 |
| ছবি : রুবেল /বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: বৃহঃস্পতিবার হরতাল দেওয়ার সুযোগ খুঁজছে জামায়াত।
দলটি তাদের বুধবারের বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে এই হরতালের পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় বলে জানিয়েছে জামায়াতের একটি সূত্র।
সূত্র জানায়, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে দলের নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
জামায়াতের সিনিয়র নেতাদের পরামর্শে শিবিরের কর্মীরা কর্মসূচির পরিকল্পনাও তৈরি করেছে বলে জানা গেছে। জামায়াতের ডাকা বিগত হরতালগুলো সফল দাবি করে ‘‘এবারের কর্মসূচিতেও জনগণের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করা হবে’’ বলে জানায় সূত্র।
একই সূত্র জানায়, কারওয়ান বাজার, মহাখালী, মিরপুর ও যাত্রাবাড়ীসহ কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভের বিষয়টি আপাতত চূড়ান্ত হয়েছে।
তবে নিরাপত্তার খাতিরে এই স্থানগুলোর নাম শেষমুহূর্তে বদলে যেতে পারে বলেও জানায় সূত্র।
হরতাল প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঙ্গে সেলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের আগামীকালের (বুধবার) কর্মসূচিতে সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আচরণের ওপর আমাদের সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।’’
হরতালের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে হরতাল আসার বিষয়টিতেও দ্বিমত নেই তার।
মাসুদ বলেন, ‘‘আমরা কর্মসূচি দিয়েছি। এতে বাধা এলে পরবর্তী কর্মসূচি দেওয়া হবে। হরতালের পরিস্থিতি হলে হরতাল আসতেই পারে। সবই নির্ভর করছে আমাদের প্রতি তাদের (সরকার) ব্যবহারের ওপর।’’
অবশ্য মঙ্গলবার দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান গণমাধ্যমে পাঠানো গণবিক্ষোভ কর্মসূচির বিজ্ঞপ্তিতেও এমন ইঙ্গিতই দেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘‘দেশব্যাপী গণহত্যার প্রতিবাদে ও আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবিতে আগামীকাল দেশব্যাপী গণবিক্ষোভ কর্মসূচি করবে জামায়াত।’’
এতে আরও বলা হয়, ‘‘আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, দেশের জনগণ সরকারের অপকর্মের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে। জনগণ এ গণহত্যা বন্ধ ও আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাবে না।
জনগণের এ দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আমরা আগামীকাল দেশব্যাপী গণবিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করছি। আমাদের এ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিলে কিংবা নিরীহ জনগণের ওপর গুলি চালালে হরতাল, অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
জামায়াত শিবিরের খোঁজে তল্লাশি:
এদিকে, বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন মাসুদ।
মাসুদ বলেন, ‘‘শিবিরের কর্মীদের খোঁজে বিভিন্ন বাসা-বাড়ি ও মেসে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। প্রায় প্রতিবারই আমাদের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এই আক্রমণ করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন। নিরীহ কর্মীদের হেনস্থা করা হয়।’’
বিক্ষোভে জামায়াত-শিবিরের কোন কোন নেতা নেতৃত্ব দেবেন, তাও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে বলে জানান মাসুদ।
তিনি বলেন, ‘‘আমাদের দাবি সুস্পষ্ট। কর্মসূচিও গণতান্ত্রিক। তাই আশা করি, সরকার এতে অযথা বাধা দেবে না।’’
বিএনপিকে সুফল পেতে দেবে না জামাত:
নেতাকর্মীদের নামে হামলা-
মামলা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে বুধবার সারাদেশের সব জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে প্রধান বিরোধীদলবিএনপি।
বিএনপি ও জামায়াত একই জোটের শরিক হলেও তাদের কর্মসূচি আলাদাভাবে পালনের ঘোষণা এসেছে। তবে সূত্র বলে ভিন্ন কথা।
সূত্র মতে, বুধবারের বিক্ষোভ কর্মসূচি দুইদলের সম্মিলিত পরিকল্পনারই ফসল।
সূত্র আরও জানায়, বিএনপি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে জামায়াতকে পাশে পেতে চাইলেও জামায়াত-শিবির নিজেদের আন্দালনের সুফল বিএনপিকে দিতে চায় না।
একই সূত্রে জানা গেছে, এ উপলক্ষে দু’দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের স্বল্প সময়ের একটি আলাপচারিতাও হয়েছে।
তবু জামায়াত এখনও তাদের নিজস্ব পরিকল্পনামাফিক কর্মসূচি পালন করবে বলে জানিয়েছেন মাসুদ।
তিনি বলেন, ‘‘আমাদের কর্মসূচি ভিন্ন। আমরা নিজেদের মতো করেই গণবিক্ষোভ করবো।’’
সূত্র জানায়, হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে বিএনপি তেমন কোনো তৎপরতা দেখায়নি, যা করার তার মূল ভাগ করেছে জামায়াত। তাই, শিবিরের অনেক কর্মীই বিএনপির সঙ্গে যুক্ত থাকতে চাইছে না কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে।’’
এদিকে, শিবিরের এক নেতা বলেন, ‘‘নিজেদের তেমন কোনো পারফর্মেন্স থাকে না বিএনপির। আমরা যা করি, তাতে নিজেদের কৃতিত্ব খুঁজে নেয় তারা। তাই, তারা আমাদের সঙ্গে থাকতে চাইলেও আমরা নিজেদের পরিকল্পনা নিয়েই এগুবো।’’
বাংলাদেশ সময়: ০২১৩ ঘণ্টা, মার্চ ০৬, ২০১৩
এসকেএস/আশিস বিশ্বাস, অ্যাসিস্ট্যান্ট আউটপুট এডিটর/জেডএম