 |
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন ভর্তিচ্ছুরা।
ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে গিয়ে নিজেদের ছবির জায়গায় খেলোয়াড় কিংবা বলিউডের নায়িকা ক্যাটরিনা কাইফের ছবি দেখাচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ১ নভেম্বর থেকে ২ নভেম্বর সকাল সোয়া ১১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে টেলিটকের লিংকে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে গিয়ে তারা অন্যের ছবি দেখতে পাচ্ছেন।
ভর্তি কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ভর্তির নির্দেশনা অনুযায়ী টেলিটক ব্যবহারকারীরা মুঠোফোনে ক্ষুদেবার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে নিবন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা।
পরবর্তী সময়ে ২১ অক্টোবর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে প্রবেশপত্র ডাউনলোডের প্রক্রিয়া জানিয়ে নোটিস দেয় কর্তৃপক্ষ।
কিন্তু ওই প্রক্রিয়ায় প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে গিয়ে ভর্তিচ্ছুরা নিজের ছবির জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় আগে থেকে অন্যের ছবি সংযুক্ত করে রাখা। আর দ্বিতীয়বার ছবি সংযুক্ত করার নিয়ম না থাকায় শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অধীনে ‘ই’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষার্থী মোহাম্মদ আলী হাসান বলেন, “বৃহস্পতিবার ওয়েবসাইট থেকে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে গিয়ে দেখি, আমার ছবির জায়গায় ক্যাটরিনা কাইফের ছবি সংযুক্ত করা। দ্বিতীয়বার ছবি সংযুক্ত করার সুযোগ না থাকায় এভাবেই প্রবেশপত্র ডাউনলোড করে প্রিন্ট করেছি।”
“এই প্রবেশপত্র দিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারব কিনা তা নিয়ে মহা চিন্তিত” বলেন হাসান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ভর্তি কমিটির সচিব এসএম আকবর হোসাইন বাংলানিউজকে মুঠোফোনে বলেন, “শুক্রবার সকালে বিভিন্ন এসএমএস ও মেইলে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে গিয়ে ভর্তিচ্ছুদের সমস্যার কথা জেনেছি। তবে আমি ওয়েবসাইটে কোনো সমস্যা দেখিনি।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি অনুষদের অধীনে ৪১টি বিভাগে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৮৬ জন ভর্তিচ্ছু মুঠোফোনে নিবন্ধন করেছেন। প্রতি আসনে গড়ে ৩৭ জন ভর্তিচ্ছু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ডেপুটি রেজিস্ট্রার বাংলানিউজকে জানান, “বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে টেলিটক সিম ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের নিবন্ধনের কথা বলা হয় ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে। কিন্তু অধিকাংশ শিক্ষার্থী তা না করে বিভিন্ন কম্পিউটার সেন্টার বা কোচিং সেন্টারের মাধ্যমে ভর্তির আবেদন ফরম পূরণ করেছেন। এসময় শিক্ষার্থীদের যাবতীয় তথ্য ওই কোচিং সেন্টার কিংবা কম্পিউটারের দোকানে থেকে যায়। যা নানা সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।”
তিনি বলেন, “এসব কম্পিউটার সেন্টার বা কোচিং সেন্টারের মাধ্যমে একাধিক ভর্তিচ্ছু ফরম নিবন্ধন করেছে। প্রবেশপত্র ডাউনলোড করার সময় শিক্ষার্থীদের ছবি খুঁজে না পেয়ে শিক্ষার্থীদের জনরোষ এড়াতে দেশি-বিদেশি নায়ক নায়িকার ছবি আপলোড করে কর্তৃপক্ষকে দোষারোপ করতে পারে।”
ভর্তি কমিটির সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের ছবি সংযুক্ত ডাউনলোড করা প্রবেশপত্র, ছবিযুক্ত মূল রেজিস্ট্রেশন কার্ড ছাড়া ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারবে না। তবে প্রবেশপত্র ডাউনলোডে সমস্যার কারণে ভর্তিচ্ছুদের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার (একাডেমিক শাখা) এসএম আকবর হোসাইন।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রবেশপত্রের ডাউনলোডের সমস্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে নানা তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে ভর্তি কমিটির সচিব ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার বাংলানিউজকে বলেন, যে কেউ চাইলেই ছবি আপলোড করতে পারে না। সুনির্দিষ্ট পেইজে পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর ও ইউনিট দিয়ে লগইন করতে হয়। এছাড়াও এসএসসি ও এইচএসসি’র সব তথ্যেরও প্রয়োজন হয়।
কিন্তু ভর্তিচ্ছুরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা গেছে, লগইন পেইজে যে কেউ আবেদনকারীর রোল নম্বর এবং ইউনিটের নাম দিলেই প্রবেশপত্রে ছবি আপলোডের নির্দেশনা কম্পিউটারের মনিটরে দেখাচ্ছে। এতে যে কেউ চাইলেই ছবি আপলোড করে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে পারবে।
তবে কিভাবে এসমস্যা হয়েছে তা বোঝা যাচ্ছে না। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস খুললে উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর আনোয়ারুল আজিম আরিফ বাংলানিউজকে বলেন, “এমন সমস্যার কথা শুনেছি। তবে এ জন্য পরীক্ষার্থীরাই দায়ী। তারা নিজেরা না করে কোচিং সেন্টার বা দোকানে গিয়ে ফরম পূরণ করেছে। আর কম্পিউটারের দোকানি কিংবা কোচিং সেন্টারের লোকেরা ঠিকমত ছবি আপলোড করতে পারেনি।”
সংশ্লিষ্টদের এসব তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে টেলিটকের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। কেননা আপলোড হওয়া ওই ছবি তারাই ডিলেট করতে পারবে।”
“যাদের এ সমস্যা হয়েছে তারা এইচএসসির রেজিস্ট্রেশন ভেরিফাই করে পরীক্ষা দিতে পারবে।’ -যোগ করেন উপাচার্য।
প্রসঙ্গত, ১১ নভেম্বর থেকে চবিতে প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে।
বাংলাদেশ সময়: ২১৫৩ ঘণ্টা, নভেম্বর ০২, ২০১২
এমবিএম/সম্পাদনা: আবু হাসান শাহীন, নিউজরুম এডিটর