 |
বইমেলা থেকে: অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৭তম দিন, বুধবার বিকেলে প্রকাশিত হয়েছে কামরুজ্জামান কামুর চতুর্থ কবিতাগ্রন্থ ‘নিগার সুলতানা’।
নব্বই দশকে আবির্ভূত এ কবির ইতোপূর্বে প্রকাশিত তিনটি কবিতাগ্রন্থ, যথাক্রমে— ‘কবি মুখপত্রহীন’ (১৯৯৭), ‘অহেতু গুঞ্জনমালা’ (২০০১) ও ‘মামুজির নৌকায়’ (২০১১)। এছাড়াও ২০১১ সালে প্রকাশিত হয় ছোটদের জন্য লেখা কবিতার বই ‘তুনির কবিতা’।
‘নিগার সুলতানা’র প্রকাশনাকে কেন্দ্র করে পুরো ফেব্রুয়ারি মাসজুড়েই সমসাময়িক কবি-লেখক মহলে বিপুল আগ্রহ ছিলো। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বইটির প্রকাশনাকে কেন্দ্র করে এ মাসেই অন্তত একশটি আলাদা আলাদা কনটেন্ট প্রতিবেদকের ফেন্ডলিস্ট থেকেই পোস্ট করা হয়েছে।
বিকেল চারটায় ‘আদর্শ প্রকাশনী’র স্টলে অনানুষ্ঠানিকভাবেই বইটির প্রদর্শন শুরু হলে, কবি কামরু্জ্জামান কামুর উপস্থিতি-উষ্ণতাকে কেন্দ্র করে বইয়ের পাঠক-ক্রেতা ও অন্যান্য কবি-লেখকদের এক হৃদ্যিক সম্মিলন গড়ে ওঠে বাংলা একাডেমীর বর্ধমান হাউজের সামনে। কবির অটোগ্রাফসহযোগে বইটি সংগ্রহ করেছে উপস্থিত প্রায় সবাই।
বইয়ের নামকরণ ‘নিগার সুলতানা’ কেন হলো ব্যাখ্যায় কামরুজ্জামান কামু বাংলানিউজকে বলেন, “কবিতার নায়িকা বলতে এতদিন আমরা চিনতাম বনলতা সেনকে। তো বাঙালি মুসলমানেরও একজন কবিতার নায়িকার দরকার ছিলো— ইনিই সেই নায়িকা নিগার সুলতানা। বনলতা সেন যতটাই দূরের, কল্পনার, এবং ঝাপসা; নিগার সুলতানা ততটাই নিকটের, বাস্তবের এবং স্পষ্ট।”
আপনার কাছের বন্ধুরা বলেন চতুর্থ কবিতাগ্রন্থ প্রকাশের এ সময়ে আগ্রহ, অংশগ্রহণ এবং উদ্দীপনায় আপনি নাকি যে কারো প্রথম কবিতাগ্রন্থের উত্তেজনাকে ছাড়িয়ে গেছেন। আলাদাভাবে এ বইটির ক্ষেত্রে আপনার উৎসাহ ও সরাসরি সম্পৃক্ততা এতো বেশি কেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কারণ এটা আপাতমস্তক প্রেমের কবিতার বই। প্রেমের ক্ষেত্রে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়াটাই তো স্বাভাবিক। নাকি?”
আধুনিক বাংলা কবিতার ধারণায় একটা গাম্ভীর্য এবং দূরের ইমেজ তৈরি করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। আপনার প্রথমদিকের কবিতাও সেই ভাষারই প্রতিনিধিত্ব করেছে বলে জানা যায়। যে ভাষাচিত্রে আমরা আসলে যাপন করি না, বেড়াতে যাই— আপনার সাম্প্রতিককালের কবিতার ভাষায় ভ্রমণের চেয়ে ভাষায় যাপনের প্রবণতাই বেশি লক্ষ্য করা যায়।
এ ব্যাপারে কিছু জানতে চাইলে কামরুজ্জামান কামু বলেন, “গাম্ভীর্য বা দূরবর্তী দৃশ্যের ব্যাপারে আমার কোনো আপত্তি নেই। আমার প্রথম দিককার কবিতাগুলোকে সেরকম মনে হওয়ার কারণ আমার কাছে যেটা মনে হয়, ওই কবিতাগুলোতে আমার নিজের চেয়ে হয়তো অন্য কবিদের ভাষার প্রভাব বেশি ছিলো। তখনও হয়তো আমি নিজের মতো হয়ে ওঠার বাসনা ভেতরে থাকলেও, ততটা নিজের মতো হয়ে উঠতে পারি নি। পরবর্তী সময়ের কবিতাগুলো যে যাপনের অংশ মনে হয়, তার কারণ হয়তো হতে পারে যে, এখানে আমি অনেকটা নিজের ভেতরে ডুব দিতে পেরেছি বা আমার কবিতার ভাষার মধ্যদিয়ে আমি নিজেকে প্রকাশ করতে পেরেছি কিছুটা। এটুকু বলতে পারি, বাকিটা পাঠক বলবেন।”
সবশেষে ‘নিগার সুলতানা’ প্রকাশের অনুভূতি ও বইয়ের কবিতাগুলো সম্পর্কে কিছু জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ওই তো, প্রথম বই প্রকাশের মতো শিহরণ হচ্ছে! এ বইয়ে আরেক নতুন কামরুজ্জামান কামুকে দেখা যাবে। আবেগে থরো থরো, নিনাদে ফেটে যাওয়া এক হৃদয়ের উদ্ভাসন দেখা যাবে এ বইয়ে।”
কামরুজ্জামান কামুর ‘নিগার সুলতানা’র দুটি কপি সংগ্রহ করাকালীন কথা হয় চলচ্চিত্র নির্মাতা নূরুল আলম আতিকের সঙ্গে। কামরুজ্জামান কামুর কবিতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, “কামুর কবিতা ভালো লাগে আমার। আমি ওর আগ্রহী পাঠক। ‘নিগার সুলতানা’ এই তো কিনলাম মাত্র। পড়ে দেখি, এখানে কামু কেমন ভাঁজ খুলেছে কবিতার! আর কাপড়ের মলাটে, শক্ত বাঁধাইয়ে বইটি দেখতে খুব আকর্ষণীয় লাগছে।”
বইটি সম্পর্কে জানতে চাইলে কবি হিজল জোবায়ের বলেন, “নিগার সুলতানা কবিতায় বাঙালি মুসলমানের নতুন নায়িকা। এতদিন যেখানে বনলতা সেনের একক আধিপত্য ছিলো, সে জায়গায় আমাদের এই বাংলাদেশের বেশিরভাগ পাঠক এবং বাঙালি মুসলমানের জন্য নিগার সুলতানা নিঃসন্দেহে একটি সংযোজন। বিভিন্নভাবে বইয়ের বেশিরভাগ কবিতা পূর্বপাঠের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এটি কামরুজ্জামান কামুর একটি বিশিষ্ট কবিতাগ্রন্থ। এর ভেতরকার থিম এবং টিউনের টোটালিটি আমাদের আবেগ উৎসারণকে ধারণ করে শুধু কবিতাগ্রন্থ নয়, বরং কাব্যগ্রন্থই হয়ে উঠেছে শেষ পর্যন্ত।”
একই জিজ্ঞাসার জবাবে কবি সাইয়েদ জামিল বলেন, “কামরুজ্জামান কামু নব্বই দশকের সবচেয়ে, আমি বলবো সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কবি। বৈশিষ্ট্যপূর্ণ এবং বৈশিষ্ট্য থেকে বৈশিষ্ট্যে ভ্রমণরত এ কবি ইতোমধ্যেই প্রমাণিত। এতো বিনির্মাণ, এতবার নিজেকে ভেঙে গড়ে ভেঙে ক্রমাগত নিজের স্বরের কাছে পৌঁছাতে পেরেছে— এমন কবি খুব কমই আছে, কামরুজ্জামান কামু তাদের একজন।”
কামরুজ্জামান কামুর ‘নিগার সুলতানা’ কবিতাগ্রন্থ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রকাশক মামুন অর রশিদ বলেন, “এ বইটি নিয়ে আমরা খুব আশাবাদী। ইতোমধ্যেই বইয়ের প্রথম চালানটি নিঃশেষিত হয়ে গেছে। অনেকেই বই না পেয়ে ফিরে গেছে আজকে। আগামীকাল মেলার শেষ দিন বইটির বাড়তি সরবরাহ রাখতে হবে। এ বইটি নিয়ে আমরা শুধু মেলা না, সারা বছরব্যাপীই একটা রেগুলার বিক্রির ব্যাপারে আশাবাদী।
আদর্শ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত কামরুজ্জামান কামুর চতুর্থ কবিতাগ্রন্থ নিগার সুলতানার প্রচ্ছদ তৈরি করেছেন এম এ রায়হান।
বাংলাদেশ সময়: ০৯৪২ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৩
সম্পাদনা: আসিফ আজিজ, নিউজরুম এডিটর