 |
| ছবি : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
সাভার (ঢাকা): সোনালী ব্যাংক থেকে কারসাজি ও জালিয়াতির মাধ্যমে ২৬শ’ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলায় আটক হলমার্কের চেয়ারম্যান, এমডি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) ও জিএমের (মহাব্যবস্থাপক) মুক্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাভারের তেঁতুলঝোড়া এলাকার ভরারী ও নন্দখালী মৌজায় অবস্থিত হলমার্ক গ্রুপের কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
রোববার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ, চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম ও মহাব্যবস্থাপক তুষার আহমেদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
পাশাপাশি হলমার্ক গ্রুপের বন্ধ করা তৈরি পোশাক কারখানাগুলো চালু, ৪০ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান, সোনালী ব্যাংকের সকল দায়-দেনা নিয়মিত করে পুনরায় ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে ২০ বছরের কিস্তিতে ব্যাংকের দায়-দেনা পরিশোধ করার সুযোগ দাবি করেছেন তারা।
সকালে বিশেষ ব্যবস্থায় রাজধানী থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গণমাধ্যম কর্মীদের হলমার্ক স্থাপনায় নেওয়া হয়। সেখানে আপ্যায়নের পর তাদের নিয়ে পরিদর্শন করা হয় হলমার্ক গ্রুপের গরুর খামারসহ বন্ধ কারখানাগুলো।
পরে হলমার্ক মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদের চাচাতো ভাই ও গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক শামীম আল মামুন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘‘প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক পরিবার রক্ষা ও ৫শ’ কোটি টাকার মূল্যবান যন্ত্রপাতিসহ ৫ হাজার ৬শ’ কোটি টাকার সম্পদ সুরক্ষা ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পথ উন্মুক্ত রেখে হলমার্ক গ্রুপের সকল শিল্প কারখানাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্যে কারগারে আটক মালিক ও কর্মকর্তাদের মুক্তির কোনো বিকল্প নেই।’’
বিজিএমইএ ও গণমাধ্যমের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করে বলা হয়, ‘‘হলমার্ক গ্রুপভূক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়-দেনা পরিশোধের লক্ষ্যে সকল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর পরিবারের দুই লাখ সদস্যের জীবন-জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা করা গেলে রফতানির আয় থেকেই ব্যাংকের দায়-দেনা পরিশোধ করা সম্ভব।’’
আর এ সুযোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক হস্তক্ষেপ কামনা করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘‘কারারুদ্ধ হলমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নামে স্থাবর-অস্থাবর এমনকি ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বসবাসের বাড়ি এবং অফিস ও বন্ধকের জন্য সোনালী ব্যাংক হোটেল শেরাটন (বর্তমানে রূপসী বাংলা) শাখায় জমা দেওয়া হয়েছে। ওই জমিতে বাড়িসহ পোশাক শিল্প কারখানা নির্মিত আছে। ব্যাংকের চাহিদা অনুযায়ী দায়-দেনার বিপরীতে প্রয়োজনীয় আরো জমির দলিলপত্র শাখায় জমা দেওয়া হয়েছে।’’
সেই জমি মর্টগেজ (বন্ধক) দেবার জন্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চেয়ারম্যান ও মহাব্যবস্থাপকের জামিনে মুক্তির দাবিও করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ‘‘২০১২ সালের মে মাস থেকে হলমার্ক গ্রুপের ৫০টি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিপুল পরিমাণ রফতানি আদেশ বাতিল হয়েছে। গ্রুপের এক কোটি মার্কিন ডলার মূল্যমানের রফতানি আদেশ আছে।’’
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, ‘‘হলমার্ক গ্রুপের হিসেব অনুযায়ী, ব্যাংকের কাছে শিল্প পরিবারটির আনুমানিক দায়-দেনার পরিমান ২৩শ’ কোটি টাকা। যা নগদ, রফতানি বিল ও বিভিন্ন উৎস থেকে সমন্বয় করা হয়।’’
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘‘সাভারের নন্দখালী মৌজার অতিরিক্ত আরো ১৩শ’ ৪২ শতাংশ জমি বন্ধক দেওয়া হয়। এতে কারখানা ভবন বা কারখানা শেড তৈরি করা আছে, যার সর্বমোট মূল্য প্রায় ৫ হাজার ৬শ’ কোটি টাকা।’’
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘‘বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিজিএমইএ আয়োজিত বাটেক্সপো-২০১১ মেলায় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে শ্রেষ্ঠ শিল্প উদ্যোক্তার পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্ট গ্রহণ করেন হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ। পুরস্কার পাবার পর থেকেই হলমার্ক গ্রুপের সুনাম আরো ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রতিষ্ঠানটি দেশি ও বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণে রফতানি আদেশ পেতে থাকে।’’
‘‘যার কারণে ওয়াল-মার্ট, কে-মার্ট, সিয়ার্ম, ইডিবাওয়ার, জেসিপেনি, লি অ্যান্ড ফাং, ফুট অব দি লুমসহ সুপ্রতিষ্ঠিত ব্রান্ডের কাজ এবং যথাসময়ে তা শিপমেন্ট করার মাধ্যমে ২০১০ ও ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠানটি ৫শ’ কোটি টাকার তৈরি পোশাক রফতানি করা হয়।’’
জালিয়াতির বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলা হয়, ‘‘শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং কারখানাগুলোকে উৎপাদনমূখী ও চলমান রাখার স্বার্থে সোনালী ব্যাংক রূপসী বাংলা (শেরাটন কর্পোরেট) শাখা হলমার্ক গ্রুপকে ঋণসীমার অতিরিক্ত ঋণ বরাদ্দ করে।’’
বাংলাদেশ সময়: ১৫৩০ ঘণ্টা, মার্চ ১৭, ২০১৩
মোঃ ওমর ফারুক/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর- eic@banglanews24.com