 |
ঢাকা: বুধবার বিকেল সোয়া ৪টা। কাজের ফাঁকে একটু অবসর, তাই জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে পায়ে হেঁটে চলে গেলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধে। সুযোগ পেলেই কবির সমাধিসৌধে যাওয়ার এই অভ্যাস আমার দীর্ঘদিনের, কম করে হলেও এক যুগের।
অনেক দিনের চেনা এই অঙ্গনের কৃষ্ণচূড়া, সবুজ ঘাস আর প্রাণহীন ইট-সুরকির সঙ্গে একাকার হয়ে গিয়েছি বলা যায়। বুধবার পড়ন্ত বিকেলে সেই চিরচেনা স্থানে হঠাৎই দেখতে পেলাম এক ভিন্নদৃশ্য।
প্রিয়কবির সমাধির দক্ষিণ-পশ্চিম অংশেই সমাহিত করা হয়েছে ৭১-এ শহীদ কয়েকজন শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীকে। তাদের প্রত্যেকের কবরেই রয়েছে অগ্রভাগে নামপরিচয় সম্বলিত স্টিলের খুঁটি।
কবির সমাধির চারপাশে নগ্ন পা’য়ে চারপাশ ঘুরতে চোখে পড়লো সেই ফলকগুলো, স্বমহিমায় ঘোষণা করছে বিখ্যাত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয়।
তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো অল্পসময় পরেই দেখতে পেলাম একজন প্রত্যেক কবর থেকে স্টিলের খুঁটিতে শোভা পাওয়া নাম ফলকগুলো মাটি থেকে টেনে তুলে নিচ্ছেন এক এক করে।
ওই ব্যক্তির কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করে যা জানতে পারলাম, তাতে রীতিমত ‘আক্কেল গুড়ুম’ হওয়ার দশা। জানতে পারলাম ওই ব্যক্তি সমাধিসৌধের নিরপত্তাকর্মী জাকির হোসেন।
সে জানালো, ছিঁচকে চোরদের কবল থেকে রক্ষা করতেই এই ফলকগুলো প্রতিদিন সকালে নির্দিষ্ট কবরে গেড়ে দেওয়া হয় ও বিকেলে উঠিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
অবশ্য পূর্বে এমনটা করা হতো না। কিছুদিন পূর্বে দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে খুলে নেয় কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধের পার্শ্বে থাকা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের কবরের নাম ফলক।
দায়িত্বে অবহেলার জন্য শাস্তি হিসেবে কর্তৃপক্ষ অবশ্য সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তারকর্মীদেরকেই নির্দেশ দেন, নিজেদের খরচে এসব নামফলক তৈরি করে ওইসব কবরে পুন:স্থাপনের। নির্দেশমতে, সমাধিসৌধের নিরাপত্তাকর্মীরাই তাদের খরচে ৫ হাজার টাকায় এসব ফলক তৈরি করে পুন:স্থাপন করেন।
নতুন করে যাতে জরিমানা গুণতে না হয় তাই সাবধানী নিরাপত্তারক্ষীদের এই সতর্কতা!
নিরাপত্তারক্ষী জাকির হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ‘জাতীয় কবির সমাধিসৌধের নিরাপত্তায় একজন পরিদর্শক, দু’জন পিয়ন ও দু’জন নিরাপত্তাকর্মী কাজ করে। এর মধ্যে একজন নিরাপত্তা রক্ষী রাতে ও একজন দিনে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
নিরাপত্তাজনিত দৈন্যতা ঘোচাতে আরো জনবল দেওয়ার অনুরোধ করে এরইমধ্যে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ সময়: ২১৫২ ঘণ্টা, জুন ১৩, ২০১২
এআই/ সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর