১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, শুক্রবার মে ২৪, ২০১৩ ৬:২৪ পিএম BDST banglanew24
04 Jan 2013   10:21:37 PM   Friday BdST
E-mail this

ঐতিহ্যের টানে রমনার পৌষ মেলায় হাজারো মানুষ


আশরাফুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
ঐতিহ্যের টানে রমনার পৌষ মেলায় হাজারো মানুষ

ঢাকা: শীতের পিঠা আর লোকগান আবহমান বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য। আধুনিকতার ডামাঢোলে গা ভাসিয়ে দিলেও বাঙালি কী তা এত সহজে ভুলতে পারে?

এ যে শেকড়ের টান! নগরজীবনে বাস করলেও এর সিংহভাগই তো সেই Ôগাঁ-গেরামÕ থেকেই আমদানি। ছুটির দিন শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি চর্চার পুরোধা প্রাঙ্গণ রমনা বটমূলের পৌষমেলায় যোগ দিতে আসা হাজারো মানুষের ঢল যেন তারই জানান দিলো। শীতের রকমারি পিঠাপুলির সঙ্গে লোকগান, আবৃত্তি, মঞ্চনাটক উপভোগ করার এ উৎসবে শামিল হতে হাড় কাঁপানো শীতেও দ্বিধা করেননি শিশু-বৃদ্ধ কেউই। তবে সবাইকে ছাপিয়ে এ আনন্দযজ্ঞে সামিল হতে পুরনারীদেরকেই এগিয়ে থাকতে দেখা গেলো।

Ôজাগো মানুষের সুপ্তশক্তি, হাটে-মাঠে-ঘাটে-বাঁকে’ এ শ্লোগানকে ধারণ করে ৩ দিনের এ পৌষ মেলার উদ্বোধন হয়েছে শুক্রবারের শিশির সিক্ত সকালে।

পৌষ মেলা উদযাপন পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত এ উৎসবের সূচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উদযাপন পরিষদের সভাপতি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম কুদ্দুছ। আলোচনা পর্বে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায়। পৌষ কথন উপস্থাপন করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ।

শীতের সকালে দর্শনার্থীর সমাগম খুব বেশি না হলেও বিকেল গড়াতে না গড়াতেই দেখা গেলো বটমূল প্রাঙ্গণে তিল ধারণের ঠাঁই নেই।

বিকেল তিনটা থেকে শুরু হওয়া দিনের দ্বিতীয় পর্বের শুরুতে দলীয় সংগীত পরিবেশন করে, সরতীর্থ, আনন্দন, রবিরাগ, দৃষ্টি, ধ্রুব শিশুকিশোর সংগঠন। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে আচিক কালচারাল একাডেমি(গারো সম্প্রদায়) ও মানিকগঞ্জের মহুয়ার পালা ।

একে একে লালন সংগীত, বাউল সংগীত সহ লোকজ নানা গানে দর্শকদের দীর্ঘ সময় মাতিয়ে রাখেন, সমির বাউল, সুমনা দাস, সামিয়া নাজ, কানন বালা সরকার, শান্তা সরকার, তানিয়া মান্নান, আরিফ রহমানসহ আরো অনেকে।

আবৃত্তির মাধ্যমে দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখেন ভাস্কর বন্দোপাধ্যায়, বেলায়েত হোসেন, রবি শংকর মৈত্রীসহ অন্যরা।

শেষ পর্যায়ে  সমবেত দর্শকদের এক অন্য জগতে নিয়ে যায় ময়মনসিংহ গীতিকার চিরন্তন প্রেমের অমর উপাখ্যান মহুয়ার পালা। ব্যস্ত নগর জীবনের সবকিছু ভুলে কিছু সময়ের জন্য যেন সবাই হারিয়ে যান আবহমান বাংলায়!

সন্ধ্যায় বটমূল প্রাঙ্গনের এ পৌষ উৎসবে গিয়ে ৪০টি পিঠার দোকানের সবক’টিতেই দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়। সপরিবারে অনেককেই এখানে দেখা গেছে লাইন দিয়ে পিঠা কিনতে।

ব্যস্ত নগর জীবনে দেশীয় ঐতিহ্যের খাবার পিঠাপুলির স্বাদ ভুলেই গিয়েছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা নাফিস ইফতেখার। জানালেন এ উৎসবে এসে আবার যেন সেই শৈশবেই ফিরে যেতে পেরেছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এখানে এসে শিশুকালের কথা মনে পড়ছে। আমার ছোট্ট ছেলেকেও নিয়ে এসেছি যাতে সে দেশীয় ঐতিহ্যের খাবার খেতে ও চিনতে পারে। কেননা একদিন হয়তো এসব হারিয়েই যাবে।’

উৎসবের লাবণ্য নোয়াখালী পিঠাঘরের কামরুন্নাহার কাকলী বাংলানিউজকে জানান, ‘আমাদের দোকানে প্রায় ২০ রকমের পিঠা তৈরি করছি। এর সবই নোয়াখালী অঞ্চলে তৈরি হয়। এর মধ্যে রয়েছে, ডিম পাকর, সবজি পুরি, ইলিশ পুলি, সরভাজা, মালাই পুলি, ডিম চাপটি, চিতই পিঠা, ভাঁপা পিঠা ইত্যাদি। এতো চাহিদা যে বানিয়ে শেষ করতে পারছি না।’

উৎসব আয়োজক কমিটির সভাপতি গোলাম কুদ্দুস পৌষ মেলা আয়োজনের নানা দিক তুলে ধরেন বাংলানিউজের কাছে। তিনি বলেন, ‘আমরা নগরে বাস করলেও আমাদের অধিকাংশের শেকড়ই গ্রামে। নগরের এ জনগোষ্ঠি গ্রামীণ জীবনের নানা সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাস থেকে বিচ্ছিন্ন আছি। আমাদের ছেলেমেয়েরা নানা ফাস্টফুডে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের নানী-দাদীরা যে কতটা শৈল্পিক সত্ত্বার অধিকারী ছিলেন-আমরা সেই ঐতিহ্যকেই ধারণ করতে চাই।

Ôবাংলাদেশের মানুষ যে অসাম্প্রদায়িক ও উৎসবপ্রিয় জাতি এসব মেলাই তা প্রমাণ করে। এসব উৎসব আমাদের জাতির ঐক্যের মেল বন্ধনকে আরো দৃঢ় করে। যারা সাম্প্রদায়িক মানসিকতা লালন করেন তাদের জন্য এ উৎসব এক ধরণের প্রতিবাদওÕ-যোগ করেন গোলাম কুদ্দুস।

তিনদিন ব্যাপী এ পৌষ উৎসবের দ্বিতীয় দিন শনিবার ও তৃতীয় দিন রোববারও শীতের পিঠাপুলির সঙ্গে অন্যান্য নানা আয়োজনও থাকছে রমনা বটমূল প্রাঙ্গণে।

বাংলাদেশ সময়: ২২১০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৪, ২০১৩
এআই/সম্পাদনা: রাইসুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
VISA Center Inc
Holy Hajj BD
RehabHousing.com

ফিচার

8877
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান