী অর্ঘ দেবো, কালো বিন্দুর দেবী আমার,
উড্ডয়নের জীবন-স্থিতির মণিধারা আমার!
বলো আজ...
তোমার অশ্রতি বিঁধেছে এই বাঁশিকে,
যার শরীর নিয়ে ছড়িয়ে যাই আমি।
বেজে ওঠো।
কম্প্রবীজ
পিছলে পড়ছে পার্ক
আর হোঁচট খাচ্ছে বেলা।
এই বৃন্ত, আমার হাতে।
উন্মূল প্রান্তরের নাভিতে
বিদীর্ণ হলো গাছ।
অপরিচিতের কেশ ওড়ে।
ভোজ
বিক্ষেপের কূল ছুঁয়ে গীত ভেসে আসে।
চোখ বুজে জমে সুরা ধরার তিতিক্ষা।
সমর্পণের শ্রদ্ধা বুকে নিয়ে আমরা এপারে।
চলে ভোজ।
ফাঁস-দড়িতে লটকে থাকে আকাশ
উড়ন্ত শীৎকার খণ্ডে
উষাকে চিড়ে ফেলে শয়তান
ছায়া অবতল
পেয়ালাই আমাকে পান করে আজও—
সুরাহির উৎসাহ আমার তৃষ্ণার পূজক
সুখী হরিণের পিঠে প্রার্থনা পাঠাই...
আঁজলা ভরে ওঠে আরতিতে
আর অঞ্জলি ছড়ায় জলে।
ডানায়
তুমি বলো দুয়েকটি বোল, আর
আমি শাখাগুলো থেকে বলাকার আঁধি লেপে দিই বুকে তোমার
শাখাগুলোর ঠোঁটে ফুলে ওঠে মৌনী
আর দেখো, ওই তো মুখর চোখ।
মগ্ন
হাওয়ায় দুলছে ডাল
কীভাবে স্মৃতি থেকে লতিয়েছে বাহু
সেই কথা মনে করে
এই লোনা ত্বকে জল ফুটে ওঠে।
বাংলাদেশ সময় : ১৩১৩ ঘণ্টা, ২৯ জানুয়ারি ২০১৩
দ্য-টিকে, এনআরএ