 |
| ছবি: দেলোয়ার হোসেন বাদল / বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
বইমেলা থেকে: বাংলা একাডেমী থেকে মিনিট কয়েক হাঁটা পথ শাহবাগ গণজাগরণ চত্বর। সে গণজাগরণ চত্বর থেকে বইমেলায় ভেসে আসে উত্তাল শাহবাগের গর্জন। এ গর্জনের মাঝে কখনও ভেসে আসে শোকের বার্তা।
সোমবার বিকেলে আরেকটি শোক নেমে আসে শাহবাগে। ব্লগার, কার্টুনিস্ট ও ছড়াকার তরিকুল ইসলাম শান্তর মৃত্যু! এ শোক যেনো ছুঁয়ে গেছে বাংলা একাডেমীর পুরো প্রাঙ্গণ জুড়ে। আন্দোলনে টানা অংশগ্রহণ করে অসুস্থ হয়ে জনপ্রিয় কার্টুনিস্ট শান্ত চলে গেলেন না ফেরার দেশে। শান্তর শোক ছুঁয়ে যায় পুরো মেলা জুড়ে।
সোমবার ৬৫!
অমর একুশে গ্রন্থমেলায় সোমবার নতুন বই এসেছে ৬৫টি। বিষয়ভিত্তিক বইয়ের মধ্যে রয়েছে: গল্প-৫টি, উপন্যাস-৮টি, প্রবন্ধ-৩টি, কবিতা-২২টি, গবেষণা-২টি, ছড়া-৪টি, শিশুতোষ-৩টি, জীবনী-৪টি, মুক্তিযুদ্ধ-১, বিজ্ঞান-১টি, রাজনীতি-১, রম্য/ধাঁধা-১টি, অনুবাদ-২টি এবং অন্যান্য-৮টি। মেলার ১৮তম দিনে ১৫টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হয়েছে।
মূলমঞ্চের আয়োজন
বিকেলে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান : কৃতি ও কীর্তি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক রফিকউল্লাহ খান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন গীতিকবি মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, অধ্যাপক খোন্দকার আশরাফ হোসেন এবং ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ। সভাপতিত্ব করেন কবি আসাদ চৌধুরী।
প্রাবন্ধিক বলেন, “মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান আবহমান বাংলা ও বাঙালিকে বুকের ভেতর গভীরভাবে ধারণ করেছেন। মৃত্তিকাবর্তী এই কবি হৃদয় ও মননের যুগলবন্দি রচনা করেছেন তাঁর কবিতা ও গানে। গবেষণাক্ষেত্রেও তাঁর অবদান অসামান্য। সমাজ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষিতযুক্ত ছিল তাঁর সাহিত্যিক দৃষ্টিভঙ্গি। দেশপ্রেম মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের সৃষ্টিতে যেভাবে মূর্ত হয়ে উঠেছিল তা অঙ্গীকার ও শিল্পসিদ্ধি; উভয়ক্ষেত্রেই দৃষ্টান্তস্থানীয়।”
আলোচকবৃন্দ বলেন, “বৈচিত্র্যপূর্ণ সাহিত্যজীবনে মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান একদিকে যেমন বাংলাদেশের কবিতায় যোগ করেছেন হৃদয়বাদী ধারা তেমনি নিষ্ঠাবান গবেষক হিসেবে বাংলা সাহিত্যের নানা অনুদ্ঘাটিত অঞ্চলকে নিয়ে এসেছেন পাদপ্রদীপের আলোয়।”
তারা বলেন, “একজন গুণী শিক্ষক হিসেবেও তিনি স্মরণীয়। বাংলা গানের ভুবনে মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এক অনিবার্য নাম। আমাদের সঙ্গীতে তিনি একক কৃতিত্বে সৃষ্টি করেছেন এক নতুন পরিমণ্ডল।”
সভাপতির বক্তব্যে কবি আসাদ চৌধুরী বলেন, “মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানকে আলোচনার বিষয়বস্তু করে বাংলা একাডেমী আমাদের কৃতজ্ঞতাভাজন হয়েছেন। বাংলাদেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বিস্মৃত হবার নয়।
সন্ধ্যায় আবৃত্তি সংগঠন ‘ক’জনা’ বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করে। সঙ্গীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী লিলি ইসলাম, সাজেদ আকবর, সালমা আকবর, চঞ্চল খান, রোকাইয়া হাসিনা, ছায়া রাণী কর্মকার, ফারহানা আক্তার শার্লি, সারোয়ার হোসেন বাবু এবং হিমাদ্রি শেখর। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন বিশ্বজিৎ সরকার (তবলা), সুমন রেজা খান (কি-বোর্ড), শেখ আবু জাফর (বাঁশি), আবু কামাল (বেহালা) এবং নাজমুল আলম খান (মন্দিরা)।
‘আমার বর্ণমালা’
বাংলা একাডেমীর নেতৃত্বে ইউনিকোড সুবিধাসংবলিত নতুন বাংলা ফন্ট ‘আমার বর্ণমালা’ আসন্ন একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবমুক্ত করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যৌথ উদ্যোগে প্রস্তুতকৃত এই প্রমিত বাংলা ফন্ট-এর উদ্বোধন এবং এ সম্পর্কিত আনুষঙ্গিক বিষয়ে অবহিতকরণের লক্ষে বাংলা একাডেমী মঙ্গলবার বেলা ১১টায় একাডেমীর নতুন ভবনের চতুর্থ তলায় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে মতবিনিময় করবেন একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক কবীর বিন আনোয়ার, ফন্ট বিশেষজ্ঞ জামিল চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাইমা হক।
আজকের বইয়ের তালিকা জানতে ক্লিক করুন
বাংলাদেশ সময়: ২০২৪ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৩
এডিএ/সম্পাদনা: আসিফ আজিজ, নিউজরুম এডিটর