ঈশ্বরদী : গত বছর বাম্পার ফলন হলেও কাঙ্খিত মূল্য না পেয়ে হতাশ চাষিরা চলতি মৌসুমে বেগুন চাষ সীমিত করেছিল। বেগুন চাষে উৎসাহ হারিয়ে চাষিরা এ বছর স্বল্প পরিসরে বেগুন চাষ করলেও ‘শনির দশা’ কাটেনি তাদের।
এবারে বেগুনের কম মূল্যের সঙ্গে যোগ হয়েছে ফলন বিপর্যয়। ফলে বেগুন আবাদে ব্যয় করা অর্থই ফেরত পাচ্ছেননা চাষিরা।
সরেজমিন ঈশ্বরদীর অন্যতম সবজি প্রধান এলাকা মূলাডুলিতে গিয়ে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
বেগুন আবাদীরা বাংলানিউজকে জানান, চলতি মওসুমে বেগুনের যে ফলন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে তাতে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হতে হচ্ছে তাদের। বাজারে বেগুনের মূল্য কম থাকায় উৎপাদন ব্যয় ঘরে তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে চাষিদের।
বেগুন চাষি রবিউল ইসলাম বাচ্চু বাংলানিউজকে জানান, প্রতি বিঘা জমিতে স্বাভাবিক নিয়মে এক দিন পর পর ৫ থেকে ৭ মণ হারে বেগুন উত্তোলন করার কথা। অথচ সেখানে প্রতি বিঘাতে মাত্র ২ থেকে ৩ মণ বেগুন পাওয়া যাচ্ছে।
বেগুনের মান নিয়েও সন্তুষ্ট নন চাষিরা। স্বল্প উৎপাদনে চাষিরা এমনিতেই বিপাকে পড়েছে, অন্যদিকে বাজারে কাঙ্খিত মূল্য না পেয়ে চাষিরা রীতিমত হতাশ।
বিরুপ আবহাওয়া ও অতিমাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগে ফলন বিপর্যয় ঘটেছে উল্লেখ করে চাষি আমিনুর রহমান বাবু বাংলানিউজকে জানান, চলতি মওসুমে বেগুনের যে দশা হয়েছে তাতে করে পরবর্তী মওসুমে চাষিরা বেগুন চাষে উৎসাহ দেখাবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বেগুন চাষে প্রতি বিঘায় উৎপাদন খরচ বাবদ কৃষকদের ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। চলতি বাজার মূল্যে উৎপাদিত বেগুন মাত্র ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা মনে বিক্রি হচ্ছে। এতে করে সাকুল্যে উৎপাদন ব্যয়ের অর্ধেকও পাওয়া যাচ্ছেনা বিক্রয় মূল্যে থেকে।
গত মওসুমে মূলাডুলির বেগুন চাষিরা কাঙ্খিত মূল্য না পেয়ে যে বড় ধরণের ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছিলেন চলতি মওসুমে ফলন বিপর্যয়ে সেই লোকসানের ধারা অব্যাহত থাকায় চাষিরা আগামীতে বেগুন চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন বলে জানিয়েছেন অনেক চাষি।
উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ সবজি আড়ত মূলাডুলির আড়তদার ও কৃষক আমিনুর রহমান বাবু বাংলানিউজকে জানান, গত মওসুমে এই সময়ে মূলাডুলি থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০ ট্রাক বেগুন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হতো। ফলন বিপর্যয়ের কারণে সেখানে চলতি মৌসুমে প্রতিদিন মাত্র ৪ থেকে ৫ ট্রাক বেগুন সরবরাহেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, উচ্চ তাপমাত্রা ও উত্তম পরিচর্যার অভাবে চলতি মওসুমে কৃষকরা বেগুনের প্রত্যাশিত ফলন প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তাছাড়া ফলছিদ্রকারী পোকার আক্রমণে প্রচুর পরিমান বেগুন নষ্ট হওয়ায় কাঙ্খিত উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ জন্য অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করে তিনি কৃষকদের সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থাপনা (আইপিএম)’র প্রতি জোর দেওয়ার জন্য পরামর্শ দেন।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিসার মো. খুরশিদ আলম বাংলানিউজকে জানান, ঈশ্বরদীতে এ বছর ৪৪৮ হেক্টর জমিতে বেগুনের আবাদ হয়েছে।
বাংলাদেশ সময় : ০৩২৭ ঘণ্টা, মে ১৫, ২০১২
সেলিম সরদার, সম্পাদনা : শাফিক নেওয়াজ সোহান, নিউজরুম এডিটর/ সুকুমার সরকার, কো-অর্ডিনেশন এডিটর
kumar.sarkerbd@gmail.com